ঢাকা, শনিবার ০৪, ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১:১৮:২৫ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
সরকার সমৃদ্ধ রাজস্ব ভাণ্ডার গড়ে তোলায় প্রাধান্য দিচ্ছে নেপালকে হারিয়ে সাফে শুভ সূচনা বাংলাদেশের মেয়েদের ছুটির দিনে সরগরম প্রাণের বইমেলা নজরুলের মানবিকতা সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণে অনুপ্রেরণা যোগাবে দেশে করোনায় আক্রান্ত আরও ১০ জন বেড়েছে মুরগি ও ডিমের দাম সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়েছে যেসব পণ্যের দাম

আমার কোনো অবসর নেই: রোকেয়া হায়দার

আইরীন নিয়াজী মান্না | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৮:০৮ পিএম, ৬ ডিসেম্বর ২০২২ মঙ্গলবার

রোকেয়া হায়দার

রোকেয়া হায়দার

রোকেয়া হায়দার; স্বনামধন্য সাংবাদিক।  অবসর গ্রহণ করেছেন এ বছর। বসবাস করছেন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে। ১৯৭৪ সালে পেশাদার সাংবাদিকতা শুরু করেন।পরে ভয়েস অব আমেরিকার (ভিওএ) বাংলা বিভাগে কাজ করেছেন ৩১ বছর। ২০১১ সাল থেকে এবছর জুন পর্যন্ত এ বিভাগের প্রধান ছিলেন। সাংবাদিকতায় নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন তিনি। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে কাজ করা প্রথম বাংলাদেশী নারী রোকেয়া হায়দার। সম্প্রতি উইমেননিউজ২৪.কম-এর সাথে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, নিজের জীবন, পেশা ও সাংবাদিকতার নানা দিক নিয়ে। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন উইমেননিউজ-এর সম্পাদক আইরীন নিয়াজী মান্না। 

উইমেননিউজ২৪.কম: আপনার ছেলেবেলা ও বড় হওয়া নিয়ে কিছু বলনু।

রোকেয়া হায়দার: আমি যশোরের মেয়ে।  তবে বাবার কর্মসূত্রে জন্ম ও বেড়ে ওঠা কলকাতায়। আমার শিক্ষাজীবন শুরুও হয়েছে কলকাতায়।  এ শহরে আমার শৈশবের সব সোনালী স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে।
আমার বাবা আবুবকর ফারাজী ও মা মেহেরুন্নেসা। তাদের ছয় সন্তানের মধ্যে আমি তৃতীয়। আমার বড় বোন সুফিয়া আমিন এক সময় প্রখ্যাত নজরুল সংগীত শিল্পী ছিলেন। 
কলকাতার সেন্ট জন্স বিদ্যালয়ে আমার শিক্ষাজীবন শুরু হয়। পরে ঢাকার ইডেন কলেজে পড়েছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে মাস্টার্স করেছি। পরে ষাটের দশকে স্বামী হায়াদার তাকির কর্মসূত্রে আমাকে চলে যেতে হয় চট্টগ্রামে। আমার বেতার জীবনের শুরু কলকাতায়। নানার হাত ধরে শিশুমহল নামে একটি ছোটদের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ জীবনের শুরু। স্কুল কলেজে পড়াশোনার ফাঁকে ফাঁকে আমি বেতারে নাটক ও অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করতাম।

উইমেননিউজ২৪.কম: সাংবাদিকতা না করলে কি করতেন?

রোকেয়া হায়দার: সাংবাদিকতা না করলে আমি আসলে ডাক্তার হতাম। আমার মা-বাবাও তাই চেয়েছিলেন।  তারা চেয়েছিলেন আমি ডাক্তার হয়ে মানুষের সেবা করি। আমিও এক সময় ডাক্তার হতে চাইতাম।  কিন্তু হঠাৎ করে সাংবাদিক হয়ে যাই। ভালোবেসে ফেলি এ পেশাকে এবং স্থায়ী হয়ে যাই।

উইমেননিউজ২৪.কম: আপনার সাংবাদিকতা শুরু কিভাবে।  সাংবাদিকতা জীবন নিয়ে বিস্তারিত বলনু।

রোকেয়া হায়দার: আমি আসলে একজন সংবাদ পাঠিকা, ভাষ্যকার ও সাংবাদিক। খবর পড়েছি, দেশ থেকে দেশান্তরে ছুটেছি খবরের সন্ধানে। জীবনে অনেক চ্যালেঞ্জ নিয়েছি। চ্যালেঞ্জ নিতে পছন্দ করি আমি। সব আনন্দ-অনুষ্ঠান দারুণ উপভোগ করেছি, যা হারিয়ে যাবে না কখনো।  
আমি ১৯৬০–এর দশকেই চট্টগ্রাম বেতারে নিয়মিত অনুষ্ঠান ঘোষিকা হিসেবে কাজ শুরু করি। ১৯৬৮ সালে চট্টগ্রাম বেতারে আঞ্চলিক সংবাদ পাঠ দিয়ে আমার সংবাদ পাঠিকা হিসেবে জীবন শুরু হয়। তবে পেশাদার সাংবাদিকতার শুরু ১৯৭৪ সালে ঢাকা বেতার ও টিভির নিয়মিত খবর পড়া দিয়ে। 
১৯৮১ সালে ভয়েস অব আমেরিকার আমন্ত্রণে চলে আসি ওয়াশিংটন ডিসিতে।  শুধু খবর পড়াই নয়, তখন পুরোদস্তুর সাংবাদিকতার দায়িত্ব নিতে হয় আমাকে।  

উইমেননিউজ২৪.কম: পেশাগত জীবনের লড়াইগুলোকে জয় করেছেন কিভাবে? আজকের মেয়েদের লড়াই আর আপনাদের সময়ের লড়াইয়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য দেখেন কি?

রোকেয়া হায়দার: শুধু সাংবাদিকতা নয়, যে কোনো পেশাতে লড়াই আছে। এক ধরনের সংগ্রাম করে টিকে থাকতে হয়।  মেয়েদের ক্ষেত্রে এই সংগ্রাম বা লড়াইটা তুলনামূলকভাবে বেশি।  সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা।  নিজের মেধা, যোগ্যতা ও পরিশ্রম দিয়েই এই পেশায় সবাইকে টিকে থাকতে হচ্ছে। আমাকেও সে লড়াই করতে হয়েছে। কখনো সাহস হারাইনি। লড়াই করে গেছি। সবার মতো আমিও অনেক চড়াই-উতরাই পাড়ি দিয়ে আজকের এই অবস্থানে আসতে পেরেছি।
আজকের মেয়েদের মিডিয়াতে অবস্থান তৈরি করতে যে লড়াই করতে হচ্ছে সেই একই লড়াই আমাদেরও করতে হয়েছে।  আসলে সময়ের ব্যবধানে এই লড়াইরে মধ্যে কোনো দৃশ্যমান পার্থক্য নেই।  অবস্থা একই।
আমি সব সময় মনে করি মিডিয়াতে কাজের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ বলে কোনো বৈষম্য থাকতে পারে না।  কিন্তু আমরা স্পষ্টতই এ বৈষম্য দেখতে পাই। এটা বিশ্বব্যাপী। বৈষম্য আগেও ছিলো, এখনো আছে। বাংলাদেশের নারী সাংবাদিকদের এখনো নানা প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়তে হচ্ছে। বৈষম্য মোকাবিলা করতে হচ্ছে।  এ থেকে উত্তরণ খুবই জরুরী।  তা না হলে এ সেক্টরের উন্নয়ন হবে না।

উইমেননিউজ২৪.কম: দীর্ঘ কর্মজীবনের পর এখন আপনি অবসর জীবন যাপন করছেন।  সময় কাটে কি করে।

রোকেয়া হায়দার: আমার আসলে কোনো অবসর নেই।  পেশাগত জীবনে অবসর নিয়েছি বটে। তবে আমেরিকায় নানা ধরনের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক অনুষ্ঠানের সঙ্গে আমি অনেক আগে থেকেই জড়িত। আন্তর্জাতিক বাংলা উৎসব বইমেলা, রবীন্দ্র নজরুল সম্মেলন, ফোবানা, বাংলা স্কুল- সব আয়োজনেই আমাকে নিয়মিত অংশগ্রহণ করতে হয়।  তাছাড়া দেশে এবং আমেরিকাতে আমি কিছু সমাজসেবামূলক কাজের সাথে জড়িত আছে। এ কাজগুলো এখন আমি নিয়মিতভাবে করতে পারছি।  এসব করেই আমার সময় কেটে যায়।

উইমেননিউজ২৪.কম: কর্মজীবনের পাশাপাশি নানা রকম সমাজসেবার সাথেও আপনি জড়িত।  এ সব কাজ নিয়ে কিছু বলুন।

রোকেয়া হায়দার: সাংবাদিকতায় কর্মব্যস্ততার মাঝেও বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কাজ আমি করেছি। এখনো এসব কাজের সঙ্গে জড়িত আছি। নারী ও শিশুদের উন্নয়ন, বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকারেলায় কাজ করছি। যার স্বীকৃতিতে ১৯৯০ সালে আমেরিকার প্রেসিডেনশিয়াল ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড পেয়েছি। তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশের হাত থেকে পদক গ্রহণ করেছি। সাংবাদিকতা জীবনে আমি মাদার তেরেসার সাক্ষাৎকার, বিশ্বকাপ ফুটবল ও অলিম্পিকের খবর সরাসরি মাঠ থেকে সংগ্রহ ও সরবরাহ করেন। দক্ষিণ এশিয়ার শিশুশ্রমের বিরুদ্ধে অভিযানের খবরাখবর, বাংলাদেশে অ্যাসিড নিক্ষেপের মর্মান্তিক ঘটনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে অপূর্ব সব অনুষ্ঠানের জন্য ভয়েস অব আমেরিকার প্রোগ্রাম অ্যাওয়ার্ড পেয়েছি।

উইমেননিউজ২৪.কম:  প্রবাসজীবনে দেশের জন্য নিশ্চয় মন কাঁদে।  কিভাবে তা কাটিয়ে ওঠেন।

রোকেয়া হায়দার: নিজের দেশের জন্য তো অবশ্যই মন কাঁদে। তবে আমি প্রতি বছরই স্বপরিবারে দেশে যাই। কোভিডের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে দেশে যাওয়া হয়নি বটে। তবে দেশের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ আছে। ভাই-বোন আত্বিয়-স্বজন দেশে রয়েছেন। তাদের সাথে নিয়মিত কথা-বার্তা হয়। এই ডিজিটাল যুগে যখন ইচ্ছে তাদের সাথে কথা বলতে পারি।  দেশের সব খোঁজ-খবর পাই। তাই খুব একটা দূরত্ব মনে হয় না।  মনে শান্তি পাই।

উইমেননিউজ২৪.কম: দীর্ঘ দিন আপনি ভয়েজ অব আমেরিকায় কাজ করেছেন। বিভাগীয় প্রধান ছিলেন আপনি।  সেখানকার কাজের স্মৃতি যদি আমাদের সাথে শেয়ার করতেন।

রোকেয়া হায়দার: আগেই বলেছি, ১৯৮১ সালে ভয়েস অব আমেরিকার আমন্ত্রণে আমি চলে আসি ওয়াশিংটন। শুধু খবর পড়াই নয়, সাংবাদিকতার সকল দায়িত্ব নিতে হয়েছে এখানে এসে। সে এক বিশাল দায়িত্ব। আমি ভিওএ-র বাংলা বিভাগের ম্যানেজিং এডিটরের দায়িত্ব লাভ করি। ২০১১ সালের জুন মাস থেকে গত বছর জুন পর্যন্ত আরও দশ বছর বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব পালন করেছি। আমার জানা মতে, কোন আন্তর্জাতিক মাল্টিমিডিয়া প্রতিষ্ঠানের বাংলা বিভাগে আমিই প্রথম নারী প্রধান।  এটি আমার জন্যে একটি বিশাল প্রাপ্তি। 
আমরা সব সময় একটি চমৎকার পরিবেশে কাজ করেছি।  এখানে কাজের পরিবেশ খুবই উন্নত।  অফিসের প্রতি সব সময় একটি আত্নিক টান অনুভব করেছি।  সকল সহকর্মী মিলে একটি পরিবারের মত কাজ করেছি।  সহকর্মীদের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা পেয়েছি।  যে সব স্মৃতি আজ আমাকে ভালোভাবে বেঁচে থাকতে সাহায্য করে।

উইমেননিউজ২৪.কম: হঠাৎ ভয়েজ অব আমেরিকার বাংলা বিভাগ বন্ধ হয়ে যাওয়ার মূল কারণ কি?

রোকেয়া হায়দার: আসলে শুধু আমাদের বাংলা বিভাগই বন্ধ হয়নি। উর্দ্দূ বিভাগও বন্ধ হয়ে গেছে।  আসলে একটি প্রতিষ্ঠান চালানোর কিছু পূর্ব শর্ত থাকে। এই শর্তগুলো পুরোপুরি মানা না গেলে প্রতিষ্ঠান চালানো কঠিন। বেতারে শ্রোতাগোষ্ঠীর সংখ্যা কমে যাওয়ায় এবং টেলিভিশন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দর্শক-অনুসারীর সংখ্যা বাড়ায় কর্তৃপক্ষ বাংলা এফএম ও শর্টওয়েভে বেতার সম্প্রচার বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এবছর ১৭ জুলাইয়ের পর আর বেতারে ভিওএর বাংলা সম্প্রচার শোনা যায়নি। ১৯৫৮ সালে সামরিক শাসনের অধীনে থাকা ‘পূর্ব পাকিস্তানে’র বাংলাভাষী জনগণের জন্যই মূলত বাংলায় সংবাদ ও অনুষ্ঠান প্রচার শুরু করে ভয়েস অব আমেরিকা। বাংলাদেশ ভূখণ্ড ছাড়াও প্রতিবেশী ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও ত্রিপুরা রাজ্যের বাংলাভাষীরাও এত বছর ধরে শুনে আসছিলেন ভিওএর সংবাদসহ নানা অনুষ্ঠান। 
বর্তমানে ভিওএর শর্টওয়েভ সার্ভিসের শ্রোতা এক শতাংশেরও কম, অথচ ভিওএ বাংলা সোশাল মিডিয়ার দর্শক-শ্রোতা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। তাই তারা এদিকটায় নজর বাড়াবে। তবে এই পরিবর্তনের কারণে ‘লাইফলাইন’ নামের বেতার অনুষ্ঠানের সম্প্রচার বন্ধ হচ্ছে না। বাংলাদেশে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নেয়া মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য রোহিঙ্গা ভাষায় প্রচারিত ৩০ মিনিটের এই বেতার অনুষ্ঠান চালু থাকবে। এই অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে ২০১৯ সালের জুলাই থেকে। 

উইমেননিউজ২৪.কম:  বাংলাদেশের নারী সাংবাদিকদের পেশায় টিকে থাকার জন্যে এখনো নানা প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়তে হচ্ছে।  এ থেকে বেড়িয়ে আসতে কি কি করা জরুরী বলে আপনি মনে করেন।

রোকেয়া হায়দার: বাংলাদেশের নারী সাংবাদিকদের এখনো নানা রকম প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়তে হচ্ছে।  কথাটি শতভাগ সত্যি। তাদের নানা রকম বৈষম্য মোকাবিলা করতে হচ্ছে। শুধু আমাদের দেশে নয়, সারা বিশ্বেই মিডিয়ায় আজ একই অবস্থা, একই চিত্র। মেয়েদের এগিয়ে যেতে দেয়া হয় না।  একটা কঠিন দেয়াল তৈরি করে রাখা হয়। এটি এক ধরনের অশনিসংকেত। নারী উন্নয়নে এই মানসিকতা চরম বাঁধার সৃষ্টি করে।  এ থেকে অবশ্যই আমাদের বেড়িয়ে আসতে হবে। নারীদের মিডিয়ায় স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ তৈরি করা জরুরী। তবে এ সব প্রতিকূলতার কথা ভেবে পিছিয়ে গেলে বা বসে থাকলে তো আর চলবে না মেয়েদের।  তাদেরও সাহস নিয়ে সামনের পথে এগিয়ে যেতে হবে। নিজের মেধা, যোগ্যতা, দক্ষতা ও পেশার প্রতি দায়িত্বশীল থাকতে হবে।  সৎ থেকে সঠিক পথে এগিয়ে যেতে হবে। সামনের পথটাকে নিজেকেই গড়ে নিতে হবে।  লড়াই করে এ পথ নিজেকেই তৈরি করতে হবে। হতাশ হওয়া যাবে না।  মেধা ও যোগ্যতা থাকলে স্বীকৃতি মিলবেই।  সুযোগ তৈরি করে নিতে হবে। মনে রাখতে হবে সুযোগ কেউ দেয় না, নিজ যোগ্যতায় সুযোগ তৈরি করে নিতে হয় নিজেকেই।

উইমেননিউজ২৪.কম: বর্তমানে সারা বিশ্বজুড়ে অনলাইন সাংবাদিকতার জয়জয়কার।  এ বিষয়ে আপনার মতামত কি?

রোকেয়া হায়দার: আজকের এই বিজ্ঞানের যুগে সব কিছু এগিয়ে যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে অনলাইন সাংবাদিকতাও এগিয়ে যাবে এটিই স্বাভাবিক।  কিন্তু অনলাইন সাংবাদিকতার নামে আজবাজে চ্যানেল খুলে মানহীন, অপ্রয়োজনীয় ও রুচিহীন কাজ করা হচ্ছে এটি দুশ্চিন্তার বিষয়।  বর্তমান সময়ে ইউটিউব চ্যানেলের নামে যার যা ইচ্ছে তাই করছে। কোনো নিয়ম নেই, নীতিমালা নেই।  যার ইচ্ছে সেই একটি ইউটিউব চ্যানেল খুলে ফেলতে পারছে। এগুলো বন্ধ হওয়া খুবই দরকার। আমাদের দেশে এগুলো খুব বেশি হচ্ছে।  এগুলো এখনই প্রতিরোধ বা নিয়ন্ত্রণ করা জরুরী।  সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে খুব দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া দরকার।

উইমেননিউজ২৪.কম: সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ।  

রোকেয়া হায়দার: তোমাকেও অনেক ধন্যবাদ।  ধন্যবাদ দেশের প্রথম নারীবিষয়ক অনলাইন নিউজ পোর্টাল উইমেননিউজ২৪.কম-এর সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে।