ঢাকা, মঙ্গলবার ২০, অক্টোবর ২০২০ ৮:৩১:৪৯ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
কোভিড-১৯: দেশে আরও ২১ মৃত্যু মাস্ক ব্যবহারে ফের মোবাইল কোর্ট চালানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর এক সপ্তাহেই শিশু ধর্ষণ মামলার রায়, ধর্ষকের আমৃত্যু কারাদণ্ড ৪ কোটি ছাড়াল করোনা আক্রান্তে সংখ্যা, সুস্থ ৩ কোটি কুয়েতে প্রথম ৮ নারী বিচারপতি নিয়োগ

নারীকে একা দাঁড়াতে দিন

লাবণ্য লিপি | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৬:০২ পিএম, ৫ অক্টোবর ২০২০ সোমবার

লাবণ্য লিপি

লাবণ্য লিপি

আপনার একটি কন্যা সন্তান আছে? আপনি তাকে খুব যত্ন করেন। চোখে চোখে রাখেন। স্কুল, কলেজে তাকে একা যেতে দেন না। বাজারে, শপিংয়েও সঙ্গে যান। যা কিছু প্রয়োজন তা আপনি নিজে এনে দেন। শৈশবেই তার মাথার মধ্যে ঢুকিয়ে দেন, এমন পোশাক তুমি পরবে না। লোকে খারাপ বলবে। এমনভাবে কথা বলবে না যেন তোমাকে কেউ মুখরা বলে। আর এ সব কিছুই করেন তাকে ভালোবাসেন বলে। তার ভালো চান বলে! নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এসব করেন আপনি। কিন্তু একবার কি ভেবে দেখেছেন এভাবে কতক্ষণ আপনি তাকে নিরাপদে রাখতে পারবেন? বরং তাকে প্রতিরোধ করতে শেখান। ওকে একা ছাড়ুন। নিজের পায়ে দাঁড়াতে দিন! একা চলতে দিন! কেননা জীবনের অনেকটা পথ ওকে একাই চলতে হবে।

দেশে যখনই কোনো ধর্ষণের ঘটনা ঘটে কিছু লোক বলতে থাকে, ওর পোশাক ঠিক ছিল না। ওর হাঁটাচলায় সমস্যা। একা বাইরে যাবে কেন? রাত করে বাইরে থাকে কেন? কেন বাইরে থাকবে না বলুন তো? প্রয়োজনে তো ও বাইরে থাকবেই। ইচ্ছে করলে সে অপ্রয়োজনেও বাইরে থাকবে। গভীর রাতে একজন নারীর যদি ইচ্ছে করে রাস্তায় হাঁটবে, চাঁদের আলো গায়ে মাখবে, তাতে আপনার সমস্যা কি? আপনারা পুরুষরা হায়েনা না হলেই তো হয়। আপনি তার পোশাকের দিকে তাকাচ্ছেন কেন? আপনার পোশাকের দিকে কে তাকায়? তাহলে নারীকেই কেন ‘আপনাদের’ মতে শালীন পোশাক পরতে হবে? আর যে মেয়েটি হিজাব পরত, যে বোরখা পরত, সেও কি আপনাদের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছিল? কেন সে একা বাইরে যাবে না? তার কি পা নেই? সে কি পথ চেনে না? আপনাদের ভয়ে? পুরুষের? তাহলে কি আপনি মানুষ? নাকি হিংস্র পশু? আক্রমনাত্মক হিংস্র পশুকেও তাড়ানো যায়। কিন্তু আপনাকে যায় না। কারণ আপনি তার চেয়েও নিন্মস্তরের প্রাণী।

আর আপনারা যারা মেয়ের বাবা- মা, অভিভাবক তারা এবার একটু অন্যভাবে ভাবুন। আপনি নিজের মেয়েকে রক্ষা করার সব রকম ব্যবস্থা নেওয়ার পরও কিন্তু সে রক্ষা নাও পেতে পারে। আপনি সব সময়, সারা জীবন তাকে রক্ষা করতে পারবেন না। বরং ওকেই শেখান কীভাবে নিজেকে রক্ষা করতে হয়। শৈশব থেকেই ওকে শেখান কীভাবে ও নিজেকে রক্ষা করবে। ‘মেনে নিও’, ‘মানিয়ে নিও’ আর কত শেখাবেন। এবার শেখান, ফিরিয়ে দিও! নাচ, গান, প্রাইভেট পড়ানো, কত কিছুই তো ওকে শেখান। পাশাপাশি আত্মরক্ষার জন্য ক্যারাটে, জুডো এমনকি স্রেফ মারামারিও শেখাতে পারেন। ওকে শেখান, একটা মারলে কীভাবে দুইটা মারতে হয়। শেখান, কাপড় ধরে টান মারলে কীভাবে বাড়ানো হাত ভেঙে গুড়িয়ে দিতে হয়। স্রেফ বাজে মন্তব্য করলেও কীভাবে কষে একটা চড় দিতে হয়।

বখাটেরা উত্যক্ত করে বলে আপনি আপনার কন্যাকে গণপরিবহণে উঠতে দেন না। বেশি ভাড়া গুণে রিকশা অথবা সিএনজিতে যাতায়াত করাচ্ছেন। কিন্তু কেন? দেশটাকি শুধু ধর্ষকের? আমার, আপনার নয়? আমাদের সন্তানদের নয়? আমরা কেন ওদের এতটা বাড়তে দিচ্ছি? বরং চলুন, ওদের কোণঠাঁসা করি আমরা! মনে রাখবেন, পাল্টা আঘাত করলে অপরাধীও একদিন ভয় পাবে। কারণ তারও প্রাণের ভয় আছে। নিরবে সহ্য না করে যদি আমরা প্রতিবাদ করি, প্রতিঘাত করি, চিহ্নিত করি, তাহলে সেও পিছপা হবে। কেননা তাকেও এই সমাজেই বাস করতে হয়।

‘কেউ এসে আমাদের রক্ষা করবে। আমাদের বাঁচাবে!’ এই ধারণাটা অন্তত আপনার কন্যার মনে বাসা বাঁধতে দেবেন না! ওকে বরং বুঝিয়ে দিন, তোমার নিজেকে তোমাকেই রক্ষা করতে হবে। ওকে ওর দু’পায়ে শক্ত মাটিতে দাঁড়াতে দিন। ওকে শক্ত হতে দিন। কারণ বিপদে পড়লে ওকে কেউ বাঁচাতে আসবে না। আঘাত এলে পাল্টা আঘাত করে নিজেকে বাঁচাতে হবে ওকেই!

লেখক: সাহিত্যিক ও সাংবাদিক