ঢাকা, রবিবার ০৮, মার্চ ২০২৬ ৭:০৭:৫০ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
নারী দিবস খেটে খাওয়া নারীদের কাছে আজও অচেনা আন্তর্জাতিক নারী দিবস আজ থ্যালাসেমিয়া নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা জরুরি: সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী দশম দিনের বইমেলা: ছুটির দিনে বইপ্রেমীদের ভিড় ‘গণতন্ত্রের অদম্য নারী’ সম্মান পাচ্ছেন খালেদা জিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত অনেকেই

নারী দিবসের প্রেরণা: ক্লারা জেটকিনের সংগ্রামী জীবন

জোসেফ সরকার | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১২:৪৫ এএম, ৮ মার্চ ২০২৬ রবিবার

ক্লারা জেটকিন।

ক্লারা জেটকিন।

আন্তর্জাতিক নারী দিবসের ইতিহাসে যাঁর নাম শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারিত হয়, তিনি ক্লারা জেটকিন। নারী অধিকার, শ্রমিক আন্দোলন এবং সমাজতান্ত্রিক রাজনীতির এক দৃঢ় কণ্ঠস্বর ছিলেন তিনি। তাঁর উদ্যোগেই ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালনের প্রস্তাব গৃহীত হয়। যা আজ বিশ্বব্যাপী নারীর অধিকার ও সমতার প্রতীক হয়ে উঠেছে।

১৮৫৭ সালের ৫ জুলাই জার্মানির স্যাক্সনি অঞ্চলের এক ছোট গ্রামে ক্লারা জেটকিনের জন্ম। তাঁর বাবা গটফ্রেড আইজেনার ছিলেন একজন স্কুলশিক্ষক ও দক্ষ বেহালা বাদক। মা জোসেফিন ভেইটালে আইজেনার ছিলেন শিক্ষিত ও প্রগতিশীল নারী। পরিবারে সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক পরিবেশে বেড়ে ওঠা ক্লারা ছোটবেলা থেকেই সাহিত্য ও চিন্তাচর্চার প্রতি আকৃষ্ট হন। বায়রন, ডিকেন্স, শেকসপিয়র, শিলার, গ্যেটে ও হোমারের মতো বিশ্বসাহিত্যের লেখকদের রচনা তাঁর চিন্তাজগৎকে প্রভাবিত করে।

যৌবনেই তিনি শ্রমিক আন্দোলন ও নারী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন। ১৮৭৮ সালে জার্মানির সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক দলে যোগ দেন। তবে সে সময় জার্মান চ্যান্সেলর অট্টো ফন বিসমার্ক সমাজতন্ত্রবিরোধী আইন জারি করলে ক্লারা জেটকিনকে দেশ ছেড়ে যেতে হয়। ১৮৮২ সালে তিনি জুরিখে এবং পরে প্যারিসে নির্বাসিত জীবন শুরু করেন। নির্বাসনে থাকাকালীন তিনি আন্তর্জাতিক সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন।

প্যারিসে থাকাকালীন রাশিয়ান বিপ্লবী ওসিপ জেটকিনকে বিয়ে করেন এবং তাঁর পদবি গ্রহণ করেন। পারিবারিক জীবনের নানা সংকট ও দুঃখ সত্ত্বেও তিনি আন্দোলন ও সংগঠনের কাজ চালিয়ে যান। তাঁদের দুই সন্তান ম্যাক্সিম ও কনস্টান্টিন জন্মগ্রহণ করেন এই সময়ে।

১৮৯১ সালে তিনি নারীদের জন্য ‘ইকুয়ালিটি’ (সমতা) নামে একটি পত্রিকার সম্পাদনা শুরু করেন। দীর্ঘদিন এই পত্রিকার মাধ্যমে শ্রমজীবী নারীদের অধিকার, ভোটাধিকার ও সামাজিক সমতার প্রশ্ন তুলে ধরেন। তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোদ্ধাদের মধ্যে ছিলেন বিপ্লবী নেত্রী রোজা লুক্সেমবুর্গ।

১৯১০ সালে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সমাজতান্ত্রিক নারী সম্মেলনে ক্লারা জেটকিন একটি ঐতিহাসিক প্রস্তাব উত্থাপন করেন—প্রতি বছর ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালন করা হবে। সম্মেলনে উপস্থিত ১৭টি দেশের শতাধিক প্রতিনিধি তাঁর প্রস্তাব সমর্থন করেন। এর পর থেকেই বিশ্বজুড়ে ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত হয়ে আসছে।

রাজনৈতিক জীবনে তিনি জার্মান সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ সংগঠক ছিলেন। তিনি জার্মানির কমিউনিস্ট পার্টি (কেপিডি)–এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে ১৯২০ থেকে ১৯৩৩ সাল পর্যন্ত জার্মান পার্লামেন্ট রাইখস্ট্যাগে প্রতিনিধিত্ব করেন। এই সময় তিনি রুশ বিপ্লবের নেতা ভ্লাদিমির লেনিন–এর একটি বিখ্যাত সাক্ষাৎকারও নেন, যার শিরোনাম ছিল “The Women’s Question”।

১৯৩৩ সালে জার্মানিতে এডলফ হিটলার ক্ষমতায় এলে কমিউনিস্ট পার্টি নিষিদ্ধ হয় এবং ক্লারা জেটকিন সোভিয়েত ইউনিয়নে চলে যান। ১৯৩৩ সালের ২০ জুন মস্কোতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরে তাঁকে ক্রেমলিন প্রাচীরের কাছে সমাহিত করা হয়।

নারীর অধিকার, শ্রমজীবী মানুষের মুক্তি এবং সামাজিক সমতার জন্য আজীবন সংগ্রাম করেছেন ক্লারা জেটকিন। তাঁর চিন্তা ও উদ্যোগেই আন্তর্জাতিক নারী দিবস বিশ্বজুড়ে নারীর সংগ্রাম, অধিকার ও মর্যাদার প্রতীক হয়ে উঠেছে।