ঢাকা, শুক্রবার ১১, সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৭:২৬:৫১ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
রুশ ড্রোন হামলা, ইউক্রেনে নিহত ৫, শিশুসহ আহত ৬৭ ঢাকার বাতাসে কিছুটা স্বস্তি, দূষিত শহরের তালিকায় ২৩তম কর্মী ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিয়ম রাজধানীতে বৃষ্টির আভাস, কমতে পারে তাপমাত্রা মাত্র ২২ বছরেই থামল ‘মিস অস্ট্রিয়া’র জীবন লঘুচাপে উত্তাল সাগর, ৪ বন্দরে ৩ নম্বর সংকেত নারী এশিয়া কাপ টি-২০: বাংলাদেশের মিশন শেষ বাজারে কিছু পণ্যে স্বস্তি, মাছ-তেল-সবজিতে অস্বস্তি শিশুসাহিত্যিক আমীরুল ইসলাম আর নেই

ডিমের দামে হাঁসফাঁস, কমছে না বাজারের চাপ

রাতুল মাঝি | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১১:৪০ এএম, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শুক্রবার

ছবি: সংগ্রহিত।

ছবি: সংগ্রহিত।

একসময় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের খাবারের তালিকায় তুলনামূলক সস্তা ও সহজলভ্য প্রোটিনের অন্যতম উৎস ছিল ডিম। কিন্তু সেই ডিমের দামও এখন সাধারণ মানুষের সংসারের হিসাব এলোমেলো করে দিচ্ছে। রাজধানীর বাজারে ফার্মের মুরগির ডিমের ডজন এখন ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফলে প্রতি ডিমের দাম পড়ছে প্রায় ১১ থেকে ১২ টাকা।

ডিমের দাম কয়েক সপ্তাহ ধরেই বাড়তি। গত মাসের শুরুতে রাজধানীর বাজারে ডিমের ডজন ১৫০ টাকা ছাড়ানোর খবরও প্রকাশিত হয়েছিল। এরপর কিছুটা ওঠানামা করলেও দাম স্বাভাবিক পর্যায়ে ফেরেনি।

আজ শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজারের ডিমের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দাম বাড়ায় অনেকেই আগের তুলনায় কম ডিম কিনছেন। কেউ এক ডজনের বদলে আধা ডজন নিচ্ছেন, আবার কেউ প্রয়োজন অনুযায়ী দুই-চারটি ডিম কিনে ফিরছেন।

ডিম এখন আর ‘সস্তা’ খাবার নয়

সংসারের দৈনন্দিন বাজারে ডিমের ব্যবহার অনেক বেশি। সকালের নাশতা, শিশুর খাবার, অসুস্থ ব্যক্তির পথ্য কিংবা দ্রুত রান্না করার খাবার—সব ক্ষেত্রেই ডিমের চাহিদা রয়েছে। ফলে দাম বাড়লেও এর ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করার সুযোগ নেই।

একজন ক্রেতার ভাষায়, ‘ডিম এমন একটি খাবার, চাইলেই বাদ দেওয়া যায় না। বাচ্চাদের জন্য কিনতেই হয়। কিন্তু দাম যেভাবে বাড়ছে, আগে এক ডজন কিনলে এখন হিসাব করে আধা ডজন কিনতে হচ্ছে।’

আরেক ক্রেতা বলেন, ‘মাছ-মাংসের দাম বেশি হলে ডিম কিনে সংসার চালানোর চেষ্টা করি। এখন ডিমের দামও যদি বাড়তে থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষের জন্য সস্তা প্রোটিন বলতে আর কী থাকে?’

বিক্রেতাদেরও অস্বস্তি

খুচরা ডিম বিক্রেতাদের বক্তব্য, তাঁরা নিজেরা ইচ্ছামতো দাম বাড়ান না। পাইকারি বাজারে দাম বাড়লে তাঁদেরও বেশি দামে ডিম কিনতে হয়। পরিবহন, ভাঙা ডিমের ক্ষতি ও দোকানের অন্যান্য খরচ যোগ করে খুচরা দাম নির্ধারণ করতে হয়।

সম্প্রতি ঢাকার একটি বাজারের ডিম বিক্রেতা জানিয়েছিলেন, পাইকারিতে দাম বাড়ার কারণে তাঁদেরও বাড়তি দামে ডিম বিক্রি করতে হচ্ছে। ক্রেতারা দাম শুনে অনেক সময় ফিরে যাচ্ছেন বলেও জানান তিনি।

আরেক বিক্রেতার ভাষ্য, ‘আমরা বেশি দামে কিনলে কম দামে বিক্রি করে তো লোকসান দিতে পারি না। পাইকারি বাজারে দাম কেন বাড়ছে, সেটাই মূল প্রশ্ন।’

খামারিরা কী বলছেন

ডিমের দাম বাড়ার পেছনে উৎপাদন খরচও বড় বিষয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। মুরগির খাবার, ওষুধ, বিদ্যুৎ, শ্রমিকের মজুরি ও পরিবহন—সবকিছুর খরচ বেড়েছে। এর সঙ্গে বাজারে সরবরাহ ও চাহিদার ওঠানামাও দামের ওপর প্রভাব ফেলছে।

এর আগে খামারিরা অভিযোগ করেছিলেন, উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় অনেক সময় তাঁরা লোকসানে ডিম বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। জুলাই মাসে প্রতি ডিমে চার টাকা পর্যন্ত লোকসানের দাবিও করেছিলেন খামারিরা।

তবে উৎপাদন পর্যায়ে দাম এবং ভোক্তা পর্যায়ের খুচরা দামের মধ্যে যে ব্যবধান তৈরি হয়, সেটিও প্রশ্নের মুখে পড়ছে। খামার থেকে আড়ত, আড়ত থেকে পাইকার এবং এরপর খুচরা বাজার—প্রতিটি ধাপে দাম বাড়তে থাকলে শেষ পর্যন্ত চাপটি গিয়ে পড়ে ভোক্তার ওপর।

এক ডজন ডিমে বাড়তি খরচ

বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী, ১৩০ টাকায় এক ডজন ডিম কিনলে একটি পরিবারের মাসিক খরচের ওপরও বাড়তি চাপ পড়ে। একটি পরিবার যদি সপ্তাহে দুই ডজন ডিম কিনে, তাহলে মাসে প্রায় আট ডজন ডিম প্রয়োজন হয়। প্রতি ডজনে ১৩০ টাকা হিসাবে শুধু ডিমেই মাসে প্রায় ১ হাজার ৪০ টাকা খরচ হয়। দাম ১৪০ টাকা হলে সেই খরচ দাঁড়ায় প্রায় ১ হাজার ১২০ টাকা।

নিম্নআয়ের পরিবারের জন্য এই ব্যয় আরও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ডিমের পাশাপাশি চাল, ডাল, তেল, সবজি, মাছ ও অন্যান্য নিত্যপণ্যের দামও তাদের সামলাতে হয়।

পুষ্টির ওপরও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা

ডিমের দাম বাড়ার প্রভাব শুধু বাজারের হিসাবেই সীমাবদ্ধ নয়; পুষ্টির ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে শিশু ও নিম্নআয়ের পরিবারের সদস্যদের খাদ্যতালিকায় ডিম গুরুত্বপূর্ণ প্রাণিজ প্রোটিনের উৎস। দাম বাড়লে অনেক পরিবার ডিমের পরিমাণ কমিয়ে দিতে পারে।

একজন ক্রেতা বলেন, ‘আমাদের মতো পরিবারের জন্য ডিম ছিল মাছ-মাংসের বিকল্প। এখন ডিমের দামও বাড়ছে। ফলে বাচ্চাদের সপ্তাহে যতবার ডিম দিতাম, তার চেয়ে কম দিতে হচ্ছে।’

কেন কমছে না দাম?

বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, ডিমের দাম শুধু খামারির হাতে নির্ভর করে না। উৎপাদন খরচ, বাজারে সরবরাহ, পাইকারি বাজারের পরিস্থিতি, পরিবহন ব্যয় এবং চাহিদার পরিবর্তন—সবকিছু মিলেই খুচরা দাম নির্ধারিত হয়।

এ কারণে শুধু খুচরা বাজারে নজরদারি করে দীর্ঘমেয়াদে ডিমের দাম নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। উৎপাদন থেকে শুরু করে ভোক্তার হাতে পৌঁছানো পর্যন্ত পুরো সরবরাহব্যবস্থায় নজরদারি প্রয়োজন।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তর নিয়মিত বাজারদর প্রকাশ করে। ঢাকার মহানগরীর পাইকারি বাজারের দৈনিক দরও অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হচ্ছে। ১০ সেপ্টেম্বরের বাজারদরের তথ্যও সেখানে প্রকাশ করা হয়েছে।

ক্রেতাদের প্রশ্ন, স্বস্তি কবে?

বাজারে ডিমের দাম বাড়লে সাধারণত ক্রেতারা বিকল্প হিসেবে মাছ বা মাংসের বদলে ডিমের ওপর নির্ভর করেন। কিন্তু মাছ-মাংসের দাম যখন বাড়তি, তখন ডিমের দামও বাড়তে থাকলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের সামনে বিকল্প কমে যায়।

এক ক্রেতার কথায়, ‘সবকিছুর দামই বাড়ছে। আগে বাজারে গিয়ে অন্তত ডিম কিনে ফিরতে পারতাম। এখন ডিম কেনার সময়ও হিসাব করতে হয়। সংসারের বাজারে সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো—কোন জিনিসটা বাদ দেব, সেটাই বুঝতে পারি না।’

সব মিলিয়ে রাজধানীর বাজারে ডিম এখন আর আগের সেই ‘সস্তা খাবার’ নেই। আজকের বাজারে ফার্মের ডিমের ডজন ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা। উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থার প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করে দাম স্থিতিশীল করা না গেলে ডিমের বাড়তি দাম সাধারণ মানুষের খাদ্য ও পুষ্টির ওপর আরও চাপ তৈরি করবে।