ঢাকা, সোমবার ১৬, মার্চ ২০২৬ ২:৩১:৩৪ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
জমে উঠেছে শেষ সময়ের ঈদ বাজার শেষ হলো বইমেলা; ১৭ দিনে বিক্রি ১৭ কোটি টাকা ওমরাহ ভিসার সময়সীমা নির্ধারণ করল সৌদি আরব জাবি শিক্ষার্থী খুন, পুলিশ হেফাজতে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী ৪২ জেলা পরিষদে নতুন প্রশাসক নিয়োগ লাইলাতুল কদর উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বলিউডের আশির দশকের জনপ্রিয় অভিনেত্রী মধু মালহোত্রা মারা গেছেন দেশে ভোজ্য তেলের কোনো সংকট নেই : বাণিজ্যমন্ত্রী

শোনা যায় ‘হাফ উইডো’দের আর্তনাদ

অনলাইন ডেস্ক | উইমেননিউজ২৪.কম

আপডেট: ১০:৫৬ এএম, ১৩ মে ২০১৮ রবিবার

জম্মু-কাশ্মীরের শ্রীনগর, ফেকাসে চোখে জানলার দিকে তাকিয়ে থাকেন বেগম জান৷ গায়ের চামড়ায় বয়সের ছাপ স্পষ্ট। কোনো রোজগার নেই। এক বেলা খেয়ে-না খেয়ে দিন কেটে যায় কোনো রকমে৷ সন্তানের ভবিষ্যত নিয়ে ভাবনাটাও বেগমের কাছে বিলাসীতা৷

 

স্বামী মানিয়া তানচাকে সেই যে সেনারা ধরে নিয়ে যায়, আজও মেলেনি খোঁজ৷ মানিয়ার দোষ জানা নেই, জঙ্গি সন্দেহেই নাকি সেদিনের ধরপাকড়৷ কোথায় মানিয়া? আদৌ কি বেঁচে আছে সে? না কি পলাতক? কিচ্ছু জানেন না বেগম৷ দিন মজুরি করে সে ক্লান্ত৷ খালি থালা-বাসনের শব্দে চিন্তার অতলে হাফ উইডো বেগম৷

 

স্বামী নিখোঁজের উত্তর খুঁজছিলেন দিলশাদ শেখও৷ সালটা ১৯৯২, ঈদ উপলক্ষে ছেলে মেয়েদের জন্য জামা-কাপড় কিনতে যান স্বামী বসির আহমেদ শেখ৷ পেশায় চিত্রকর বসির আর ফেরেননি৷ কেন ফিরলেন না বসির? ২৪ বছর পরও উত্তর খুঁজে পাননি দিলশাদ৷ শোনা যায়, ৯২-র ঈদে লাল চকে গোলাগুলি চলছিল, বসির ভয়ে একটি বাড়িতে ঢুকে পড়েন৷ সেখান থেকে তাকে টেনে বার করে ভারতীয় সেনা, উঠিয়ে নেয় গাড়িতে৷ ব্যাস ওইটুকুই জানতে পারেন দিলশাদ৷ গভীর শোকেই ২০১৬-র ৩১ মার্চ মৃত্যু হয় হাফ উইডো দিলশাদের৷



এখনও দরজায় কে যেন খট খট করে৷ শুনতে পান জুনা বেগম৷ দরজা খুলতেই বুঝতে পারেন আজও ভুল করে ফেলেছেন৷ দরজার ওদিকে নেই তার স্বামী৷ ৯২-র ধরপাকড়ে জুনার স্বামী মহম্মদ আবদুল্লা দারকে তুলে নিয়ে যায় সেনাবাহিনী৷ তোলার সময়ই আবদুল্লাকে বেধড়ক মারা হয়৷ ওইটুকুই শেষ স্মৃতি৷

 

বেগম জান, জুনাদের সংখ্যাটা আজও গুনে উঠতে পারেনি প্রশাসন৷ উপত্যকার প্রত্যন্ত গ্রামগুলিতে হাফ উইডোদের চাপা যন্ত্রণা দেখতে পায় না শাসকগোষ্ঠী৷ শাসকের আসনে যে দলই থাকুক হাফ উইডোদের প্রসঙ্গই ওঠে না উন্নয়নের খাতায়৷ কপালে জোটে শুধু সেনার রক্ত চোখের রাঙানি৷

 

বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবি সংস্থার সমীক্ষা বলছে, জম্মু-কাশ্মীরে হাফ উইডোদের মধ্যে ৯৮ শতাংশের রোজগার প্রতি মাসে মাত্র ৪ হাজার টাকা৷ ৬৫ শতাংশের ঘর বাড়ি ভাঙা, নেই শৌচালয়৷ তারপর রক্ষকদের নানাপ্রকারের হেনস্থা লেগেই আছে৷ স্বামী মৃত প্রমাণিত না হলে কোনও রকম ক্ষতিপূরণও পাবেন না তারা৷ এমনকি পাবেন না স্বামীর সম্পত্তির ১/৮ অংশও৷

 

প্রতি মাসের ১০ তারিখে শ্রীনগরের প্রতাপ চকে জমায়েত হন এই অলিখিত বিধবারা৷ হাতে প্ল্যাকার্ড, লেখা- ‘আমাদের ভালোবাসার মানুষটি কোথায়? ’নেই উত্তর, নেই উত্তাপ৷ জমায়েতের প্রত্যেকেই সত্যিটা জানেন, তাও আশায় বাঁচেন দিলশাদরা৷ যেমন তিরের খোঁজে বয়ে চলে ঝিলম৷

(সূত্র : বিদেশী পত্রিকা)