ঢাকা, সোমবার ২১, সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২:৩৭:৫৮ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
প্রধানমন্ত্রী আজ নিউইয়র্ক যাচ্ছেন, ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে ভাষণ অভিনয়কে পেশা হিসেবে নেব তা ভাবিনি: সাদিয়া আয়মান ন্যাম ভবন থেকে এমপি নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু ইমরান খানের বোন আলিমা খান আটক এশিয়ান গেমস:সেমিফাইনালে ভারতের কাছে হারলো বাংলাদেশ

অভিনয়কে পেশা হিসেবে নেব তা ভাবিনি: সাদিয়া আয়মান

রাতুল মাঝি | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১২:০৬ এএম, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সোমবার

জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাদিয়া আয়মান।

জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাদিয়া আয়মান।

অভিনয়ে নিজের স্বতন্ত্র জায়গা তৈরি করেছেন তরুণ অভিনেত্রী সাদিয়া আয়মান। বৈচিত্র্যময় চরিত্রে কাজের পাশাপাশি তার সাবলীল অভিনয় ও পর্দায় উপস্থিতি ইতোমধ্যে দর্শকের নজর কেড়েছে। অভিনয়, জনপ্রিয়তা, স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন—রাতুল মাঝি।

প্রশ্ন: অভিনয়ে আসার গল্পটা জানতে চাই। কীভাবে এই জগতে পা রাখা?
সাদিয়া আয়মান:
অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসা ছোটবেলা থেকেই ছিল। তবে অভিনয়কে পেশা হিসেবে নেব—এটা শুরুতে এতটা ভাবিনি। ধীরে ধীরে কাজের সুযোগ এসেছে, আর কাজ করতে করতে বুঝেছি, অভিনয়ই এমন একটি জায়গা, যেখানে নিজেকে সবচেয়ে বেশি প্রকাশ করতে পারি। তাই পথটা ধরে এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

প্রশ্ন: প্রথম কাজের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?
সাদিয়া:
প্রথম দিকে ভীষণ নার্ভাস থাকতাম। ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে সংলাপ বলা, চরিত্রের মধ্যে ঢুকে যাওয়া—সবকিছুই নতুন ছিল। আবার একই সঙ্গে একটা অন্যরকম আনন্দও কাজ করত। মনে হতো, আমি যেন নিজের পরিচিত জীবন থেকে বেরিয়ে অন্য একজন মানুষের জীবন যাপন করছি।

প্রশ্ন: আপনার অভিনয়ে দর্শকের আগ্রহ তৈরি হয়েছে খুব দ্রুত। জনপ্রিয়তাকে কীভাবে দেখেন?
সাদিয়া:
জনপ্রিয়তা অবশ্যই আনন্দের। একজন শিল্পী যখন কাজ করেন, তখন দর্শকের ভালোবাসাই তাঁর সবচেয়ে বড় পাওয়া। তবে জনপ্রিয়তার সঙ্গে দায়িত্বও বেড়ে যায়। দর্শক যখন প্রত্যাশা করেন, তখন সেই প্রত্যাশার মর্যাদা রাখার চেষ্টা করতে হয়। আমি চাই না শুধু জনপ্রিয় হওয়ার জন্য কাজ করতে; চাই ভালো কাজের মাধ্যমে মানুষের মনে জায়গা করে নিতে।

প্রশ্ন: চরিত্র বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কোন বিষয়গুলো আপনার কাছে গুরুত্বপূর্ণ?
সাদিয়া:
চরিত্রটা আমাকে কতটা ভাবাচ্ছে, সেটাই প্রথম দেখি। গল্পটা ভালো কি না, চরিত্রটির মধ্যে অভিনয়ের সুযোগ আছে কি না—এসবও দেখি। একই ধরনের চরিত্র বারবার করতে চাই না। একজন অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে নানা ধরনের চরিত্রে পরীক্ষা করতে চাই।

প্রশ্ন: নেতিবাচক চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পেলে করবেন?
সাদিয়া:
অবশ্যই। বরং এমন চরিত্র করতে আমার আগ্রহ আছে। একজন অভিনেত্রীর জন্য ভালো-মন্দের প্রচলিত সীমার বাইরে গিয়ে চরিত্র তৈরি করা অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং। চরিত্রটি যদি গল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয় এবং সেখানে অভিনয়ের জায়গা থাকে, তাহলে কেন নয়?

প্রশ্ন: অভিনয়ের সময় চরিত্রের সঙ্গে নিজেকে মিশিয়ে ফেলেন?
সাদিয়া:
চরিত্রের সঙ্গে একটা মানসিক যোগাযোগ তৈরি না হলে অভিনয় আমার কাছে কঠিন। শুটিংয়ের সময় চেষ্টা করি চরিত্রটির অনুভূতিটা বুঝতে। তবে শুটিং শেষ হলে নিজেকে আবার চরিত্রের বাইরে নিয়ে আসাটাও জরুরি। তা না হলে একটা চরিত্রের আবেগ অনেক দিন নিজের মধ্যে থেকে যেতে পারে।

প্রশ্ন: এখনকার সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম একজন শিল্পীর জনপ্রিয়তার বড় অংশ। বিষয়টিকে কীভাবে দেখেন?
সাদিয়া:
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম শিল্পী ও দর্শকের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করেছে। এটা যেমন ভালো, তেমনি এর কিছু চাপও আছে। সবসময় মানুষ কী বলছে, সেটা নিয়ে ভাবলে নিজের কাজের জায়গাটা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই চেষ্টা করি ইতিবাচক বিষয়গুলো গ্রহণ করতে এবং নেতিবাচক বিষয়গুলোকে নিজের ওপর বেশি প্রভাব ফেলতে না দিতে।

প্রশ্ন: সমালোচনা শুনলে কেমন লাগে?
সাদিয়া:
গঠনমূলক সমালোচনা আমার ভালো লাগে। কারণ সেখান থেকে শেখার সুযোগ থাকে। কেউ যদি আমার অভিনয়ের কোনো দুর্বলতা ধরিয়ে দেন, আমি সেটা নিয়ে ভাবি। তবে সব মন্তব্যকে গুরুত্ব দেওয়া সম্ভব নয়। শিল্পীকে বুঝতে হবে কোন সমালোচনা তাঁকে আরও ভালো হতে সাহায্য করবে।

প্রশ্ন: অভিনয়জীবনে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী?
সাদিয়া:
নিজেকে প্রমাণ করে যাওয়া। বিশেষ করে একজন নারী শিল্পীর জন্য এই জায়গায় নিজের পরিচয় তৈরি করা সহজ নয়। প্রত্যেকটি কাজের পর মনে হয়, এবার আগের কাজের চেয়ে আরও ভালো কিছু করতে হবে। এই চেষ্টাটাই একদিকে চ্যালেঞ্জ, আবার অন্যদিকে প্রেরণাও।

প্রশ্ন: কাজের ক্ষেত্রে কোনো বিশেষ অভিনেতা বা অভিনেত্রী আপনাকে অনুপ্রাণিত করেন?
সাদিয়া:
অনেক শিল্পীর কাজই আমাকে অনুপ্রাণিত করে। দেশ-বিদেশের ভালো অভিনয় দেখার চেষ্টা করি। তবে কাউকে হুবহু অনুসরণ করতে চাই না। প্রত্যেক শিল্পীর নিজস্ব একটা অভিনয়ভাষা থাকে। আমারও নিজের একটা জায়গা তৈরি করতে চাই।

প্রশ্ন: ব্যক্তিজীবনে সাদিয়া আয়মান কেমন? পর্দার সাদিয়ার সঙ্গে কতটা মিল?
সাদিয়া:
পর্দার চরিত্র আর বাস্তবের মানুষ তো এক নয়। বাস্তবে আমি অনেক বেশি সাধারণভাবে থাকতে পছন্দ করি। পরিবার ও কাছের মানুষদের সঙ্গে সময় কাটানো, নিজের মতো থাকা—এসবই ভালো লাগে। তবে অভিনয়ের কারণে মানুষের সামনে আমার যে পরিচয় তৈরি হয়েছে, সেটাকেও আমি সম্মান করি।

প্রশ্ন: এত ব্যস্ততার মধ্যে নিজের জন্য সময় পান?
সাদিয়া:
সময় বের করতে হয়। সবসময় কাজের মধ্যে থাকলে একটা সময় নিজের কাছেই ক্লান্ত লাগতে পারে। তাই অবসর পেলে পরিবার, বন্ধু কিংবা নিজের পছন্দের কিছু কাজ নিয়ে থাকি। মানসিকভাবে ভালো থাকার জন্য নিজের জন্য সময় রাখা খুব জরুরি।

প্রশ্ন: একজন নারী শিল্পী হিসেবে আপনার কাছে সাফল্যের অর্থ কী?
সাদিয়া:
শুধু পরিচিত মুখ হয়ে ওঠাকে আমি সাফল্য মনে করি না। আমি চাই, মানুষ আমার কাজ মনে রাখুক। এমন কিছু চরিত্র করতে চাই, যেগুলো দেখে দর্শক বলবেন—‘এই চরিত্রটা সাদিয়া খুব ভালো করেছে।’ একজন অভিনেত্রীর জন্য এর চেয়ে বড় পাওয়া আর কী হতে পারে!

প্রশ্ন: অভিনয়ের বাইরে আর কী করতে চান?
সাদিয়া:
অভিনয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত অনেক কিছুই করতে চাই। ভালো গল্প নিয়ে কাজ করার ইচ্ছা আছে। ভবিষ্যতে এমন কাজ করতে চাই, যেগুলো শুধু বিনোদন দেবে না, দর্শককে ভাবতেও সাহায্য করবে।

প্রশ্ন: পাঁচ বছর পর নিজেকে কোথায় দেখতে চান?
সাদিয়া:
ভবিষ্যৎ নিয়ে খুব নির্দিষ্ট করে কিছু বলতে চাই না। তবে চাই, পাঁচ বছর পর মানুষ যেন আমাকে একজন পরিণত অভিনেত্রী হিসেবে দেখেন। আরও কঠিন চরিত্র করতে চাই, আরও শিখতে চাই এবং নিজের অভিনয়ের পরিধি বাড়াতে চাই।

প্রশ্ন: দর্শকদের জন্য আপনার বার্তা কী?
সাদিয়া:
দর্শকরাই একজন শিল্পীর সবচেয়ে বড় শক্তি। তাঁরা আমার কাজ দেখছেন, ভালোবাসছেন, সমালোচনা করছেন—সবকিছুর জন্যই আমি কৃতজ্ঞ। সামনে আরও ভালো কাজ করার চেষ্টা থাকবে। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন, যেন ভালো গল্প ও ভালো চরিত্র নিয়ে আপনাদের সামনে আসতে পারি।