সংবাদ উপস্থাপিকা হতে চেয়েছিলাম: তাসনুভা তিশা
রাতুল মাঝি | উইমেননিউজ২৪প্রকাশিত : ০৫:২১ পিএম, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শনিবার
অভিনেত্রী তাসনুভা তিশা।
ছোট পর্দার পরিচিত মুখ তাসনুভা তিশা। অভিনয়ের শুরুটা অবশ্য পরিকল্পিত ছিল না। সংবাদ উপস্থাপিকা হওয়ার ইচ্ছা থেকে একসময় ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানো, তারপর ধীরে ধীরে অভিনয়ের জগতে নিজের জায়গা তৈরি করা। আগস্ট ১৪-এর তুশি চরিত্র তাকে নতুনভাবে আলোচনায় আনে। পর্দায় চরিত্রের সঙ্গে নিজেকে মিশিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা এবং ভিন্ন ধরনের গল্পের প্রতি আগ্রহ তাকে দর্শকের কাছে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে। অভিনয়, চরিত্র নির্বাচন, জনপ্রিয়তা, নারী হিসেবে নিজের পথ তৈরি করা এবং ভবিষ্যতের স্বপ্ন নিয়ে কথা বলেছেন অভিনেত্রী তাসনুভা তিশা। তার সাক্ষাৎকার নিয়েছে রাতুল মাঝি।
প্রশ্ন: অভিনয়ে আসার সময় কি কখনো ভেবেছিলেন, এতটা পথ এগিয়ে যাবেন?
তাসনুভা তিশা: একদমই না। আসলে অভিনয়ে আসাটা আমার পরিকল্পনার মধ্যে ছিল না। সংবাদ উপস্থাপিকা হওয়ার ইচ্ছা ছিল। সেখান থেকেই হঠাৎ নাটকে কাজ করার সুযোগ আসে। প্রথমে খুব ছোট একটি চরিত্র করেছিলাম। কিন্তু ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে আমার ভীষণ ভালো লেগেছিল। তখনই মনে হলো, এই জায়গাটাতেই হয়তো আমি নিজেকে খুঁজে পাব।
প্রশ্ন: প্রথম অভিনয়ের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?
তাসনুভা তিশা: আশ্চর্যের বিষয় হলো, প্রথম দিন থেকেই ক্যামেরার সামনে খুব একটা নার্ভাস লাগেনি। বরং একটা অন্যরকম আনন্দ হচ্ছিল। মনে হচ্ছিল, আমি অন্য একজন মানুষ হয়ে কথা বলছি, অন্য একজনের জীবনকে অনুভব করছি। অভিনয়ের এই ব্যাপারটাই আমাকে সবচেয়ে বেশি টানে।
প্রশ্ন: একজন অভিনেত্রীর জন্য সবচেয়ে কঠিন বিষয় কী বলে মনে হয়?
তাসনুভা তিশা: নিজের মধ্যে থেকে চরিত্রটাকে বের করে আনা। শুধু সংলাপ মুখস্থ করে বললেই তো অভিনয় হয় না। চরিত্রটি কী ভাবছে, কেন এমন আচরণ করছে, তার কষ্ট কোথায়—এসব বুঝতে হয়। কখনো কখনো নিজের সঙ্গে চরিত্রের কোনো মিল না থাকলেও তার অনুভূতিটা বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে হয়। এটা কঠিন, আবার খুব আনন্দেরও।
প্রশ্ন: ‘আগস্ট ১৪’-এর তুশি চরিত্রটি আপনার অভিনয়জীবনে বড় একটি বাঁক। চরিত্রটি কীভাবে নিজের মধ্যে ধারণ করেছিলেন?
তাসনুভা তিশা: তুশি আমার জন্য খুব কঠিন একটি চরিত্র ছিল। কারণ আমি তুশির মতো নই। তাই তাকে নিজের মতো করে করার সুযোগ ছিল না। চরিত্রটাকে বুঝতে হয়েছে, তার মানসিক অবস্থার ভেতরে যেতে হয়েছে। শুটিংয়ের সময় আমি চেষ্টা করেছি যতটা সম্ভব তুশির মধ্যে থাকতে। চরিত্রটি নিয়ে পড়াশোনা করেছি, পরিচালকের সঙ্গে অনেক আলোচনা করেছি। দর্শক চরিত্রটিকে গ্রহণ করেছেন—এটাই একজন অভিনেত্রী হিসেবে আমার সবচেয়ে বড় পাওয়া।
প্রশ্ন: জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর নিজের ওপর চাপ বেড়েছে বলে মনে হয়?
তাসনুভা তিশা: অবশ্যই। একটা ভালো কাজ করার পর দর্শকের প্রত্যাশা বেড়ে যায়। তখন মনে হয়, পরের কাজটাও ভালো হতে হবে। তবে আমি শুধু জনপ্রিয় হওয়ার জন্য কাজ করতে চাই না। আমি চাই, কাজটা দেখার পর মানুষ যেন মনে করেন—তিশা চরিত্রটাকে বিশ্বাসযোগ্যভাবে করেছে।
প্রশ্ন: ভাইরাল হওয়া আর ভালো অভিনয়ের স্বীকৃতি—আপনার কাছে দুটো কি এক?
তাসনুভা তিশা: না, একেবারেই না। কোনো কিছু ভাইরাল হয়ে গেলেই সেটা ভালো কাজ—এমনটা আমি মনে করি না। আবার ভালো কাজ সব সময় ভাইরালও হয় না। একজন অভিনেত্রীর জন্য দর্শকের আন্তরিক প্রশংসা অনেক বড় বিষয়। মানুষ যদি চরিত্রটা মনে রাখেন, সেটাই আমার কাছে সাফল্য।
প্রশ্ন: জুটি করে কাজ করার বিষয়ে আপনার অবস্থান কী?
তাসনুভা তিশা: আমি আসলে জুটিপ্রথার মধ্যে নিজেকে আটকে রাখতে চাই না। একজন অভিনেত্রী হিসেবে আমি বিভিন্ন শিল্পীর সঙ্গে কাজ করতে চাই। গল্প ও চরিত্র ভালো হলে সহশিল্পী কে, সেটা আমার কাছে বড় বিষয় নয়।
প্রশ্ন: আরশ খানের সঙ্গে আপনার জুটি দর্শক পছন্দ করেছেন। জুটি হিসেবে কাজ করতে গেলে সবচেয়ে জরুরি কী?
তাসনুভা তিশা: পারস্পরিক বোঝাপড়া। দুজন শিল্পীকে একে অপরকে সম্মান করতে হবে। শুধু পর্দায় ভালো দেখালেই হয় না, কাজের জায়গাতেও স্বস্তি থাকা দরকার। তাহলে অভিনয়ের সময় সেই বোঝাপড়াটা পর্দায়ও চলে আসে।
প্রশ্ন: নারী অভিনেত্রী হিসেবে কাজের জায়গায় কখনো কঠিন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন?
তাসনুভা তিশা: প্রত্যেক মেয়েকেই কোনো না কোনো জায়গায় নিজের জন্য লড়তে হয়। অভিনয়জগতও তার বাইরে নয়। তবে আমি মনে করি, নিজের কাজটা ভালোভাবে করতে পারলে ধীরে ধীরে নিজের জায়গাটা তৈরি করা যায়। আমি সব সময় চেষ্টা করেছি কাজ দিয়ে নিজের পরিচয় তৈরি করতে।
প্রশ্ন: ক্যারিয়ারের শুরুতে এমন কোনো ঘটনা আছে, যা এখনো মনে পড়ে?
তাসনুভা তিশা: অনেক আছে। শুরুতে অনেক সময় সেটে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেছি। তখন মনে হতো, একদিন যদি প্রধান চরিত্র করার সুযোগ পাই, আমি যেন কাউকে ছোট না করি। ওই সময়গুলো আমাকে অনেক কিছু শিখিয়েছে। এখন কাজের জায়গায় সবার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করার চেষ্টা করি। কারণ আমি জানি, একজন নতুন শিল্পীর কাছে একটা ভালো ব্যবহার কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
প্রশ্ন: অভিনয়ের বাইরে তিশা কেমন?
তাসনুভা তিশা: খুব সাধারণ। কাজের বাইরে পরিবার, সন্তান, কাছের মানুষ—এসব নিয়েই আমার পৃথিবী। শুটিংয়ের ব্যস্ততা থাকলেও পরিবারের জন্য সময় বের করার চেষ্টা করি। আসলে যতই ব্যস্ততা থাকুক, দিনের শেষে নিজের মানুষগুলোর কাছেই তো ফিরে যেতে হয়।
প্রশ্ন: নিজের কোন দিকটা দর্শক সবচেয়ে কম জানেন?
তাসনুভা তিশা: আমি হয়তো পর্দায় যতটা আত্মবিশ্বাসী দেখাই, বাস্তবে সব সময় ততটা নই। যেমন অডিশনের সময় আমি নার্ভাস হয়ে যাই। এটা একটু অদ্ভুত ব্যাপার। ক্যামেরার সামনে অভিনয় করতে সমস্যা হয় না, কিন্তু অডিশনে গিয়ে কেন যেন নার্ভাস লাগে।
প্রশ্ন: অভিনয়ের পাশাপাশি সিনেমায় নিয়মিত হওয়ার ইচ্ছা আছে?
তাসনুভা তিশা: ভালো গল্প পেলে অবশ্যই করতে চাই। সিনেমা অনেক বড় একটি মাধ্যম। শুধু সিনেমায় অভিনয় করব—এই কারণে কোনো কাজ করতে চাই না। গল্প, চরিত্র, পরিচালক, পুরো টিম—সবকিছু ভালো লাগতে হবে। তখনই কাজ করতে আগ্রহী হব।
প্রশ্ন: ওটিটিতে আপনার প্রত্যাশা কী?
তাসনুভা তিশা: ওটিটিতে এমন চরিত্র করতে চাই, যেটা আগে করিনি। আগস্ট ১৪-এর পর দর্শকের প্রত্যাশা বেড়েছে, এটা আমি বুঝি। তাই শুধু ওটিটিতে কাজ করার জন্য কাজ করতে চাই না। এমন গল্প ও চরিত্র চাই, যেটা আমাকে অভিনেত্রী হিসেবে আরও চ্যালেঞ্জ করবে।
প্রশ্ন: চরিত্র নির্বাচনের সময় কোন বিষয়টি সবচেয়ে বেশি দেখেন?
তাসনুভা তিশা: প্রথমে গল্প। তারপর চরিত্র। চরিত্রটির ভেতরে কিছু বলার আছে কি না, সেটা দেখি। শুধু নায়িকা হয়ে পর্দায় থাকা আমার কাছে যথেষ্ট নয়। আমি চাই চরিত্রটির একটা জীবন থাকুক, একটা অনুভূতি থাকুক। দর্শক যেন চরিত্রটাকে নিয়ে ভাবেন।
প্রশ্ন: আপনি কি নিজের অভিনয় নিয়ে খুব কঠোর?
তাসনুভা তিশা: হ্যাঁ, অনেক সময়। কাজ শেষ হওয়ার পর নিজের অভিনয় দেখলে মনে হয়, এখানে আরেকটু ভালো করা যেত, ওখানে অন্যভাবে করা যেত। আবার কখনো মনে হয়, হ্যাঁ, এবার ঠিক হয়েছে। একজন অভিনেতার বোধহয় নিজের কাজ নিয়ে এই অসন্তুষ্টিটুকু থাকা দরকার। তাহলে আরও ভালো করার ইচ্ছাটা থাকে।
প্রশ্ন: তিশার সবচেয়ে বড় ভয় কী?
তাসনুভা তিশা: নিজের প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারা। আমি চাই, সময়ের সঙ্গে আরও ভালো অভিনেত্রী হতে। দর্শক যেন বলেন, তিশা আগের চেয়ে ভালো করছে। একই জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকতে চাই না।
প্রশ্ন: জীবনে কোনো অপূর্ণ আফসোস আছে?
তাসনুভা তিশা: কিছু কাজ থাকে, যেগুলো নানা কারণে করা হয়ে ওঠে না। পরে মনে হয়, কাজটা করলে ভালো হতো। এমন আফসোস আমারও আছে। তবে জীবন তো শুধু আফসোস নিয়ে থেমে থাকে না। সামনে আরও অনেক কাজ করার সুযোগ আছে। সেদিকেই তাকাতে চাই।
প্রশ্ন: আগামী দিনের তাসনুভা তিশাকে কোথায় দেখতে চান?
তাসনুভা তিশা: আমি চাই, মানুষ আমাকে শুধু জনপ্রিয় অভিনেত্রী হিসেবে নয়, একজন অভিনেত্রী হিসেবে মনে রাখুক। এমন কিছু চরিত্র করতে চাই, যেগুলো আমার অভিনয়জীবনের সঙ্গে থেকে যাবে। হয়তো সব কাজ সফল হবে না, কিন্তু চেষ্টা থাকবে প্রতিটি কাজ আগের কাজের চেয়ে ভালো করার।
প্রশ্ন: আপনার দর্শকদের জন্য কিছু বলবেন?
তাসনুভা তিশা: দর্শকদের কাছে আমি সত্যিই কৃতজ্ঞ। একজন শিল্পীকে দর্শকই তৈরি করেন। তারা ভালোবাসেন, সমালোচনা করেন, ভুল ধরিয়ে দেন—সবকিছুই একজন শিল্পীকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে। আমি চাই, তারা আমার কাজ দেখুন, ভালো লাগলে ভালোবাসুন, আর খারাপ লাগলে সেটাও বলুন। কারণ তাদের এই ভালোবাসা আর প্রত্যাশাই আমাকে আরও ভালো কাজ করার সাহস দেয়।
- সংবাদ উপস্থাপিকা হতে চেয়েছিলাম: তাসনুভা তিশা
- মায়ের জন্য দোয়া চাইলেন তাসনুভা তিশা
- ৫১ মানুষের দ্বীপে ৩৪ বছর পর নতুন প্রাণের আগমন
- পিসিওএস নিয়ন্ত্রণে রাতে যে ৩ অভ্যাস জরুরি
- এশিয়ান গেমসে টানা দ্বিতীয় জয় পেল বাংলাদেশ হকি দল
- ওয়েবসাইট হ্যাকের চেষ্টা চ্যাটজিপিটির
- এআই ব্যবহার করে ৬৫ বছর বয়সি নারীর প্রতারণার ফাঁদ
- নেতানিয়াহুর সফরের প্রতিবাদ, অস্কারজয়ী অভিনেত্রী গ্রেফতার
- একটানা বৃষ্টির কারণে তলিয়ে গেছে ব্যাংকক
- দেশের ৩ জেলায় ঝড়বৃষ্টির আশঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্কতা
- দেশের বাজারে কমল সোনার দাম
- মেঘনা নদী থেকে ৩ ভাই-বোনের মরদেহ উদ্ধার
- জাতিসংঘ সফর শেষে দেশের পথে প্রধানমন্ত্রী
- বাঙালি কবি কামিনী রায়ের মৃত্যু দিবস আজ
- আজ থেকে শুরু হামের বিশেষ টিকা ক্যাম্পেইন, পাবে ৩৪ লাখ শিশু
- শিক্ষকতা থেকে নেতৃত্বে সেলিনা পলি খানম
- জাতিসংঘ সদর দপ্তরের বাইরে বিক্ষোভ, নারীসহ গ্রেপ্তার অন্তত ৩০
- বাঙালি কবি কামিনী রায়ের মৃত্যু দিবস আজ
- এশিয়ান গেমসে নারী হকিতে বাংলাদেশের প্রথম পয়েন্ট
- রোগ প্রতিরোধে গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ: ডা. জুবাইদা
- ৫১ মানুষের দ্বীপে ৩৪ বছর পর নতুন প্রাণের আগমন
- নারীর বিরুদ্ধে প্রযুক্তিনির্ভর সহিংসতা ঠেকানোর আহ্বান
- রাশিয়ায় ড্রোন হামলায় শিশুসহ আহত ৮
- শর্টবোর্ড সার্ফিংয়ের হিটে ফাতেমা তৃতীয়
- বাংলা সাহিত্যের ১০ নক্ষত্র: যাদের সৃষ্টিতে সমৃদ্ধ বাংলাভাষা
- জামালপুর সদর হাসপাতালের বেহাল দশা
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায় বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী
- ঢাকায় আজও বৃষ্টি, বাড়তে পারে তাপমাত্রা
- দূষিত শহরের শীর্ষে লাহোর, ঢাকা ১৯তম
- ইতালির স্কুলে বোরকা-নিকাব নিষিদ্ধ, বিদেশি কোটা ৩০ ভাগ





