শিশু রাজন হত্যা : আসামি ‘ময়না’ গ্রেফতার এসআই আমিনুল প্রত্যাহার
আপডেট: ০২:২৮ পিএম, ১৫ জুলাই ২০১৫ বুধবার
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, উইমেননিউজ২৪.কম, সিলেট : সিলেটে শিশু রাজন হত্যার মূল হোতা চৌকিদার ময়না ওরফে বড় ময়নাকে আটক করা হয়েছে। প্রত্যাহার করা হয়েছে এসআই আমিনুলকে।
মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে ময়নার পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। সে রাজন হত্যা মামলার ৪নং আসামি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ময়না ঘটনার পর থেকে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার সেমাচন এলাকায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে আত্মগোপনে ছিল। সেখান থেকে মা ও ভাইবোনের সহযোগিতায় কৌশলে বাড়িতে ডেকে আনা হয় এবং পরে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এসময় র্যাব-৯ এর কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে রাজন হত্যার পর তার অভিভাবকদের সাথে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে জালালাবাদ থানার উপ-পরিদর্শক আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে। রাজনের বাবার অভিযোগের প্রেক্ষিতে গতকাল মঙ্গলবার রাতে তাকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।
সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার আমিনুলকে জালালাবাদ থানা থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশনা জারি করেন।
এর আগে মঙ্গলবার অভিযোগ তদন্তে এসএমপি অতিরিক্ত কমিশনার রুকন উদ্দিনকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে প্রতিবেদন জমা দিতে তিন দিন সময় দেওয়া হয়েছে।
ময়না মিয়া সদর উপজেলার টুকেরবাজার ইউনিয়নের পীরপুর গ্রামের মৃত মনা উল্লাহর ছেলে। ২ ভাই, ২ বোনের মধ্যে ময়না সবার বড়।
খবর পেয়ে রাজন হত্যার প্রতিবাদে আন্দোলনরত সিলেট সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইউপি চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিনসহ স্থানীয়রা সেখানে ছুটে যান।
ময়না আটকের খবরে পীরপুর গ্রামে ভিড় করেন স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা। তারা ময়নার ফাঁসি দাবি করেন। আন্দোলন মঞ্চের নেতারা এসময় তাদেরকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। এসময় সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কেও সংক্ষিপ্ত সমাবেশ হয়।
রাত ১১টার দিকে ময়নাকে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ময়না মিয়া গ্রেফতারের বিষয়টি বাসসকে নিশ্চিত করেছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. কামরুল আহসান।
ময়নার শাস্তি চান তার মা : চার ভাই-বোনের মধ্যে ময়না সবার বড়। তাকে আইনের হাতে তুলে দিয়েছেন তার অপরাধের কারণে। অপরাধী হলে ছেলেকে যে শাস্তি দেওয়া হবে সেটি মেনে নিবেন বলে জানান ছমিরুন নেছা।
তিনি বলেন, ‘আমার দুই ছেলে। এক ছেলে অপরাধ করেছে তাই তাকে পুলিশের হাতে তুলে দিচ্ছি। আমার কোন দাবি নাই। ছেলে অপরাধী হলে তাকে শাস্তি দেওয়া হোক।’ তবে পুলিশ যখন ময়না মিয়াকে নিয়ে যাচ্ছিল তখন ময়না মিয়ার মা ও ভাই-বোনদের কান্নায় ভেঙ্গে পড়তে দেখা যায়।
এলাকাবাসীর প্রতিক্রিয়া : এলাকার মুরব্বিরা জানিয়েছেন, রাজন হত্যার ঘটনা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। আমরা ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে বিষয়টি দেখেছি। তাই পঞ্চায়েত কমিটির মিটিং ডেকে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, ময়নাকে যেভাবেই হোক পুলিশের হাতে তুলে দেব।
এলাকার মুরব্বি শাহাব উদ্দিন জানান, ময়নাকে পুলিশের হাতে তুলে দিতে আমরা তার মায়ের সহযোগিতা নিয়েছি। তিনি আমাদের যথেষ্ট সহযেগিতা দিয়েছেন। তার মাধ্যমে আমরা ময়নাকে আনতে সক্ষম হয়েছি।
পীরপুর গ্রামের মিছবাহ উদ্দিন বাসসকে বলেন, ‘এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার জন্য আমরা এলাকাবাসী দেশে-বিদেশে কলঙ্কিত হয়েছি। তাকে (ময়না) পুলিশের কাছে হস্তান্তরের মাধ্যমে আমরা কলঙ্ক থেকে মুক্তি পাওয়ার চেষ্টা করেছি। এটা আমাদের সামাজিক দায়বদ্ধতাও।’
তিনি বলেন, ‘আর কেউ যেন নিষ্পাপ শিশু হত্যার সাহস না পায় সেজন্য আমরা এই দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছি। এ ঘটনার জন্য তার পরিবারও সমাজে মুখ দেখাতে পারছে না।’
রাজনের বাবার কৃতজ্ঞতা : আসামিদের গ্রেফতারের প্রতিক্রিয়ায় শিশু রাজনের বাবা শেখ মো. আজিজুর রহমান আলম প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পুলিশ প্রশাসন, স্থানীয় এলাকাবাসীসহ সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘আসামিরা গ্রেফতার হচ্ছে। এতে আমি খুশি। দেশ ও দেশের বাইরে তার সন্তানের জন্য মানুষ এগিয়ে এসেছে। তারা আমার ছেলের জন্য দুঃখিত হয়েছে এবং আসামিদের প্রতি ঘৃণা জানিয়েছে। এর চেয়ে বড় পাওয়া আমার আর কিছু নেই।’
অন্য আসামিদের গ্রেফতারের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে রাজন হত্যার বিচারের মাধ্যমে এমন দৃষ্টান্ত স্থাপিত হবে যাতে পৃথিবীতে আর কোন মা-বাবার বুক খালি না হয়।’
ময়না চৌকিদারসহ শিশু রাজন হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত মোট ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। দেশের বাইরে সৌদি পুলিশের হেফাজতে রয়েছে অপর আসামি কামরুল।
রাজন হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় এখনো আলী হায়দার ওরফে আলী নামের এজহারভুক্ত এক আসামি পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। এজাহারভুক্ত ছাড়াও সন্দেহভাজন মোট চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গত বুধবার (০৮ জুলাই) বেলা পৌনে ১টার দিকে রাজনকে হত্যার পর মাইক্রোবাসযোগে তার মরদেহ গুমের চেষ্টাকালে মুহিত আলমকে আটক করে পুলিশে দেয় এলাকাবাসি।
এ ব্যাপারে জালালাবাদ থানা পুলিশ বাদি হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় থানার ওসি (তদন্ত) মো. আলমগীর হোসেনকে। মামলায় গ্রেফতার হওয়া মুহিত আলম ছাড়াও অন্য আসামিরা হলেন তার ভাই কামরুল ইসলাম, সহযোগি আলী হায়দার ওরফে আলী ও চৌকিদার ময়না মিয়া ওরফে বড় ময়না।
গত রোববার মুহিতকে ৭দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। সোমবার আদালত ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। ওইদিন (সোমবার) ভোরে গ্রেফতার হওয়া মুহিতের আত্মীয় ইসমাঈলকে আটক করে পুলিশ। মঙ্গলবার তাকেও ৫ দিনের রিমান্ড দেয় আদালত।
এদিকে, রাজন হত্যা মামলায় আটক দুই প্রত্যক্ষদর্শী আজমত উল্লাহ ও ফিরোজ আলী আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। মঙ্গলবার দুপুরে সিলেট মহানগর ১ম হাকিম আদালতের বিচারক শাহেদুল করিমের আদালতে তারা জবানবন্দি দেন। পরে আদালত তাদেরকে জেলহাজতে প্রেরণ করেন। এছাড়া মুহিতের স্ত্রী লুনা বেগমকেও জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
নিহত রাজন কুমারগাঁও বাসস্টেশন সংলগ্ন সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের বাদে আলী গ্রামের মাইক্রোবাস চালক শেখ আজিজুর রহমানের ছেলে। সে অনন্তপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করেছে। বাজারে সবজি বিক্রি করে বাবার টানাপোড়েনের সংসারে সহযোগিতা করত সে।
উল্লেখ্য, শিশু রাজনকে চোর আখ্যা দিয়ে আটক করে ময়না চৌকিদার এবং আসামি মুহিত, কামরুলদের ডেকে এনে নির্যাতন করায়। প্রকাশিত ভিডিও চিত্রে দেখা গেছে, ময়না শিশু রাজনকে খুঁটির সঙ্গে বাঁধা ও নির্যাতনে সহযোগিতা করছে। আটকের পর ময়না শিশুটিকে নির্যাতনের কথা স্বীকার করেছে।
১৫.০৭.২০১৫
- চট্টগ্রামে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস পুকুরে, শিক্ষিকাসহ নিহত ২
- প্রতিবাদ প্রতিরোধে আজো প্রাসঙ্গিক নজরুল
- জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী
- মশলাদার এবং সুস্বাদু চিকেন কষার রেসিপি
- টোল ছাড়াই এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহারের সুযোগ আজ
- জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
- আজ ৭ নভেম্বর: ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’
- আইসিসির মাসসেরা খেলোয়াড়ের তালিকায় বাংলাদেশের সোবহানা
- স্নাতক পাশেই ব্যাংকে চাকরি
- তাপমাত্রা কমার পূর্বাভাস দিল আবহাওয়া অফিস
- সংসদ ভবন এলাকায় সব ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ
- মুক্তি পেলেন কিউবার সাংবাদিক ইয়োয়ানি সানচেজ
- রমজানের আগেই বাড়ছে ছোলার দাম, কাটছে না সয়াবিন তেলের সংকট
- মার্কিন ফার্স্ট লেডিকে ইউক্রেনের বেসামরিক সম্মাননা প্রদান
- ফের গ্রেফতার নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেত্রী উর্মি
- স্নাতক পাশেই ব্যাংকে চাকরি
- কাছের মানুষের ছোট ছোট অবহেলা কেন বেশি কষ্ট দেয়?
- ফের গ্রেফতার নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেত্রী উর্মি
- গার্হস্থ্য অর্থনীতির অধ্যক্ষের অপসারণ দাবিতে উত্তাল ক্যাম্পাস
- তিন দফা বাড়ার পর কমল স্বর্ণের দাম
- সংসদ ভবন এলাকায় সব ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ
- মুক্তি পেলেন কিউবার সাংবাদিক ইয়োয়ানি সানচেজ
- মধ্যরাতে চিত্রনায়িকা পরীমনির রহস্যময় পোস্ট
- রমজানের আগেই বাড়ছে ছোলার দাম, কাটছে না সয়াবিন তেলের সংকট
- আজ ৭ নভেম্বর: ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’
- মার্কিন ফার্স্ট লেডিকে ইউক্রেনের বেসামরিক সম্মাননা প্রদান
- তাপমাত্রা কমার পূর্বাভাস দিল আবহাওয়া অফিস
- জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
- মশলাদার এবং সুস্বাদু চিকেন কষার রেসিপি
- জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী










