ঢাকা, মঙ্গলবার ১৭, মার্চ ২০২৬ ২:২২:৩৩ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
উইমেননিউজের প্রধান উপদেষ্টা রিজিয়া মান্নানের মৃত্যুবার্ষিকী আজ ৭ বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগ খাল খননের মাধ্যমে দেশ গড়ার কর্মসূচিতে হাত দিলাম: প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচি উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

তরুণ উদ্যোক্তা আঁচলের এগিয়ে চলা

নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১২:৩৩ পিএম, ৭ অক্টোবর ২০২২ শুক্রবার

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

লায়লাতুন নাজিন আঁচল। একজন সফল তরুণ উদ্যোক্তা। বগুড়ার মিলেনিয়াম স্কলাস্টিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে সবে একাদশ শ্রেণির ছাত্রী। পড়াশোনার পাশাপাশি এতো ছোট বয়স থেকেই এই তরুণী নিজের নামের পাশে গড়ে নিচ্ছে পরিচয়। নিজের হাত খরচটা এখন আর তার বাসা থেকে নিতে হচ্ছে না। গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে চলছে নিজেকে স্বাবলম্বী হিসেবে। সাহসী এই তরুণ উদ্যোক্তা আঁচলের গল্পই শুনবো আজ।

গিফট ও ক্রাফট আইটেম দিয়ে আঁচলের উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার যাত্রা শুরু হলেও বর্তমানে আঁচল এবং আঁচলস ফ্যান্সি কালেকশন নামে জুয়েলারি, গিফট আইটেম এবং ক্রাফট আইটেম নিয়ে অনলাইনভিত্তিক ব্যবস্যা পরিচালনা করছে ছোট্ট এই তরুণ উদ্যোক্তা।

উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার সেই যাত্রা এবং গল্পটা শুনতে চাইলে আঁচল বলে, ছোট থেকে এক্সট্রা কারিকুলাম এক্টিভিটিজ, আর্ট অ্যান্ড ক্রাফট এবং নতুন কিছু তৈরি করার খুব শখ ছিলো। নতুন কিছু তৈরি করতে আমার খুবই ভালো লাগে। তখন এই সব দেখে আম্মু আমাকে অনেক উৎসাহ দিতো। আম্মু বলতো যেহেতু তোর এগুলো পছন্দ তাহলে তুই এটাকে কাজে লাগাতে পারিস। সেই ভাবনা থেকেই আমার এই শখের কাজ দিয়ে উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার পথচলা শুরু।

পরিবারই আমার ইন্সপিরেশন। পরিবার ছাড়া আমার এসব করা সম্ভব ছিলো না। আমি স্টুডেন্ট, আমার কাছে এত টাকা-পয়সা থাকে না। আমার পরিবার আমাকে ইকোনমিক ও মেন্টাল সাপোর্ট দিয়েছে সবসময়। এমনকি আমাকে আরও বহুদূর এগিয়ে যাওয়ার জন্য যা যা সাপোর্ট লাগে তারা দিয়ে যাচ্ছে।

আমার এই উদ্যোগটা খুব ছোট হলেও এবং বয়স কম হলেও আলহামদুলিল্লাহ অল্প সময়ে বেশ ভালো সাড়া পেয়েছি। আমার বর্তমানের হাত খরচ আমি উঠিয়ে নিতে পারছি।

আঁচল মনে করে প্রত্যেকটা মেয়ের জীবনের স্বাবলম্বী হওয়া খুবই দরকার। স্বাবলম্বী মানে এই না যে লাখ লাখ টাকা ইনকাম করতে হবে। আঁচল মনে করেন ইনকাম হবে, সেটা যেকোনো বিপদে নিজের প্রয়োজন মেটাতে সক্ষম হওয়া যায়। যাতে কখনো কারো বোঝা না হয়ে থাকতে হয়।

আঁচল জানায়, নিজের ছোট ইনকামের মধ্য থেকে পরিবারের জন্য কিছু করতে পারায় এক আলাদা প্রশান্তি পাওয়া যায়। তাই তার ইচ্ছা আছে পড়ালেখার পাশাপাশি এই উদ্যোগকে আরও অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার।

পড়াশোনার পাশাপাশি সামাজিক কাজেও নিয়োজিত আঁচল। সেই সম্পর্কে তরুণী বলে ‘আমি সামাজিক কাজে নিয়োজিত আছি। আমরা সবাই একটা পৃথিবীতে থাকি। পৃথিবীতে রয়েছেন অনেক সুবিধাবঞ্চিত মানুষ। সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের মুখের হাসি আমার কাছে খুবই দামি। দুনিয়াতে সবাই চিরদিন বেঁচে থাকবে না। তাই তাদের জন্য কিছু করতে পারাটা আমার সৌভাগ্য বলে মনে করি। সুবিধাবঞ্চিত মানুষ ও শিশুদের সাথে সময় কাটাতে আমার খুবই ভালো লাগে। তাদেরকে সম্মান ও ভালোবাসা দিয়ে, তাদের সাথে সময় কাটিয়েও তাদের মুখে হাসি ফোটানো যায়। তার জন্য লক্ষ লক্ষ টাকার প্রয়োজন হয় না।

আমি এখন পর্যন্ত রক্তদান করা, বন্যায় ত্রাণ দেয়া, সুবিধাবঞ্চিতদের ত্রাণ দেয়া থেকে শুরু করে টিউবওয়েল, খাবার ও জামা কাপড়, পথ শিশুদের জামা কাপড়-খাবার, মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষকে খাবার, জামা কাপড় দেয়া ও রোজার মধ্যে তাদেরকে কিছু করে দেয়ার জন্য রাস্তায় দাঁড়িয়ে ডোনেশন কালেক্ট করেছি। করোনার সময় যা যা দরকার ছিল, তা দেয়ার চেষ্টা করেছি। আমি এ সব কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতাম।

আমার সামর্থের মধ্যে সবসময় চেষ্টা করি তাদের জন্য কিছু করার। আল্লাহ যেন আমাকে সামর্থ্য দেয় তাদের জন্য আরও কিছু করার। আর এভাবেই সারাজীবন যেন তাদের জন্য করতে পারি আমি এবং তাদের জন্য কিছু করতে পারি এটাই আমার চাওয়া।

আমাদের সবারই সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের পাশে দাঁড়ানো উচিত। তাদেরকে সম্মান করা উচিত। তাদেরকে ভালোবাসা উচিত। ভালোবাসা দিলে ভালোবাসা পাওয়া যায়, সম্মান দিলে সম্মান পাওয়া যায়।

নতুন নারী উদ্যোক্তাদের উদ্দ্যেশে আঁচল বলে, আমরা মেয়েরা চাইলে আমরাও পারব পরিবারের পাশে দাঁড়াতে, সমাজের পাশে দাঁড়াতে, সুবিধাবঞ্চিতদ মানুষদের পাশে দাঁড়াতে। আমরা সবাইকে সম্মান দিলে সম্মান ফিরে পাবো, ভালোবাসা দিলে ভালোবাসা পাবো। আমরা চাইলে আমাদের দেশকে উন্নত করতে পারব। তাই মনে সাহস যুগিয়ে গন্ডি থেকে নিজেকে বেরিয়ে আনতে হবে। নিজের পরিচয় গড়ে তুলতে হবে। কারো উপর নির্ভর না হয়ে নিজেকে সাবলম্বী করে গড়ে তুলতে হবে।

চলার পথে অনেক বাধা আসবে। অনেককেই পাশে পাবেন। আবার অনেককেই পথচলার ক্ষেত্রে পাশে পাবেন না। এতে ভেঙে পড়লে চলবে না। থেমে যাওয়া যাবে না। সাহসিকতার সাথে সবসময় এগিয়ে চলতে হবে।