ঢাকা, রবিবার ২৯, মার্চ ২০২৬ ১৮:৩৯:১৬ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
টিউলিপকে আদালতে হাজির হতে গেজেট প্রকাশের নির্দেশ ১১ জেলার ডিসি প্রত্যাহার, নতুন ডিসি নিয়োগ কর কর্মকর্তা তানজিনা সাময়িক বরখাস্ত পর্যটন খাত উন্নয়নে বাংলাদেশ-নেপাল যৌথভাবে কাজ করবে বিশ্ববাজারের প্রভাব, দোলাচলে সোনার দাম ইরানে একদিনে সর্বোচ্চ হামলার রেকর্ড

অন্ধকারে ছোট্ট আলো, জোনাকির রহস্যময় জগৎ

জোসেফ সরকার | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০১:৩৯ পিএম, ২৯ মার্চ ২০২৬ রবিবার

ফাইল ছবি।

ফাইল ছবি।

গভীর রাত। চারদিক জুড়ে নীরবতা। হঠাৎ ঝোপঝাড়ের ভেতর থেকে জ্বলে ওঠে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র আলো—মনে হয় যেন আকাশের তারা নেমে এসেছে মাটিতে। এই মায়াবী আলোর নামই জোনাকি। ছোট্ট এই পোকাটির ভেতরে লুকিয়ে আছে এক বিস্ময়কর বৈজ্ঞানিক রহস্য, যা মানুষকে যুগ যুগ ধরে মুগ্ধ করে রেখেছে।

জোনাকি আসলে এক ধরনের পোকা, ইংরেজিতে যাকে বলে firefly বা lightning bug। বৈজ্ঞানিকভাবে এটি বিটল বা গুবরে পোকার একটি প্রজাতি। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে, বিশেষ করে উষ্ণ ও আর্দ্র অঞ্চলে—বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ায়—জোনাকির দেখা মেলে বেশি।

জোনাকির আলো কোথা থেকে আসে: 
জোনাকির সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো তার শরীর থেকে বের হওয়া আলো। কিন্তু এই আলো কি আগুন? না, একদমই না। এটি একটি রাসায়নিক প্রক্রিয়ার ফল, যার নাম জৈব-আলোকস্ফুরণ (Bioluminescence)।

জোনাকির দেহে লুসিফেরিন (luciferin) নামে একটি বিশেষ রাসায়নিক পদার্থ থাকে। যখন এই লুসিফেরিন অক্সিজেন এবং লুসিফেরেজ (luciferase) নামের একটি এনজাইমের সঙ্গে বিক্রিয়া করে, তখন শক্তি উৎপন্ন হয়। এই শক্তিই আলো হিসেবে বেরিয়ে আসে।

এই প্রক্রিয়াটি এতটাই নিখুঁত যে এতে তাপ প্রায় তৈরি হয় না। তাই জোনাকির আলোকে বলা হয় “ঠান্ডা আলো”—যেখানে শক্তির অপচয় খুবই কম।

কেন জোনাকি জ্বলে:
জোনাকির আলো শুধু সৌন্দর্যের জন্য নয়, এর পেছনে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ কিছু কারণ—

সঙ্গী খোঁজা: পুরুষ ও স্ত্রী জোনাকি একে অপরকে খুঁজে পেতে আলোর সংকেত ব্যবহার করে।
শত্রু থেকে বাঁচা: কিছু জোনাকি তাদের আলো দিয়ে শত্রুকে সতর্ক করে—“আমাকে খেও না!”
যোগাযোগ: ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতির জোনাকি আলোর ভিন্ন ভিন্ন ছন্দে সংকেত দেয়।

আমাদের পরিবেশে জোনাকি:
একসময় গ্রামবাংলার গ্রীষ্ম ও বর্ষার রাতে জোনাকির আলো ছিল এক পরিচিত দৃশ্য। কিন্তু এখন সেই দৃশ্য অনেকটাই কমে গেছে। কীটনাশকের ব্যবহার, পরিবেশ দূষণ এবং বনভূমি কমে যাওয়ায় জোনাকির সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে।

কেন জোনাকি রক্ষা করা জরুরি:
জোনাকি শুধু সৌন্দর্যের প্রতীক নয়, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশগত সূচকও। যেখানে জোনাকি থাকে, সেখানে পরিবেশ তুলনামূলকভাবে সুস্থ ও ভারসাম্যপূর্ণ থাকে। তাই জোনাকি রক্ষা মানে আমাদের প্রকৃতিকে রক্ষা করা।

শেষ কথা: 
জোনাকি আমাদের শেখায়—ছোট্ট হয়েও আলো ছড়ানো যায়। অন্ধকার যত গভীরই হোক, একটি ক্ষুদ্র আলোও তা ভেদ করতে পারে। তাই প্রকৃতির এই ক্ষুদ্র অথচ বিস্ময়কর প্রাণীটিকে ভালোবাসা আর সংরক্ষণ করা আমাদেরই দায়িত্ব।