ঢাকা, বুধবার ১১, ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ৬:০৩:০৯ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
এবার সিলেটে ভূমিকম্প অনুভূত. মাত্রা ৪ ৫০তম বিসিএসের ফল প্রকাশ, উত্তীর্ণ ১২৩৮৫ রয়টার্স: ক্ষমতার দোরগোড়ায় তারেক রহমান বোরকা ব্যবহার করে জাল ভোটের শঙ্কা, দায় নিতে হবে ইসিকে: বিএনপি বিদেশি সাংবাদিকদের জন্য হটলাইন চালু

চাঁদপুরে পদ্মা মেঘনায় ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৩:৪৪ পিএম, ৩ নভেম্বর ২০১৯ রবিবার

চাঁদপুরে পদ্মা মেঘনায় ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ

চাঁদপুরে পদ্মা মেঘনায় ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ

প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় ৩১ অক্টোবর থেকে পদ্মা, মেঘনায় মাছ ধরতে নেমেছেন চাঁদপুরের জেলেরা। তাদের জালে ধরা পড়ছে এখন ঝাঁকে ঝাঁকে রূপালি ইলিশ। আর সেই ইলিশ নিয়ে মোকামে ফিরছেন তারা। কাঙ্খিত ইলিশ পেয়ে জেলে-ফিশিং ট্রলার মালিক ও মৎস্য আড়তদারদের মুখে দেখা দিয়েছে হাসির ঝিলিক।

৯ থেকে ৩০ অক্টোবর প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় দেশের অন্যান্য স্থানের মতো চাঁদপুরের পদ্মা ও মেঘনাতে সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল প্রশাসন। ২২ দিনের অবরোধ শেষ হওয়ার পর মাছ ধরতে নামেন জেলেরা। গত ৩/৪ দিনই দেখা গেছে ঝাঁকে ঝাঁকে রূপালি ইলিশ ধরা পড়ছে জেলেদের জালে। আর মাছ পেয়ে খুব সন্তুষ্ট তারা।

চাঁদপুর জেলার প্রধান পাইকারি ইলিশের বাজার বড়স্টেশন মাছঘাটই শুধু নয়, জেলার দক্ষিণের হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী, কাটাখালী, বাবুরবাজার, হরিণা, ইশানবালা, মাঝেরচর, নীল কমল, চান্দ্রা চৌরাস্তা, আনন্দ বাজার এমন কি ষাটনল পর্যন্ত ছোটবড় মোকাম গুলো এখন ইলিশে ভরপুর।

চাঁদপুর মাছঘাটে যেসব ইলিশ এখন উঠছে, তার অধিকাংশই চাঁদপুরের পদ্মা ও মেঘনা নদীতে ধরা পড়েছে। আবার জেলার বাইরে বরিশাল, ভোলা, হাতিয়া, রামতগি ও লক্ষীপুরের ইলিশ ও আসছে এ মোকামে।

তরতাজা ইলিশ মাছ কিনতে অনেক সাধারণ ক্রেতাও ভিড় করছেন এ পাইকারি বাজারে। পাইকাররা মাছ কিনে বরফ দিয়ে সাজিয়ে বাতাস নিরোধক কার্টুনে ভর্তি করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠাচ্ছেন বা নিয়ে যাচ্ছেন। আড়তদার, জেলে ও ক্রেতা-বিক্রেতার হাঁকডাকে মুখরিত এখন প্রতিটি মোকাম।

চাঁদপুরের জেলেরা জানান, ২২ দিনের অভিযানের পর স্থানীয় নদীতেই ধরা পড়েছে প্রচুর ইলিশ। ছোট ছোট ইলিশের সঙ্গে বড় আকারের ডিমওয়ালা ইলিশও ধরা পড়ছে। তারা বলছেন এখনো অনেক ইলিশেই ডিম রয়ে গেছে।

চাঁদপুর রনঘোয়াল এলাকার জেলে হরিনাত দাস জানান, ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা থাকায় সরকার আমাদের কে এসময় ২০ কেজি চাল দিয়েছেন। অবশেষে নিষেধাজ্ঞা শেষে জালে মাছ পড়তে শুরু করছে। এটা আমাদের জন্য অনেক আনন্দের। মাছের প্রচুর সরবরাহ থাকায় আমাদের মতো খুশি মাছ ব্যবসায়ী ও আড়ৎদারা।

জেলে হাবিব, মিরন, সবুজ দাসসহ বেশ কয়েকজন জেলে জানান, গতবছরের তুলনায় এবার ইলিশ উৎপাদন আশা করি বেশি হবে কারণ গত কয়েকদিন আমরা ভালো ইলিশ পাচ্ছি। আগামী দিনগুলোতে ও এমনি করে ইলিশ পাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।

চাঁদপুর মাছ ঘাটের ইলিশ ব্যবসায়ী শবেবরাত মিয়া, মিজানুর রহমান, খালেক সরদার, আমির হোসেন, শাহ আলম, লিয়াকত মিয়া জানান, তারা জেলেদের কোটি কোটি টাকা দাদন দিয়েছেন। এরপর ইলিশের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। ইলিশ ধরতে না পারায় ২২ দিন ধরে মাছঘাটে ইলিশ ছিল না। তিনদিন আগে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পর প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ছে, এতে তারা খুশি। এবং তাদের আশা এবার তাদের দাদনের টাকা উঠে আসবে এবং কিছু লাভ ও হবে। কারণ এখন চাঁদপুর জেলার বাইরে থেকে ও এ মোকামে প্রচুর মাছ আসছে। আর বাজার ও ভালো মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যেই রয়েছে।

চাঁদপুর মাছ ঘাটের ইলিশ বিক্রেতা রাজু হোসেন জানান, বাজারে এখন দর চলছে বড় ইলিশ যে গুলো দেড় কেজি থেকে ২ কেজির উপরে সেগুলো ১৬০০/১৮০০ টাকা কেজি, ১১০০ গ্রাম থেকে ১৪শ গ্রাম গুলো ১১০০/১২০০ টাকা, এক কেজির গুলো ৮৫০ থেকে ১০০০ টাকা আবার নামার ইলিশ হলে দাম কিছুটা কম ও আছে। আর ৭০০ থেকে ৯৯০গ্রামের গুলো ৭৫০/৮৫০ এর মধ্যে। ৫০০-৬০০ গ্রামের গুলো ৪৫০/৬০০ এর মধ্যে আর এর থেকে ছোটগুলো ৩০০/৩৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

মাছ বিক্রেতা সেলিম সরকার জানান, এ বছর বাইরের ক্রেতা অনেক বেড়েছে, তারা এখান থেকে মাছ ক্রয় করে লঞ্চ, বাস, ট্রাক, ট্রেন, মাইক্রোবাস, কার ও সিএনজি করে বরফ দিয়ে ককসিট মুড়িয়ে নিয়ে যায়, মূলত বাইরের ক্রেতাদের জন্য ই এবার বাজার ভালো যাচ্ছে।

ঘাট শ্রমিক ইদ্রিস আলী জানান, মোকামে মাছ বেশি আমদানি হওয়াতে আমাদের আয় ও বেড়েছে। কিছু ধার-দেনা আছে, আশা করি এখন সেগুলো পরিশোধ করে কিছু টাকা জমিয়ে রাখতে পারবো কারণ সামনে আবার ঝাটকা সংরক্ষণের সময় ও ঘনিয়ে আসছে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আসাদুল বাকী জানান, সরকারি নির্দেশনার আওতায় আমরা ২২ দিন নদীতে মা ইলিশ রক্ষায় কাজ করেছি, আমাদের মৎস্য বৈজ্ঞানিকরা তাদের গবেষণা চালিয়েছেন মা ইলিশ নিয়ে, এবছর ও পর্যাপ্ত পরিমাণে ডিম ছাড়তে পেরেছে মা ইলিশ তাই উৎপাদন লক্ষ্য মাত্রা অর্জিত হবে আশা করি। মার্চ-এপ্রিল আমাদের যে জাটকা অভিযান চলবে, এটাকে যদি আমরা সঠিকভাবে বজায় রাখতে পারি তাহলে আমাদের ইলিশের উৎপাদন অব্যাহত থাকবে।