ঢাকা, রবিবার ২৫, অক্টোবর ২০২৬ ৭:৫৪:১৬ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
রাজধানীতে প্রতিদিন গড়ে ভাঙছে প্রায় ৪৪টি সংসার সৌদিতে বাংলাদেশি নারী কর্মীদের সুরক্ষার ব্যবস্থা কতটা আছে মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বাস খাদে,৩জনের প্রাণহানী কমছে না পোলাওর চাল ও আটা-ময়দার দাম ঢাকা-কক্সবাজার রুটে ২৬ অক্টোবর থেকে চলবে মহানগর এক্সপ্রেস তিব্বতে ৭ মাত্রার ভূমিকম্প: নিহত ১৬, আহত অর্ধশতাধিক অপ্রতীম হত্যা মামলার চার্জশিট দাখিল

মায়ের মৃত্যুশোকে প্রাণ হারালেন দুই মেয়ে

নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১২:৩১ পিএম, ১১ নভেম্বর ২০২০ বুধবার

প্রতীকি ছবি

প্রতীকি ছবি

মৃত মাকে দেখতে এসে মুত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন মৃত নারীর দুই মেয়ে। বার্ধক্যজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে মঙ্গলবার সকালে মারা যান পঞ্চমী বেওয়া (৯০)। তার মৃত্যুর খবর পেয়ে স্বজনদের পাশাপাশি স্বামীর বাড়ি থেকে মাকে দেখতে এসেছিলেন তার ছয় মেয়ে। এ সময় মায়ের মৃত্যুশোকে অজ্ঞান হয়ে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই মারা যান পঞ্চমীর ছোট মেয়ে চৈতি রানী (৩০) ও বড় মেয়ে স্বরজনি বালা (৫০)।

চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার চন্দনবাড়ি ইউনিয়নের খলিফাপুর গ্রামে। মারা যাওয়া পঞ্চমী বেওয়া ওই এলাকার প্রয়াত প্রাণ কিশোর বর্মণের স্ত্রী। তিনি ছয় মেয়ে ও দুই ছেলের জননী ছিলেন।

এ ছাড়া মারা যাওয়া বড় মেয়ে স্বরজনি বালা একই উপজেলার সাকোয়া ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া এলাকার সুশীল চন্দ্র রায়ের স্ত্রী এবং ছোট মেয়ে চৈতি রানী ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ফারাবাড়ি এলাকার পলাশ চন্দ্র রায়ের স্ত্রী।

নিহতের পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে চন্দনবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জাকারিয়া হাবিব বলেন, মঙ্গলবার সকালে পঞ্চমী বেওয়া মারা যাওয়ার পর তার ছয় মেয়েই স্বামীর বাড়ি থেকে তাকে দেখতে আসেন। মেয়েরা দিনভর মায়ের জন্য কান্নাকাটি করছিলেন। বিকেলে পঞ্চমীর লাশ বাড়ির পাশের শ্মশানে সৎকার শেষ করে স্বামীর বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় বুকে ব্যথা অনুভব করে অচেতন হয়ে পড়েন সবচেয়ে ছোট মেয়ে চৈতি রানী।

এ সময় পরিবারের লোকজন তাকে মাইক্রোবাসে করে পাশ্ববর্তী ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে নেয়। ওই মাইক্রোবাসে পঞ্চমীর বড় মেয়ে স্বরজনি বালাও ছিল। সেও ছোট বোনকে হাসপাতালে ভর্তি করাতে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে স্বরজনি বালাও অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে ঠাকুরগাওঁ হাসপাতলে নেওয়ার পথে রাত ৮টায় মাইক্রোবাসেই দুই বোনের মুত্যু হয়।

আজ বুধবার দুই বোনকে তাদের স্বামীর বাড়িতে সৎকার করা হয়। তবে মায়ের শোকে দুই বোনের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

মারা যাওয়া পঞ্চমী বেওয়ার নাতি কামিনী কুমার রায় বলেন, ‘এটা একটি মর্মান্তিক ও দুঃখজনক ঘটনা। আমরা অত্যন্ত শোকাহত হয়ে পড়েছি। স্বজনদের কারোই কান্না থামছে না।’

বোদা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.রাজিউর করিম রাজু জানান, অতিরিক্ত শোকে অনেকের হার্ট অ্যাটাকে মুত্যু হয়। এদের মৃত্যুও হার্ট অ্যাটাকে হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।