ঢাকা, রবিবার ১৮, অক্টোবর ২০২৬ ১৩:৪৬:৪৮ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
ছদ্মনামে লিখে সাহিত্য পুরস্কার জিতলেন ইসাবেল আলেন্দে বাঙালি মহীয়সী নারী ইলা মিত্রের জন্মদিন আজ ঢাকায় বৃষ্টি ঝরবে কিনা, জানাল আবহাওয়া অধিদফতর রাজধানীর বাইরে অনুমোদন ছাড়াই চলছিল ইনানীর রিসোর্ট টুপটুপ কলকাতায় পূজামণ্ডপ ভেঙে ১৩ নারীসহ ১৯ জনের প্রাণহানী হাসপাতালে ডাক্তারের ধূমপান, বরখাস্তের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ইনানী রিসোর্টে আগুন: নিহতদের ৬ জনের পরিচয় মিলেছে

আজ চেকিয়া বনাম দ. আফ্রিকার খেলা সামলাচ্ছেন নারী রেফারি টোরি

খেলাধুলা ডেস্ক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১১:২৩ পিএম, ১৮ জুন ২০২৬ বৃহস্পতিবার

বিশ্বকাপে নারী রেফারির নতুন ইতিহাস: টোরি পেনসো থেকে স্তেফানি ফ্রাপার্ট

বিশ্বকাপে নারী রেফারির নতুন ইতিহাস: টোরি পেনসো থেকে স্তেফানি ফ্রাপার্ট

ফুটবল বিশ্বকাপের মাঠে খেলোয়াড়দের পাশাপাশি আলোচনায় এসেছেন নারী রেফারিরাও। ২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে চেকিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচে দায়িত্ব পালন করছেন মার্কিন রেফারি টোরি পেনসো। তার সঙ্গে সহকারী রেফারি হিসেবে আছেন ব্রুক মায়ো ও ক্যাথরিন নেসবিট। এর মাধ্যমে পুরুষদের বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো সম্পূর্ণ নারী অন-ফিল্ড রেফারিং দল ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব পেল।

বিশ্বকাপের ৯৬ বছরের ইতিহাসে নারী রেফারিদের পথচলা মোটেই সহজ ছিল না। দীর্ঘদিন ধরে পুরুষদের বিশ্বকাপে নারী রেফারিদের দেখা যায়নি। তবে সময়ের সঙ্গে বদলেছে ফুটবল প্রশাসনের দৃষ্টিভঙ্গি। দক্ষতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নারী কর্মকর্তাদেরও সর্বোচ্চ পর্যায়ে সুযোগ দিতে শুরু করে ফিফা।

এই যাত্রার সবচেয়ে বড় মাইলফলক আসে ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে। ফ্রান্সের রেফারি স্তেফানি ফ্রাপার্ট ইতিহাস গড়ে প্রথম নারী হিসেবে পুরুষদের বিশ্বকাপের ম্যাচ পরিচালনা করেন। কোস্টারিকা ও জার্মানির মধ্যকার ম্যাচে তিনি বাঁশি হাতে নামেন। তার সঙ্গে সহকারী হিসেবে ছিলেন ব্রাজিলের নিউজা ব্যাক এবং মেক্সিকোর কারেন দিয়াজ। সেটিই ছিল পুরুষদের বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম সম্পূর্ণ নারী রেফারিং দল।

ফ্রাপার্ট অবশ্য এর আগেও একের পর এক বাধা ভেঙেছেন। তিনি প্রথম নারী হিসেবে ফরাসি লিগ ওয়ান, UEFA চ্যাম্পিয়ন্স লিগ এবং পুরুষদের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচ পরিচালনা করেন। ফলে বিশ্বকাপে তার উপস্থিতি ছিল নারী রেফারিদের দীর্ঘ সংগ্রামের স্বীকৃতি।

চার বছর পর ২০২৬ বিশ্বকাপে সেই ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যোগ করলেন টোরি পেনসো। তিনি পুরুষদের বিশ্বকাপে ম্যাচ পরিচালনা করা দ্বিতীয় নারী প্রধান রেফারি। FIFA-এর নির্বাচিত ৫২ জন প্রধান রেফারির মধ্যে মাত্র দুইজন নারী—টোরি পেনসো ও মেক্সিকোর কাটিয়া গার্সিয়া।

টোরি পেনসোর ক্যারিয়ারও কম উজ্জ্বল নয়। তিনি ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারে (MLS) দুই দশকের মধ্যে প্রথম নারী রেফারি হিসেবে ম্যাচ পরিচালনা করেন। ২০২৩ নারী বিশ্বকাপের ফাইনালেও তিনি দায়িত্ব পালন করেন। এবার পুরুষদের বিশ্বকাপে বাঁশি হাতে নেমে আরেকটি ইতিহাসের অংশ হয়ে গেলেন।

এবারের বিশ্বকাপে আরও একটি বিশেষ ঘটনা ঘটেছে। টোরি পেনসোর সহকারী ব্রুক মায়ো পুরুষদের বিশ্বকাপে দায়িত্ব পালনকারী প্রথম প্রকাশ্য সমকামী ম্যাচ কর্মকর্তা হিসেবে ইতিহাসে নাম লিখিয়েছেন। এটি বিশ্ব ফুটবলে বৈচিত্র্য ও অন্তর্ভুক্তির নতুন দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ফিফা বারবার বলেছে, নারী কর্মকর্তাদের নির্বাচন কোনো বিশেষ সুবিধার কারণে নয়; বরং যোগ্যতা, ফিটনেস, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই তাদের নির্বাচন করা হয়েছে। ফিফা রেফারিজ কমিটির চেয়ারম্যান পিয়েরলুইজি কলিনা একাধিকবার বলেছেন, রেফারির ক্ষেত্রে লিঙ্গ নয়, দক্ষতাই প্রধান বিবেচ্য।

ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চ বিশ্বকাপ। সেখানে নারী রেফারিদের উপস্থিতি শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়, বরং খেলাধুলায় সমঅধিকার ও পেশাগত স্বীকৃতির প্রতীক। কাতারের ফ্রাপার্ট থেকে যুক্তরাষ্ট্রের টোরি পেনসো—এই পথচলা প্রমাণ করছে, ফুটবলে এখন আর বাঁশির শব্দের কোনো লিঙ্গ নেই; আছে কেবল যোগ্যতা ও দক্ষতার স্বীকৃতি।