ঢাকা, শনিবার ০৩, অক্টোবর ২০২৬ ১২:৩৯:৩৫ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
সবজির দামে আগুন, শিম ২০০ টাকা আজ কিংবদন্তি নৃত্যশিল্পী জিনাত বরকতুল্লাহ`র মৃত্যুবার্ষিকী যশোরে এবার ৭৩৭ মণ্ডপে দুর্গাপূজা, এক মন্দিরেই ১০১ প্রতিমা বঙ্গোপসাগর ঘিরে বাংলাদেশের বড় পরিকল্পনা জানালেন প্রধানমন্ত্রী কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্ষণকাণ্ডে তদন্ত নিয়ে ক্ষুব্ধ গভর্নর ঢাকা সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি রাশেদ, সম্পাদক হুমায়ূন বিডিনিউজের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী মারা গেছেন

কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্ষণকাণ্ডে তদন্ত নিয়ে ক্ষুব্ধ গভর্নর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১০:০৭ এএম, ৩ অক্টোবর ২০২৬ শনিবার

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নারী শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের (ধর্ষণ) অভিযোগের তদন্তে বড় পরিবর্তন এসেছে। নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল রাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমসকে বিশেষ জজ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। ২০২৪ সালের ওই অভিযোগের তদন্ত এখন নতুন করে রাজ্য পর্যায়ে চলছে।


শুক্রবার (২ অক্টোবর) সংবাদ সম্মেলনে হোকুল বলেন, অভিযোগকারী তরুণীকে সুরক্ষা দেওয়ার দায়িত্ব যাদের ছিল, তাদের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি ব্যর্থ হয়েছেন বলে তিনি মনে করেন। বিশেষ করে কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পুলিশ এবং টম্পকিন্স কাউন্টির জেলা জজের কার্যালয়ের ভূমিকা নিয়ে তিনি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।


হোকুল জানান, স্থানীয় জেলা জজ কোনো অভিযোগ দায়ের না করেই তদন্ত বন্ধ করেছিলেন। তার অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট তরুণী বা ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের সাক্ষাৎকারও নেওয়া হয়নি। এমনকি পুলিশের কাছে দেওয়া পুরো বক্তব্যের প্রতিলিপিও চাওয়া হয়নি।


তিনি বলেন, নতুন করে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মামলাটি একজন বিশেষ জজের মাধ্যমে ব্যাপকভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। তার ভাষায়, কোনোভাবেই এই ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে দেওয়া হবে না।

নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস জানান, এটি এখন সক্রিয় ফৌজদারি তদন্ত। তার কার্যালয় ঘটনার তথ্য পর্যালোচনা করবে, প্রমাণ সংগ্রহ করবে এবং সংশ্লিষ্টদের সাক্ষাৎকার নেবে। অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে মামলা করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।


জেমস বলেন, এ ধরনের ব্যাপক তদন্তে সময় লাগবে এবং তদন্ত কয়েক মাস চলতে পারে। তবে পুরো বিষয়টি শেষ পর্যন্ত খতিয়ে দেখার জন্য তার কার্যালয় কাজ করবে।


এর আগে মামলাটি টম্পকিন্স কাউন্টির জেলা জ ম্যাথিউ ভ্যান হাউটেনের অধীনে ছিল। তিনি ২০২৪ সালে অভিযোগের পর মামলা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। পরে ওই তরুণী কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় এবং ছাত্র ভ্রাতৃসংঘের সাত সাবেক সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা করলে নতুন করে তদন্ত শুরু হয়।


ভ্যান হাউটেন এখন জেমসের নিয়োগকে সমর্থন করেছেন। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে তদন্তকারীদের পুরো তথ্য দেওয়া হয়নি বলে এখন পরিষ্কার হয়েছে।


উল্লেখ্য, আদালতের নথিতে ওই তরুণীকে ‘জেন ডো’ নামে উল্লেখ করা হয়েছে। তার অভিযোগ, ২০২৪ সালে কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের চি ফাই ছাত্র ভ্রাতৃসংঘের ভবনে তাকে মাদক ও মদ্যপান করানো হয়। পরে একাধিক ব্যক্তি তার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন, যখন তিনি আংশিক বা পুরোপুরি অচেতন অবস্থায় ছিলেন বলে তার দাবি।


মামলার নথি অনুযায়ী, ভুক্তভোগী দাবি করেছেন, এক পর্যায়ে ছাত্র ভ্রাতৃসংঘের এক সদস্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্য সদস্যদের কাছে বার্তা পাঠিয়ে ঘটনাটি জানান এবং অন্যদের সেখানে আসার আহ্বান জানান।


তবে মামলায় অভিযুক্ত দুই ব্যক্তির আইনজীবীরা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের একজনের দাবি, তার মক্কেল ওই তরুণীকে স্পর্শই করেননি। অন্য অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।


সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের নভেম্বরে ওই তরুণী কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পুলিশের কাছে ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দেন। একটি প্রতিলিপিতে তিনি নিজেকে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে দৃঢ়ভাবে জানান।


কিন্তু জেলা জজের কার্যালয়ে পাঠানো পুলিশের প্রতিবেদনে তার বক্তব্যের গুরুত্বপূর্ণ কিছু অংশ ছিল না বলে গভর্নর হোকুল অভিযোগ করেছেন। এ বিষয়টিও নতুন তদন্তে খতিয়ে দেখা হবে।


ঘটনার পাশাপাশি নিউইয়র্কের যৌন নিপীড়নসংক্রান্ত (ধর্ষণ) আইন পরিবর্তনের পক্ষেও অবস্থান নিয়েছেন হোকুল।


বর্তমান আইনে কোনো ব্যক্তি নিজের ইচ্ছায় মদ বা মাদক গ্রহণ করে পরে এতটাই অসুস্থ বা অচেতন হয়ে পড়লে যে সম্মতি দেওয়ার সক্ষমতা হারান, এমন পরিস্থিতিতে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ প্রমাণ করা কঠিন হতে পারে। হোকুল এই আইনি সীমাবদ্ধতা পরিবর্তনের পক্ষে মত দিয়েছেন।


তিনি বলেন, কেউ নিজের ইচ্ছায় মদ বা মাদক গ্রহণ করলেও যদি পরে যৌন সম্পর্কে সম্মতি দেওয়ার মতো অবস্থায় না থাকেন, তাহলে সেটিকে যৌন নিপীড়নের (ধর্ষণ) অনুমতি হিসেবে দেখা উচিত নয়।


কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনাটি এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ কীভাবে তদন্ত ও মোকাবিলা করা হয়, সে বিষয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।


সূত্র: দ্য অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)