ঢাকা, সোমবার ১৫, জুন ২০২৬ ২:৪২:০৭ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
আজ রাতে জার্মানির মুখোমুখি হচ্ছে ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্র কুরাসাও নারীদের জন্য ১৫০০ বেডের দুটি হাসপাতাল হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু কনোলির বিধ্বংসী ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার নাটকীয় জয় এইচএসসি পরীক্ষায়ও থাকছে সিসিটিভির নজরদারি মিরপুর স্টেডিয়ামে খেলা উপভোগ করছেন জাইমা রহমান বাজেটে সরকার সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে শিক্ষাকে: শিক্ষামন্ত্রী

আজ রাতে জার্মানির মুখোমুখি হচ্ছে ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্র কুরাসাও

ফিচার ডেস্ক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১০:৪২ পিএম, ১৪ জুন ২০২৬ রবিবার

ছবি: সংগ্রহিত।

ছবি: সংগ্রহিত।

ক্যারিবীয় সাগরের নীল জলরাশির মাঝখানে ছোট্ট একটি দ্বীপ। আয়তনে ক্ষুদ্র হলেও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ইতিহাস, সংস্কৃতি ও পর্যটনের কারণে বিশ্বজুড়ে পরিচিত। এই দ্বীপটির নাম কুরাসাও। 

সম্প্রতি বিশ্বকাপ ফুটবলে অংশ নেওয়ার কারণে দেশটির নাম নতুন করে আলোচনায় এসেছে। কিন্তু ফুটবলের বাইরেও কুরাসাও একটি বিস্ময়কর ভূখণ্ড, যেখানে ইউরোপীয় ঐতিহ্য আর ক্যারিবীয় প্রাণচাঞ্চল্যের অনন্য মেলবন্ধন দেখা যায়। আজ রোববার (১৪ জুন) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টন শহরে বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় রোমাঞ্চকর এক ম্যাচে জার্মানির মুখোমুখি হচ্ছে ফুটবল মানচিত্রের এক অতি ক্ষুদ্র ও বিস্ময়কর দেশ কুরাসাও 

ছোট্ট দ্বীপ, বড় পরিচয়: কুরাসাও দক্ষিণ ক্যারিবীয় অঞ্চলে অবস্থিত একটি দ্বীপদেশ। এটি নেদারল্যান্ডসের অন্তর্ভুক্ত একটি স্বায়ত্তশাসিত দেশ। ভৌগোলিকভাবে এটি ভেনেজুয়েলার উপকূল থেকে মাত্র প্রায় ৬৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

মাত্র ৪৪৪ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই দ্বীপে বসবাস করে প্রায় দেড় থেকে দুই লাখ মানুষ। রাজধানী ভিলেমস্টাড তার রঙিন স্থাপত্যের জন্য বিশ্বজুড়ে বিখ্যাত।

রঙিন শহরের গল্প: কুরাসাওর রাজধানী উইলেমস্টাডকে দেখলে মনে হবে যেন রঙতুলিতে আঁকা কোনো শহর। সমুদ্রতীর ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা নীল, হলুদ, গোলাপি ও কমলা রঙের ভবনগুলো পর্যটকদের মুগ্ধ করে।

শহরের ঐতিহাসিক কেন্দ্রকে UNESCO World Heritage Site হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। ডাচ ঔপনিবেশিক স্থাপত্য এবং ক্যারিবীয় সংস্কৃতির সংমিশ্রণ এই শহরকে করেছে অনন্য।

ভাষা ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন: কুরাসাওর সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিকগুলোর একটি হলো এর ভাষাগত বৈচিত্র্য। এখানে ডাচ, ইংরেজি ও স্প্যানিশের পাশাপাশি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয় পাপিয়ামেন্তো নামে একটি স্থানীয় ভাষা।

আফ্রিকান, ইউরোপীয়, লাতিন আমেরিকান ও ক্যারিবীয় সংস্কৃতির প্রভাব দেশটির জীবনযাত্রায় স্পষ্ট। সংগীত, নৃত্য, উৎসব ও খাবারে এই বৈচিত্র্যের ছাপ দেখা যায়।

সমুদ্রসৈকতের স্বর্গ: কুরাসাও বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ডাইভিং গন্তব্য। স্বচ্ছ নীল পানি, প্রবালপ্রাচীর এবং সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের কারণে প্রতিবছর হাজার হাজার পর্যটক এখানে আসেন।

দ্বীপটির সৈকতগুলো যেন পোস্টকার্ডের ছবি। সাদা বালু আর ফিরোজা রঙের জলরাশি যে কাউকে মুগ্ধ করতে বাধ্য।

অর্থনীতির প্রধান ভরসা: পর্যটন কুরাসাওর অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি। পাশাপাশি তেল শোধন, বন্দরসেবা, আর্থিক খাত ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

ক্যারিবীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবেও পরিচিত এই দ্বীপ।

ফুটবলে নতুন স্বপ্ন: কুরাসাওর জনসংখ্যা খুব বেশি না হলেও ফুটবলের প্রতি মানুষের ভালোবাসা প্রবল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটি আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছে।

অনেক ফুটবলার ইউরোপের বিভিন্ন লিগে খেলার অভিজ্ঞতা নিয়ে জাতীয় দলে যোগ দেন। ফলে ছোট্ট এই দেশটিও বড় বড় ফুটবল শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করার সাহস দেখাচ্ছে।

ফ্লেমিঙ্গোর দ্বীপ: কুরাসাও শুধু সমুদ্রসৈকতের জন্যই নয়, গোলাপি রঙের ফ্লেমিঙ্গো পাখির জন্যও বিখ্যাত। দ্বীপের লবণাক্ত জলাভূমিগুলোতে প্রায়ই দেখা মেলে এই মনোমুগ্ধকর পাখির।

শেষকথা: বিশ্ব মানচিত্রে কুরাসাও একটি ক্ষুদ্র বিন্দু মাত্র। কিন্তু প্রকৃতির সৌন্দর্য, রঙিন শহর, বহুসাংস্কৃতিক সমাজ এবং মানুষের প্রাণবন্ত জীবনযাত্রা দেশটিকে করেছে অসাধারণ। ক্যারিবীয় সাগরের বুকে এই ছোট্ট দ্বীপ যেন প্রমাণ করে—আয়তন নয়, বৈচিত্র্য ও সৌন্দর্যই একটি দেশকে বড় করে তোলে।