হারিয়ে যাচ্ছে দেশের শতাব্দী প্রাচীন তামা-কাঁসা শিল্প
অনলাইন ডেস্ক | উইমেননিউজ২৪প্রকাশিত : ০৮:১৮ পিএম, ২৯ জুন ২০২৫ রবিবার
হারিয়ে যাচ্ছে দেশের শতাব্দী প্রাচীন তামা-কাঁসা শিল্প
বাঙালির সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এক গৌরবময় অনুষঙ্গ ছিল তামা, কাঁসা ও পিতলের তৈজসপত্র। রান্নাবান্না, পরিবেশন, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান কিংবা পানীয় সংরক্ষণসহ প্রতিটি ঘরোয়া প্রয়োজনে এসব ধাতব পণ্যের ব্যবহার ছিল অবিচ্ছেদ্য।
দেশের অন্যান্য জেলার মতো লালমনিরহাটেও এসব তৈজসপত্র এক সময় ছিল প্রতিটি পরিবারের নিত্যসঙ্গী। তবে আধুনিকতা ও সস্তা বিকল্প পণ্যের দাপটে আজ বিলুপ্তির পথে এই ঐতিহ্যবাহী তামা ও কাঁসা শিল্প।
বাঙালির নিত্যদিনের তৈজসপত্র হিসেবে তামা-কাঁসার ব্যবহার কমলেও অভিজাত সনাতন ধর্মাবলম্বীরা কাসার থালায় খাবার পরিবেশনকে আতিথেয়তার অপরিহার্য অংশ হিসেবে মানেন। তাদের ব্যবহৃত তামা, কাঁসা ও পিতলের তৈজসপত্রের রয়েছে বৈচিত্র্যপূর্ণ নাম ও নকশা। যেমন; থালায় কাস্তেশ্বরী, রাজভোগী; জগে কৃষ্ণচূড়া, ময়ুর আঁধার; বাটিতে রামভোগী, গোলবাটি; আর চামচে বোয়াল মুখী, চাপিলামুখী ইত্যাদি। এছাড়াও পূজা-অর্চনায় ব্যবহৃত মঙ্গল প্রদীপ, মঙ্গলঘট ও কাসার বাদ্যযন্ত্র এক সময় অনেক জনপ্রিয় ছিল।
জানা যায়, এ উপমহাদেশে তামা-কাঁসা শিল্পের শুরু মোগল আমলের বহু আগেই। মোগল শাসনামলে এ অঞ্চলের কারুশিল্পে ব্যাপক উন্নতি ঘটে এবং অস্ত্র থেকে শুরু করে নিত্যপণ্যে এর ব্যবহার বাড়ে। ব্রিটিশ শাসনামলে কারুকার্যখচিত থালা-বাটি, সুরাই, প্রদীপ ঘরে ঘরে রুচির প্রতীক হয়ে ওঠে। আর এ দেশে এই শিল্পের প্রধান উৎপাদন কেন্দ্র ছিল ঢাকার ধামরাই।
তবে এখন এই ঐতিহ্য রক্ষা করা বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সস্তা বিকল্প পণ্যের সহজলভ্যতা, দক্ষ কারিগরের অভাব, নতুন প্রজন্মের অনাগ্রহ, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার ঘাটতি, কাঁচামালের সংকট এবং দুর্বল বিপণন ব্যবস্থাই এই শিল্পের অবনতির প্রধান কারণ।
লালমনিরহাট জেলা শহর ও উপজেলা পর্যায়ের বড় বাজারগুলো ঘুরে দেখা যায়, হাতে গোনা কয়েকটি দোকানে কাঁসা-পিতলের পণ্য বিক্রি হলেও সেগুলো বেশিরভাগ সময়ই বন্ধ থাকে। খোলা দোকানগুলোতেও আগের মতো ক্রেতার ভিড় নেই।
দোকানিদের কাছ থেকে দেব-দেবীর মূর্তি ও অন্যান্য পণ্যের দাম জানতে চাইলে তারা বলেন, বড় আকারের দেবদেবীর মূর্তির দাম ১ থেকে ৩ লাখ টাকা, রাধাকৃষ্ণ মূর্তির দাম ২০ থেকে ৮০ হাজার এবং ছোট তৈজসপত্র ১৫০ টাকা থেকে শুরু করে লাখ টাকা পর্যন্ত। অনেক সময় ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ীও এসব পণ্য সরবরাহ করা হয়।
জেলা সদরের বড়বাড়ী হাটের ব্যবসায়ী জ্ঞানেন্দ্র নাথ রায় বলেন, ‘আগে অনুষ্ঠান কিংবা বিয়েতে উপহার হিসেবে এসব জিনিসের কদর ছিল। হিন্দু-মুসলমান সবাই কিনতেন। এখন বিক্রি নেই বললেই চলে।’
প্রবীণ ক্রেতা চন্দ্র ঠাকুর বলেন, ‘পারিবারিক রীতির কারণে কিছু কিছু কিনতে হয়। কিন্তু দাম এত বেশি যে কেনা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। বাসায় রাখলেও চুরি হয়ে যাওয়ার ভয় থাকে।’
গৌর নিতাই ভাণ্ডার-এর তত্ত্বাবধায়ক বিপ্লব রায় বলেন, ‘গত ১৫ বছরে কাঁসা-পিতলের দাম বেড়েছে প্রায় ১৪ গুণ। বাজার প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে।’
তামা-কাসার ব্যবসায়ী তাপস রঞ্জন বণিক বলেন, ‘একসময় এটি আমাদের পারিবারিক ঐতিহ্য ছিল। এখন মানুষ শুধু সস্তা পণ্যের দিকে ঝুঁকছে। অথচ তামা-কাসার পাত্রে পানাহার করা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। এই বিশ্বাস একসময় খুবই প্রচলিত ছিল।’
রংপুর পুলিশ লাইন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী অধ্যাপক ও সংস্কৃতি গবেষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘বাঙালির সংস্কৃতি ও জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত এই শিল্প আজ বিলুপ্তির পথে। মূল্যবৃদ্ধি ও সস্তা বিকল্পের কারণে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। এই ঐতিহ্যকে রক্ষা করতে হলে প্রয়োজন আধুনিকায়ন, সুলভ মূল্য ও কার্যকর সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা।’
ব্যবসায়ীদের মতে, কাঁসা-পিতলের ঐতিহ্য রক্ষায় এসব পণ্যের উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য প্রয়োজন সরকারি নীতিগত সহায়তা, স্বল্প সুদে ঋণ, কারিগরি প্রশিক্ষণ ও আধুনিক বিপণন ব্যবস্থা। অন্যথায় সময়ের সঙ্গে হারিয়ে যেতে পারে বাঙালির শতাব্দী প্রাচীন এই ঐতিহ্য।
- সারা দেশে অবাধে শিকার ও বিক্রি হচ্ছে শীতের পাখি
- পরোয়ানার ২ ঘণ্টার মধ্যে জামিন সিমিন রহমানের
- ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপে এখন পর্যন্ত ১৩ লাখ নিবন্ধন
- দুবাইয়ে তৈরি হচ্ছে বিশ্বের প্রথম ‘স্বর্ণের রাস্তা’
- ‘কিছুই পাল্টায়নি, এখনও মেয়েদের হেনস্তা করা হচ্ছে’
- মেয়েদের টানা জয়ের প্রভাব পড়েছে আইসিসি র্যাঙ্কিংয়ে
- স্কুল জীবনের বন্ধুত্ব ভাঙলেন সাইফ কন্যা
- ঋতুপর্ণার হ্যাটট্রিকে ১৩-০ গোলের জয়
- নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই: পাপিয়া
- ৪০ হাজার কোটির রাজস্ব হলেও ক্ষতি ৮৭ হাজার কোটি
- গণভোট নিয়ে কারিগরি-মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের ৮ উদ্যোগ
- সাবস্ক্রিপশন পরীক্ষা করবে মেটা
- আয়রনের ঘাটতি, যে কারণে শুধু সাপ্লিমেন্ট যথেষ্ট নয়
- নারী, সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা বিষয়ে ১০ দফা সুপারিশ
- প্রধান উপদেষ্টার কাছে কর কাঠামো পুনর্বিন্যাসের সুপারিশ
- নতুন বছরে বাজারে এলো ৪ ডিভাইস
- আজ মেঘলা থাকবে রাজধানী ঢাকার আকাশ
- দেশের নারী ভোটার: ৬.২৮ কোটি, মোট ভোটারের অর্ধেক
- নির্বাচনকালীন ৬ দিন স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ সতর্কতা
- আয়ারল্যান্ডকে হারিয়ে ইতিহাস গড়ল ইতালি
- ‘বাড়ি এসে তো দেখবে ছেলে-বউয়ের কবর’
- মাস্টার্স শেষ পর্ব পরীক্ষার ফরম জমার সময় বাড়ল
- ভোটের মাঠে তাসনিম জারার নতুন প্রচার কৌশল
- গণভোটে ‘হ্যা’র পক্ষে প্রচারণার নির্দেশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের
- সারাদেশে প্রচারণার উৎসব
- ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবি, নিহত অন্তত ৫০
- একটি পক্ষ নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে: তারেক রহমান
- শাকিবের বাবা হওয়ার গুঞ্জনে যা বললেন অপু বিশ্বাস
- পোস্টাল ভোট কী, কারা দিতে পারবেন এবং যেভাবে আবেদন করবেন
- খৈ খৈ মারমাকে বাড়ি দিচ্ছে জেলা প্রশাসন


