ঢাকা, রবিবার ২৭, সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪:১৩:৫২ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
নেতানিয়াহুর সফরের প্রতিবাদ, অস্কারজয়ী অভিনেত্রী গ্রেফতার একটানা বৃষ্টির কারণে তলিয়ে গেছে ব্যাংকক দেশের বাজারে কমল সোনার দাম মেঘনা নদী থেকে ৩ ভাই-বোনের মরদেহ উদ্ধার জাতিসংঘ সফর শেষে দেশের পথে প্রধানমন্ত্রী বাঙালি কবি এবং নারীবাদী লেখিকা কামিনী রায়ের মৃত্যু দিবস বাংলা সাহিত্যের ১০ নক্ষত্র:যাঁদের সৃষ্টিতে সমৃদ্ধ বাংলাভাষা বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত: প্রধানমন্ত্রী

একটানা বৃষ্টির কারণে তলিয়ে গেছে ব্যাংকক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১২:৪৬ পিএম, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শনিবার

ছবি: সংগ্রহিত।

ছবি: সংগ্রহিত।

টানা ভারী বৃষ্টিতে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের পূর্বাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। নগরীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে পানি জমে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। পরিস্থিতির অবনতিতে নগরীর নং চোক, সুয়ান লুয়াং ও খান না ইয়াও—এই তিন জেলাকে বন্যাদুর্যোগকবলিত ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। এসব জেলার ১৩টি উপ-জেলায় জলাবদ্ধতার কারণে মানুষের চলাচল ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে।

আজ শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল পর্যন্ত ব্যাংককের পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন খাল ও জলাধার পানিতে প্রায় পূর্ণ হয়ে গেছে। বিশেষ করে মিন বুরি, লাত ক্রাবাং ও সাই মাই এলাকায় পানি নিষ্কাশন নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। খালগুলোর ধারণক্ষমতা প্রায় পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় নিচু এলাকার বাসিন্দাদের প্রয়োজনীয় মালামাল ও যানবাহন নিরাপদ ও উঁচু স্থানে সরিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ব্যাংককের গভর্নর চ্যাডচার্ট সিট্টিপুন্ট।

গত ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে বৃষ্টির তীব্রতা বাড়তে থাকে। এর আগে কয়েক দিন ধরে বিচ্ছিন্নভাবে বৃষ্টি হলেও শুক্রবার রাত থেকে পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হয়। ব্যাংককের ওপর সক্রিয় একটি নিম্নচাপ অবস্থান করায় ২৬ ও ২৭ সেপ্টেম্বর ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে থাই আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে মৌসুমি বায়ু শক্তিশালী হওয়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও বন্যা ও জলাবদ্ধতার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ব্যাংককের গভর্নর চ্যাডচার্ট সিট্টিপুন্ট জানিয়েছেন, নিম্নচাপটি বিপুল জলীয়বাষ্প টেনে আনায় রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে বৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে পূর্বাঞ্চলের খালগুলোতে পানির চাপ বেড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় পাম্প ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা সর্বোচ্চ সক্ষমতায় চালানো হচ্ছে। খাল থেকে পানি দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি পানি সংরক্ষণের জন্য বিভিন্ন জলাধারও ব্যবহার করা হচ্ছে।


বন্যার আশঙ্কায় নগরীর নিচু ও খালপাড়ের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকক মেট্রোপলিটন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (বিএমএ) পানি নিষ্কাশনে পাম্প চালানোর পাশাপাশি দুর্গত এলাকায় প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছাতে প্রস্তুতি নিয়েছে। শয্যাশায়ী রোগী ও ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের প্রয়োজনে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

এদিকে শনিবার সকালে বিএমএ’র বন্যা প্রতিরোধ কেন্দ্র কয়েকটি সড়কে পানি বেড়ে যাওয়ায় ছোট যানবাহন চলাচলে সতর্কতা জারি করেছে। সুখুমভিত ৬৩ নম্বর সড়ক, রামখামহেং রোড, লাত ক্রাবাং রোড, সেনা নিকোম ও চ্যাং ওয়াথানা রোডসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পানি জমে যান চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে।

ভারী বৃষ্টিতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও যানবাহন পানিতে আটকে পড়ছে এবং গণপরিবহন চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ প্রয়োজন ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক ব্যবহার না করে বিকল্প পথ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। থাইল্যান্ডের সড়ক কর্তৃপক্ষও ব্যাংককে বন্যার ঝুঁকিতে থাকা একাধিক স্থান সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রেখেছে।

লাত প্রাওসহ কয়েকটি এলাকায় রাস্তায় পানি জমে দুর্ভোগ বেড়েছে। রাজধানীর সুখুমভিত, রামখামহেং, ব্যাং না-ট্রাট, নাওয়ামিন ও চ্যাং ওয়াথানার মতো গুরুত্বপূর্ণ সড়কেও জলাবদ্ধতার খবর পাওয়া গেছে। কিছু এলাকায় পানির উচ্চতা দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল সীমিত হয়ে পড়েছে।

তবে চাও ফ্রায়া নদীর তীরবর্তী প্রধান বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধগুলো এখনো নিরাপদ রয়েছে বলে জানিয়েছেন গভর্নর চ্যাডচার্ট। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নগরীর বড় অংশ এসব বাঁধের সুরক্ষায় রয়েছে এবং নদীর পানি ও বৃষ্টির পানি পৃথকভাবে ব্যবস্থাপনা করা হচ্ছে। ফলে বর্তমানে প্রধান ঝুঁকি তৈরি হয়েছে অতিবৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন নিয়ে।