ঢাকা, শনিবার ১০, অক্টোবর ২০২৬ ৪:৩৬:৪৯ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
শিক্ষার মান উন্নয়নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে: খাদ্যমন্ত্রী কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী হত্যা: চট্টগ্রামে অটোরিকশাচালক গ্রেপ্তার শান্তিতে নোবেল পেলেন অধিকারকর্মী নাভানেথেম পিল্লাই বছরে ৫০০ কোটির বেশি ঘাটতি, ঘুরে দাঁড়াতে পারবে কি ডাক বিভাগ টস হেরে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের মেয়েরা, একাদশে আছেন যারা শিক্ষা সংস্কারের দাবিতে উত্তাল ফ্রান্স, থামছে না বিক্ষোভ সারাদেশে বৃষ্টির আভাস, রাতে তাপমাত্রা কমতে পারে

শিক্ষা সংস্কারের দাবিতে উত্তাল ফ্রান্স, থামছে না বিক্ষোভ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১১:১১ এএম, ৯ অক্টোবর ২০২৬ শুক্রবার

ছবি: সংগ্রহিত।

ছবি: সংগ্রহিত।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ উন্নত করা, শিক্ষকসংকট দূর করা ও শিক্ষা খাতে আরও বিনিয়োগের দাবিতে ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবারের কর্মসূচিতে দেশজুড়ে ৭১ হাজার ৫০০ মানুষ অংশ নিয়েছেন। এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আন্দোলনের চাপে ৩ হাজার অতিরিক্ত শিক্ষক নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। তবে বিভিন্ন শহরে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাজধানী প্যারিসে বিক্ষোভে অংশ নেন ২৪ হাজার ৫০০ মানুষ। সেখানে কর্মসূচির বেশির ভাগ সময় শান্তিপূর্ণ থাকলেও সন্ধ্যায় বিক্ষোভকারীদের কয়েকটি দলের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। এদিন দেশজুড়ে ৫০০ জনের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে।

রাজধানীর বাইরে বোর্দো শহরে একটি পুলিশ স্টেশনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। সাঁ-এতিয়েনে একটি স্কুলে ভাঙচুর করা হয়েছে। তুলুজে এক শিক্ষক বিক্ষোভকারীর হামলায় আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। মার্সেই শহরেও এক শিক্ষকের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনার পাশাপাশি আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতার অভিযোগ তুলেছে সরকার। তবে বিক্ষোভকারীদের একাংশের অভিযোগ, আন্দোলন দমনে পুলিশ অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করছে।

গত ২১ সেপ্টেম্বর প্যারিসের একটি স্কুল থেকে শুরু হওয়া আন্দোলন এখন তৃতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে। উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের শুরু করা এই বিক্ষোভে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোও যোগ দিয়েছে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, অনেক স্কুলের ভবন জরাজীর্ণ, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীর সংখ্যা অতিরিক্ত এবং শীত ও গরমের সময় পাঠদানের পরিবেশ অনুপযোগী হয়ে পড়ে। তাঁদের দাবি, আরও শিক্ষক নিয়োগ, স্কুলের অবকাঠামো সংস্কার, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমানো এবং দীর্ঘ ক্লাসের সময়সূচি পরিবর্তন করতে হবে।

শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে জানিয়েছেন, শিক্ষকসংকটে থাকা স্কুলগুলোতে ৩ হাজার অতিরিক্ত শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। শুক্রবার থেকে মঙ্গলবারের মধ্যে তাঁদের অগ্রাধিকারভিত্তিতে প্রয়োজনীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি আরও কয়েক শ শিক্ষক নিয়োগের অনুমোদন দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ ক্লাসের সময়সূচি পর্যালোচনা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদনপ্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত পারকুরসুপ (Parcoursup) ব্যবস্থার সম্ভাব্য সংস্কার নিয়েও কাজ চলছে।

প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু অক্টোবরের শেষ নাগাদ শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য ও অর্থায়ন নিশ্চিত পদক্ষেপ ঘোষণার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে শিক্ষার্থী নেতারা এই আশ্বাসে সন্তুষ্ট নন। তাঁরা আগামী মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, নতুন করে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ১৭ অক্টোবরও আন্দোলনের কর্মসূচি পালনের আহ্বান ছড়িয়ে পড়েছে।

বিক্ষোভ মোকাবিলায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আন্দোলন চলাকালে এক কিশোরের হাত বিস্ফোরক স্টান গ্রেনেডে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনার পর বুধবার বিক্ষোভ দমনে এসব গ্রেনেডের ব্যবহার স্থগিত করা হয়। মানবাধিকার সংগঠনগুলো পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ তুলেছে। অন্যদিকে, কর্তৃপক্ষ বলছে, আন্দোলনের কিছু অংশে সহিংসতা ছড়িয়েছে এবং পুলিশ সদস্য ও শিক্ষকেরাও হামলার শিকার হয়েছেন।

ফ্রান্সে আগামী বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে বিক্ষোভ ঘিরে রাজনৈতিক বিভাজনও স্পষ্ট হচ্ছে। ডানপন্থী নেতা মেরিন লে পেন বিক্ষোভে স্কুলের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি সামনে এনেছেন এবং সরকারি ব্যয় কমানোর পরিকল্পনার কথা বলেছেন। অন্যদিকে, বামপন্থী নেতা জ্যঁ-লুক মেলঁশোঁ আন্দোলনকারীদের সমর্থন জানিয়েছেন এবং পুলিশের আচরণের সমালোচনা করেছেন।

বিএফএম টিভির জন্য এলাবে পরিচালিত এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, ৭২ শতাংশ ফরাসি নাগরিক শিক্ষার্থীদের দাবিকে যৌক্তিক মনে করেন। তবে ৫৫ শতাংশ মনে করেন, বিক্ষোভ বন্ধ হওয়া উচিত। এতে শিক্ষা সংস্কারের দাবির প্রতি জনসমর্থনের পাশাপাশি আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার পদ্ধতি নিয়েও জনমতের বিভাজন উঠে এসেছে। 

তথ্যসূত্র: রয়টার্স, আল-জাজিরা