ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৩, জুলাই ২০২৬ ৮:৩৪:০৬ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
জামায়াত এমপির ভিডিওকাণ্ড: তদন্ত দাবি তাসনিম জারার সবজির দামে সেঞ্চুরি, কাঁচা মরিচের কেজি ২৪০ টাকা ছাড়াল তিস্তার পানি বেড়ে বিপৎসীমার ছুঁই ছুঁই তনু হত্যা মামলায় আরও দুই সন্দেহভাজনের ডিএনএ সংগ্রহের নির্দেশ রাহুল-প্রিয়াঙ্কা আটকের ২ ঘণ্টা পর মুক্ত গৌরনদীতে আবাসিক মাদ্রাসা ভবনে ঝুলছিল ছাত্রীর লাশ

স্কুলগুলোর সামনে অস্বাস্থ্যকর খাবারের পসরা: খোলা খাবার খেয়ে রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা

আপডেট: ০৭:৪৮ এএম, ১৭ নভেম্বর ২০১৩ রবিবার

Open Foodসুমন মাহমুদ, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, উইমেননিউজ২৪.কম ঢাকা : আরেফিন জনি রাজধানীর একটি স্বনামধন্য স্কুলে ক্লাস সেভেনে পড়ে৷ বাসা থেকে টিফিন নিয়ে যাওয়ার পরও প্রতিদিন স্কুল গেটে বিক্রি করা আচার, বুট ভুনা ও ঝালমুড়ি কিনে খায় সে৷ বাসায় ফিরে রাতে ওর ভীষণ পেট ব্যথা করে৷ তাই মায়ের নির্দেশ স্কুল গেটের এসব খাবার খাওয়া যাবে না৷ তারপরও সে গোপনে এসব খাবার খায়৷ জনি বলে, 'আমি জানি এসব খাবার খাওয়া ঠিক হচ্ছে না; কিন্তু খাবারগুলো খুব মজা তাই খেয়ে ফেলি৷ বন্ধুদের দেখে আমারও খেতে ইচ্ছে করে৷ শুধু জনি নয়, স্কুলের সামনে বসা ফেরিওয়ালার কাছ থেকে প্রতিদিন এ ধরণের খাবার কিনে খাচ্ছে হাজার হাজার ছেলে-মেয়ে৷ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার স্কুলগুলোর সামনে নিয়মিত দেখা যায় খোলা অস্বাস্থ্যকর খাবারের পসরা সাজিয়ে বসে আছে দোকানীরা৷ বিভিন্ন রকম আচার, আমসত্ব, ঝাল মুড়ি, চানাচুর, কাসুন্দি মেশানো আমড়া, পেয়ারা, কাচা আম, চটপটিসহ বিভিন্ন অস্বাস্থ্যকর খাবার বিক্রি করা হচ্ছে প্রতিনিয়মিত৷ খোলা অবস্থায় রাখা এসব খাবারের ওপর মাছি ভনভন করছে৷ পরছে রাস্তার ধুলো-বালি৷ নিতান্তই মুখরোচক হওয়ার কারণে শখের বসে অধিকাংশ ছাত্র-ছাত্রী স্কুলের ফাঁকে আচার, ঝালমুড়িসহ অস্বাস্থ্যকর এসব খাবার খাচ্ছে৷ ফলে নিজের অজান্তেই তারা আক্রান্ত হচ্ছে নানারকম জটিল রোগে৷ চিকিত্‍সকরা বলছেন, এ ধরনের খোলা খাবার খেয়ে পেটের পীড়া, পেটের প্রদাহ, ক্ষুধামন্দা, এন্টিফিভার, জন্ডিস, হেপাটাইটিসসহ মারাত্নক সব রোগে আক্রান্ত হচ্ছে কোমলমতি শিশুরা৷ শিশু বিশেষজ্ঞ গোলঅম সারোয়ার বলেন, , 'দেশের শতকরা ৫০ ভাগ রোগীই মূলত পেটের প্রদাহ, ক্ষুধামন্দা, জন্ডিস ইত্যাদি রোগে ভোগে৷ এসব রোগ মূলত অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার কারণেই হয়ে থাকে৷ আর শিশুরা এসব খাবার খেয়ে রোগে আক্রান্ত হয় দ্রুত৷' এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনষ্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক সাগরময় বড়ূয়া বলেন, 'রাস্তার পাশে যেসব খোলা খাবার বিক্রি হয় তার মাইক্রোবায়োলজিক্যার ভ্যালু রীতিমত ভয়ঙ্কর৷ যে পরিবেশে খাবার রান্না কিংবা তৈরি করা হয়, তা বেশির ভাগ সময়ই নোংরা অস্বাস্থ্যকর থাকে৷ তাছাড়া এসব খাবার বিশেষ করে আচার বা এ ধরনের খাবারে যে সব রঙ মেশানো হয় তা ফুডগ্রেডের নয়৷ এসব রঙ কাপড়ে ব্যবহার করা হয়৷ এই রঙ মানব দেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর৷ কিছু কিছু রঙের কারণে ক্যান্সার হয়৷ এই রঙ কিডনী ও লিভার নষ্ট করে দেয়৷ পর্যাপ্ত হিটিং সিষ্টেমে রান্না না করার কারণে খাবরগুলোতে প্রচুর জীবাণু থাকে যা মানব দেহের জন্য ক্ষতিকর৷ এসব খাবার খেয়েই শিশুরা অসুস্থ্য হয়ে পড়ছে৷ এ ব্যাপারে বাবা-মাকে সচেতন হতে হবে৷' এ প্রসঙ্গে ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মঞ্জুআরা বেগম বলেন, 'স্কুলের সামনে বসা এই খাবারগুলো অস্বাস্থ্যকর; কিন্তু শিশুদের এসব খাবার খেতে খুব আগ্রহী৷ এসব খাবার বিক্রি করা বন্ধ করা দরকার৷ তিনি বলেন, রমনা থানার ওসিকে বলে আমরা বেশ কয়েকবার গেট থেকে এসব খোলা খাবার দোকান উচ্ছেদ করার চেষ্টা করেছি৷ কিন্তু কয়েকদিন যেতে না যেতেই দোকানীরা আবার এসে বসে৷ অনেক চেষ্টা করেও আমরা এসব বিক্রেতাদের তুলতে পারছি না৷ এ ব্যাপারে প্রশাসনের সহায়তা প্রয়োজন৷ পুলিশ প্রশাসন বিষয়টি যদি দেখে তাহলে সহজেই ঢাকার প্রতিটি স্কুলের সামনে থেকে দোকানগুলো উচ্ছেদ করা সম্ভব৷' এদিকে ঢাকা সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা কর্ণেল শওকত আলী জানান, স্কুলের সামনে এধরনের খোলা খাবার বিক্রি করা বেআইনী৷ তিনি বলেন, 'রাস্তাঘাটে খোলা, পচা, বাসি, অস্বাস্থ্যকর খাবার বিক্রি শাস্তিমূলক অপরাধ৷ বাংলাদেশ বিশুদ্ধ খাদ্য অধ্যাদেশ ১৯৫৯ সালের সংশোধিত ২০০৫ অনুযায়ী স্পটে গিয়ে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হয়৷ যেমন : ধারা ২৩ অনুযায়ী পচা-বাসি খাবার বিক্রি করলে শাস্তি দেয়া হয়৷ ধারা ২৪-এ আছে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার পরিবেশনের জন্যও শাস্তি দেয়া হয়৷ সমস্যা কতটা গুরুতর তা স্পটে গিয়ে বোঝা যায় এবং তখন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়৷' তিনি আরো জানান, ২০০৩ সালের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত আড়াই হাজারেরও বেশি মামলা হয়েছে৷ সেই সঙ্গে স্পটে গিয়ে জরিমানা করা হয়েছে৷ খাদ্যের মান নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে ডিসিসি জোরালোভাবে কাজ করে যাচ্ছে৷ তিনি বলেন, রাস্তাঘাট ভ্রাম্যমাণ অবস্থায় যেসব বিক্রেতা খাবার বিক্রি করে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব না৷ কারণ এ ক্ষেত্রে হাতেনাতে ধরতে পারলে মালামাল ফেলে দেয়া, বকা দেয়া ছাড়া কোনা উপায় থাকে না৷ তবে এ ক্ষেত্রে জনসচেতনতাটা খুব জরুরি৷' বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রাস্তার পাশে খোলা খাবার বিক্রি ও কেনা বন্ধ করতে হলে প্রতিটি মানুষকে ব্যক্তিগত ভাবে সচেতন হওয়া দরকার৷ শিশুদের বেলায় বাবা-মাকে এ ব্যাপারে ভূমিকা রাখতে হবে সবচেয়ে আগে৷ তাছাড়া স্কুল গেটে কেউ যেন খোলা খাবার বিক্রি করতে না পারে সেদিকে স্কুল কর্তৃপক্ষকে নজর দিতে হবে৷ ১৬ নভেম্বর'২০১৩