ঢাকা, শুক্রবার ২১, আগস্ট ২০২৬ ২৩:৩৮:৪৯ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
শপথ নিলেন নতুন ৪ মন্ত্রী, ২ প্রতিমন্ত্রী হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেন মির্জা ফখরুল গ্যাস সংকট আর লোডশেডিংয়ে রাজধানীবাসীর ভোগান্তি চরমে সবজির বাজারেও অস্বস্তি, হাঁসফাঁস ক্রেতারা সিআইসির প্রথম নারী ডিজি সেলিনা সুলতানা দাবানল-দাবদাহ, ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে ইউরোপ

দাবানল-দাবদাহ, ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে ইউরোপ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১১:০২ এএম, ২১ আগস্ট ২০২৬ শুক্রবার

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

ইউরোপজুড়ে গ্রীষ্মের দাবদাহ এবং একের পর এক ভয়াবহ দাবানলের ঘটনা উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। সম্প্রতি বেলজিয়ামে ঘটে যাওয়া রেকর্ড ভাঙা দাবানল তারই এক স্পষ্ট উদাহরণ। দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় এই দাবানলে পিটল্যান্ড ও পাইন বনসহ প্রায় ৩ হাজার হেক্টর এলাকা পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। প্রায় ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ছুঁয়ে যাওয়া তীব্র তাপদাহের পরপরই এই অগ্নিকাণ্ডের সূচনা হয়, যার ফলে সীমান্তবর্তী ওয়াইমস ও বুটজেনবাখ এলাকা থেকে অন্তত ৬০০ বাসিন্দা ও পর্যটককে তড়িঘড়ি করে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয় প্রশাসন। দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টায় স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী, পাশাপাশি জার্মানি ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সমন্বিত জরুরি উদ্ধারকারী দল কাজ করে চলেছে। যদিও সাম্প্রতিক বৃষ্টি ও কিছুটা ঠান্ডা আবহাওয়া উদ্ধারকর্মীদের কাজে সামান্য স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে, তবে সংকট এখনো কেটে যায়নি।

বেলজিয়ামের এই ঘটনাটি আসলে সমগ্র উত্তর গোলার্ধজুড়ে ছড়িয়ে পড়া চরম আবহাওয়ার একটি অংশ মাত্র। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার তথ্যমতে, বিশ্বের স্থলভাগ ও সমুদ্রের উপরিভাগের তাপমাত্রা রেকর্ড স্তরে পৌঁছেছে। উত্তর গোলার্ধের বিভিন্ন দেশে তীব্র তাপদাহ, দীর্ঘস্থায়ী খরা এবং বিপজ্জনক দাবানল যেমন নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে উঠেছে, তেমনি অনেক অঞ্চলে আবার আকস্মিক অতিবৃষ্টি ও বন্যা দেখা দিচ্ছে। বায়ুমণ্ডলের এই টানা চরম রূপ নিয়ে আবহাওয়াবিদেরা জানিয়েছেন, দীর্ঘমেয়াদী বৈশ্বিক উষ্ণায়নের সঙ্গে সঙ্গে উত্তর গোলার্ধজুড়ে বিস্তৃত উচ্চ ও নিম্নচাপ ব্যবস্থার স্থায়ী অবস্থানই এর মূল কারণ। এই উচ্চচাপ এলাকাগুলো দীর্ঘ সময় একই জায়গায় আটকে থেকে গরম ও শুষ্ক পরিস্থিতি তৈরি করছে, যা সপ্তাহজুড়ে স্থায়ী হচ্ছে।

এই স্থবির উচ্চচাপ ব্যবস্থার ফলে মাটির আর্দ্রতা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে এবং ইউরোপের প্রধান নদীগুলোর পানির স্তর অস্বাভাবিকভাবে নিচে নেমে গেছে। তাছাড়া দাবানলের কারণে পরিবেশ ও বায়ুমণ্ডলে বায়ুদূষণের মাত্রা বহুগুণ বেড়ে গেছে। ইউরোপের এমন প্রতিকূল পরিস্থিতির পেছনে প্রায়শই বৈশ্বিক জলবায়ু অনুঘটক 'এল নিনো'র ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হলেও জলবায়ু বিজ্ঞানীরা বলছেন ভিন্ন কথা। ইউরোপীয় মহাদেশীয় আবহাওয়ার ওপর প্রশান্ত মহাসাগরের পৃষ্ঠীয় তাপমাত্রার সরাসরি প্রভাব টানা ঠিক নয়। বিশেষজ্ঞরা ব্যাখ্যা করেছেন, এল নিনো বিশ্বজুড়ে প্রভাব ফেললেও ইউরোপের অক্ষাংশে এর প্রভাব অত্যন্ত পরোক্ষ ও তুলনামূলকভাবে দুর্বল। এটি মূলত শীতকালে পশ্চিমা ও দক্ষিণ ইউরোপে কিছুটা মৃদু বা আর্দ্র আবহাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ালেও, গ্রীষ্মকালীন তাপদাহের ওপর এর সরাসরি কোনো বড় হাত নেই।

বাস্তবতা হলো, ইউরোপের চরম গ্রীষ্মকালীন তাপদাহ এবং ক্রমাগত বাড়তে থাকা দাবানলের মূল চালিকাশক্তি হলো স্থানীয় ও কাঠামোগত কারণসমূহ। বায়ুমণ্ডলে আটকে থাকা স্থায়ী উচ্চচাপ, পিটল্যান্ড ও মাটির উপরিভাগের গভীর শুষ্কতা এবং মানুষের কারণে হওয়া দীর্ঘমেয়াদী জলবায়ু পরিবর্তনই এই পরিস্থিতিকে দিন দিন আরও ভয়াবহ করে তুলছে। এল নিনোর মতো প্রাকৃতিক চক্র বিশ্বব্যাপী সাময়িকভাবে তাপমাত্রা কিছুটা বাড়িয়ে দিলেও ইউরোপে তাপদাহ ও দাবানলের মূল জ্বালানি যোগাচ্ছে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও অভ্যন্তরীণ আবহাওয়াগত পরিবর্তনের প্রভাব।

সূত্র: এনডিটিভি