ঢাকা, রবিবার ১৪, জুন ২০২৬ ২২:১০:১৭ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু কনোলির বিধ্বংসী ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার নাটকীয় জয় এইচএসসি পরীক্ষায়ও থাকছে সিসিটিভির নজরদারি মিরপুর স্টেডিয়ামে খেলা উপভোগ করছেন জাইমা রহমান বাজেটে সরকার সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে শিক্ষাকে: শিক্ষামন্ত্রী বিডি-অসি সিরিজ, অস্ট্রেলিয়াকে চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য দিল বাংলাদেশ রামিসা হত্যা: মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্তদের আপিল গ্রহণ হাইকোর্টে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে ব্রাজিলকে রুখে দিল মরক্কো

আজ স্বাস্থ্য দিবস : সেবা নেই, আছে শুধুই অবহেলা

সালেহীন বাবু | উইমেননিউজ২৪.কম

আপডেট: ০৪:১৬ পিএম, ১৮ এপ্রিল ২০১৮ বুধবার

আজ ৭ এপ্রিল শনিবার বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস। প্রতিবারের মত এবারও বাংলাদেশসহ বিশ্বের নানা দেশে নানা আয়োজনে দিবসটি পালন করা হচ্ছে। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা, সবার জন্য সর্বত্র‘।

 

দিবসটি উদযাপন উপলক্ষ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রনালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাসমূহ নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। 

 

বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতে ব্যাপক উন্নয়ন সংগঠিত হয়েছে এবং ঈপ্সিত সাফল্য অর্জিত হয়েছে। এমনটাই মনে করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী। এ খাতের অগ্রগতির দিক তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য খাতে যুগান্তকারী সাফল্য পেয়েছে বাংলাদেশ। প্রশংসিত হয়েছে জাতীয় ও আর্ন্তজাতিকভাবে। স্বাস্থ্যখাতে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কাজ করছে সরকার। দেশের সর্বত্র বিস্তার লাভ করেছে ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবার নেটওয়ার্ক। বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবার অবকাঠামো বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশের মডেল হয়ে দাড়িয়েছে। জনবল বৃদ্ধি, অবকাঠামো উন্নয়ন, মা ও শিশু মৃত্যু হ্রাস, ওষুধের সরবরাহ বৃদ্ধি, কমিউনিটি ক্লিনিক চালু,  স্বাস্থ্য খাতে ডিজিটাল বাংলাদেশ কার্যক্রম ইত্যাদি উন্নয়নমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার।

 

তিনি আরো বলেন, দেশের ৯৯ ভাগ জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে রয়েছে প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবার ব্যবস্থা। বর্তমানে প্রতিমাসে ৮০ থেকে ৯০ লক্ষ্য মানুষ কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে সেবা নেন। কমেছে মাতৃ ও শিশু মৃত্যুর হার। পোলিও ও ধনুষ্টংকারমুক্ত হয়েছে দেশ। বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে জনগণের বিশেষ করে নারী, শিশু এবং সুবিধাবঞ্চিতদের স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টি সেবাপ্রাপ্তীর চাহিদা বৃদ্ধি, কার্যকর সেবাপ্রাপ্তি সহজ্যলভ্য, স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টি সেবাসমূহের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার মাধ্যমে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার হৃাস, রোগের প্রাদুর্ভাব, মৃত্যু হার হ্রাস এবং পুষ্টিমান বৃদ্ধি করা। সর্বোপরি সারা দেশে স্বাস্থ্য সেবার নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হয়েছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

 

কিন্তু বিশেষঙ্গরা এ মতের সঙ্গে একমত হতে পারেননি। তাদের মতে, সামগ্রিক বিবেচনায় দেশে এখনও সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষার ধারনা পূর্নাঙ্গরুপে গড়ে উঠেনি। বিচ্ছিন্নভাবে কিছুটা দৃশ্যমান হলেও সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা কাঠামোর উপাদান হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারছে না। একটি দেশের সব এলাকার মানুষ সমপরিমান সুচিকিৎসা না পেলে সার্বজনীন সুরক্ষা কার্যকর হয় না।

 

বিশেষ করে দেশের নারীরা স্বাস্থ্য ক্ষাত আরও উপেক্ষিত। নারী ও শিশুদের জন্য দেশে পর্যাপ্ত হাসপাতাল নেই। দেশে পর্যাপ্ত সংখ্যক নারী ডাক্তার নেই। ফলে নারীরা জটিল কোন সমস্যা না হলে ডাক্তারের কাছে যেতে চায় না। অথচ এ জটিল রোগ পরবর্তীতে আরো জটিল আকার ধারন করে। অনেক সময় দেখা যায় পুরুষ ডাক্তারের কাছে নারীরা সবকিছু খুলে বলতে পারে না।

 

উন্নত স্বাস্থ্যসবা এখন অনেকটাই জেলা ও বিভাগকেন্দ্রীক। গ্রাম, উপজেলা পর্যায়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকসহ উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা নেই। প্রত্যন্ত জায়গায় বিশেষঙ্গ নারী ডাক্তার খুজে পাওয়া যাবে না। ফলে নারীরা তাদের ছোটখাট অসুখ থেকে শুরু করে সিজারিয়ান অপারেশন স্বল্পমূল্যে স্থানীয় অনুমোদনহীন ডায়াগোনেষ্টিক সেন্টার থেকে করান। এ সমস্ত ডায়াগোনেষ্টিক সেন্টারে অনভিজ্ঞ লোক দিয়ে সিজারিয়ান করা হয় যার কারণে নারীদের ইনফেকশনসহ মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে। বিগত কয়েক মাসের সমীক্ষায় দেখা যায়, বেশিরভাগ নারী এ ধরনের মৃত্যুর স্বীকার হচ্ছেন।

 

সর্বশেষ সরকারের পক্ষ থেকে সার্টিফিকেট ডাক্তার ছাড়া সিজার করানো বন্ধের জন্য কঠিন সিদ্ধান্তের দিকে যাচ্ছে সরকার। শুধু কি নারী বা শিশুরাই এ থাবা থেকে রেহাই পাচ্ছে না। ঠিকমত বাচ্চা ডেলিভারী না হওয়া কারণে শিশুরা জন্মের আগেই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে। নারীরা স্তন ক্যান্সার, জরায়ু ক্যান্সার, ডিম্বথলীর ক্যান্সারের মত জটিল জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। এ সব দুরারোগ্য অসুখের চিকিৎসায় শুধুমাত্র নারীদের জন্য কোন বিশেষায়িত হাসপাতাল গড়ে উঠেনি দেশে। এ তিনটি রোগই প্রথম থেকে চিকিৎসা নিলে সেরে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

 

অন্যদিকে দেশে প্রতিনিয়ত চিকিৎসার ব্যয় বড়েছে, ওষুধের দাম বাড়ছে। নারীরা অনেক সময় ভাল ডাক্তার না পেয়ে ওষুধের দোকান থেকে ওষুধ কিনে খান যা পরে তাদের চরম ক্ষতির কারণ হয়ে দাড়ায়। দোকানে  থেকে ভালো কোম্পানীর ওষুধের পরিবর্তে নিম্মমানের ওষুধ দেওয়া হয়। যা শরীরের জন্য আরো বেশি ক্ষতিকারক। হাতের কাছে ডাক্তার থাকলেও ভিজিট বেশি হওয়ার কারণে ঐ ওষুধের দোকানই শেষ ভরসা রোগীর।

 

স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসেবার প্রাপ্তি ও ভোগের ব্যাপক পক্ষ্যপাতদুষ্টতা রয়েছে। সরকারি-বেসরকার হাসপাতালগুলোতে নারীরা নিগৃহের স্বীকার হয়। তারা তো আর সব বিষয়ে জানে না। সুস্বাস্থ্য তথা প্রকৃত স্বাস্থ্য সেবা এখনও বস্তিবাসীদের সামর্থ্যের বাইরে। আর বস্তির নারীদের বাচলেই কি আর মরলেই কি এরকম ধারনা তাদের পরিবারের। সেখানে নারীদের অসুখ হওয়াও এক ধরনের পাপ। তাছাড়া বেসরকারি হাসপাতালের ব্যয় সবাই বহন করতে পারেনা।

 

ইদানীং বেসরকারি হাসপাতালেও যে পরিমান ভেজাল ওষুধ, মেয়াদহীন কেমিক্যাল দিয়ে পরীক্ষা করা হচ্ছে তাতে জীবনের নিরাপত্তা কোন জায়গায় গিয়ে পাওয়া যাবে। যে ভুয়া ডাক্তার এসএসসি পাশ না করে স্পেশালিষ্ট হয়ে যায় তার কাছে নারী, শিশু যাওয়া মানে নির্ঘাত মৃত্যু। সরকারি স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সেবা প্রদানকারীদের বড় অংশ দায়িত্ব ও কর্তব্য চরমভাবে অবহেলার পরিচয় দেন। মোদ্দা কথা পুরো স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনাতেই গোন্ডগোল। আর এর স্বীকারে বেশি পরিণত হচ্ছে নারী ও শিশুরা।

 

এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে বাংলাদেশ। এদেশে পানিজনিত সমস্যা বিদ্যমান। দারিদ্র-গরীবদের মধ্যে রোগ নিয়ন্ত্রন করা জরুরী। স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে বিদ্যমান অসমতার কারণে যে সমস্যাগুলো তৈরি হয়েছে তা নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় একেবারেই অক্ষম। সেক্ষেত্রে সার্বিক পরিকল্পনার মাধ্যমেই যাবতীয় সমস্যা থেকে উত্তরণ করা সম্ভব বলে মনে করেন বিশেষঙ্গরা।