ঢাকা, শনিবার ০৪, জুলাই ২০২৬ ০:২৮:৪১ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
মেসিদের সামনে রূপকথার কেপ ভার্দে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৫ শিশুর প্রাণহানী নারী উন্নয়নে সরকার দায়িত্ব নিয়ে কাজ করছে: পানিসম্পদমন্ত্রী ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ২৫৯৫ এফডিসিতে উৎসবমুখর পরিবেশে চলছে শিল্পী সমিতির নির্বাচন

গাবতলীতে ঐতিহ্যবাহী বউ মেলা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত : ০৪:৩১ পিএম, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ বৃহস্পতিবার

ঐতিহ্যবাহী ‘বউ মেলা’ বসছে বগুড়ার গাবতলীতে। নতুন জামাই-বউ ও স্বজনদের নিমন্ত্রণ জানানোর মাধ্যমে এ মেলার আয়োজন করা হয়। এ মেলা বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাস-ঐতিহ্যের অংশ। বহুদিনের ঐতিহ্যকে ধারণ করে সবাই মেতে উঠেছে বাধভাঙা উৎসব-উচ্ছ্বাসে।

শুধু নারীদের কেনাকাটার জন্য বৃহস্পতিবার সকালে এ মেলা বসে। এ মেলা থেকে নারীরা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনাকাটা করতে পারেন। আগের দিন অনুষ্ঠিত পোড়াদহ মেলা ও আজকের বউমেলাকে ঘিরে গোটা এলাকায় এখনও চলছে উৎসবের আমেজ। আজকের মেলার প্রধান আকর্ষণ হলো ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়েই নারী। পুরুষ কোনো দর্শনার্থী মেলায় প্রবেশ করতে পারবেন না। নারীদের কেনাকাটার জন্য বউমেলায় আশপাশের ২০টি গ্রামের বিভিন্ন বয়সের নারীরা ছাড়া জেলার অতিথিরা মেলা প্রাঙ্গণে কেনাকাটা করেন। মেলার প্রধান আয়োজক এনামুল হক ও মহিষাবান ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে পোড়াদহ মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বউমেলাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার সম্ভাবনা নেই। আমরা আশা করছি, ভালোভাবেই এ আয়োজন সমাপ্ত করতে পারবো। মেলায় ৪২ বছরের নারী হামিদা বেগম এসেছেন তার মেয়ে শাবনুর ও নাতনি ইশাকে নিয়ে। এই তিন প্রজন্মের আগমন ঘটছে বিগত দুই বছর ধরে। হামিদা জানালেন, তার বিয়ে হয়েছে ১৪ বছর বয়সে। তখন থেকেই তিন দেখছেন এ মেলা। উৎসব আমেজের কোনো কমতি থাকে না মেলাতে। মেলা প্রাঙ্গণে ছিল কাঠের ফার্নিচার, তৈজসপত্র, বিভিন্ন ধরনের আসবাবপত্র, কৃষি সামগ্রী ও খাদ্যদ্রব্য। মেলায় শিশুদের জন্য ছিল নগরদোলা। কাঠ-বাঁশ ও মাটির তৈরি খেলনা পুতুল এবং বেলুনসহ বৈচিত্র্যময় পণ্যের সম্ভার। তবে এবার টোল বেশি হওয়ায় সব জিনিসের দাম তুলনামূলকভাবে বেশি ছিল বলে অনেকে নারী ক্রেতাই অভিযোগ করেছেন। বগুড়ার গাবতলীতে প্রায় দেড়শ বছর ধরে উদযাপিত হয়ে আসছে এ পোড়াদহ মেলা।

স্থানীয় প্রবীণরা জানান, সন্ন্যাসী পূজা উপলক্ষে মাঘ মাসের শেষ বা ফাগুনের প্রথম বুধবার গাবতলী উপজেলার মহিষাবান ইউনিয়নে ইছামতি নদীর তিরে একদিনের এ মেলা আয়োজন করা হয়ে থাকে। ঈদ বা অন্য কোনো উৎসবে মেয়ে-জামাই, নাতি-নাতনিদের নিমন্ত্রণ করা না হলেও পোড়াদহ মেলা উপলক্ষে তাদের বিশেষ নিমন্ত্রণ করার রীতি পালন চলছে বহু বছর ধরে। গাবতলী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ ন ম আব্দুল্লাহ আল হাসান বলেন, সুষ্ঠুভাবে মেলা সম্পন্ন করতে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষে সব ধরনের সহযোগিতা দেয়া হয়েছে। এলাকার প্রতিটি বাড়িই তাই এখন মেহমানে ভরা। পোড়াদহ মেলা একদিনের আয়োজন হলেও সব মিলিয়ে উৎসবের রেশ চলে সপ্তাহ ধরে।