ঢাকা, বুধবার ১৮, ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০:০০:৪৫ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
মা-বাবার কবর জিয়ারত করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কাল সচিবালয়ে অফিস করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সুপার এইটে জিম্বাবুয়ে, অস্ট্রেলিয়ার বিদায় বুধবার স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পিছিয়ে পড়া মানুষের উন্নয়নে কাজ করবো: রুমিন ফারহানা শপথ নিলেন ২৫ মন্ত্রী ও ২৪ প্রতিমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর শপথ নিলেন তারেক রহমান

নারী ভোটার: সংখ্যায় প্রায় সমান, প্রত্যাশায় দৃঢ়

জোসেফ সরকার | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৫:৫০ পিএম, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ রবিবার

প্রতীকী ছবি।

প্রতীকী ছবি।

এইবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন; তাতে দেখা যাচ্ছে মোট ভোটারের সংখ্যা প্রায় ১২ কোটি ৭৭ লাখ, যার মধ্যে প্রায় ৬২.৮৮ মিলিয়ন নারী ভোটার রয়েছেন—এটি সমগ্র ভোটারদের প্রায় ৪৯.২%!

নারী ভোটারদের সংখ্যা পুরুষ ভোটারদের প্রায় সমান, এতে নির্বাচনকে একটি গণতান্ত্রিক ও সমানাধিকারপূর্ণ পর্ব হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নারী ভোটারদের ভিন্ন ভিন্ন ভাবনা:

রাজধানী ও জেলা শহর থেকে গ্রাম; সামাজিক ও অর্থনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড যাই হোক না কেন, নারী ভোটারদের মনে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন প্রত্যাশা উঠেছে।

তারা নিজেদের কর্মসংস্থান ও জীবনযাত্রা উন্নয়নের কথা ভাবছেন। ঢাকার উত্তরা বাজরে বিলকিস বানু নামে এক ভোটার বলেন, “আমি চাই আমাদের এলাকার মেয়েরা নিরাপদ কাজ ও আসন পায়; চাকরি, স্কুল, কলেজ সব জায়গায় সুযোগ বাড়ে।”

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সুবিধার কথাও ভাবছেন অনেক নারী ভোটার। এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রামের  নাসিমা সুলতানা নামে একজন কলেজ শিক্ষিকা বলেন,  “আমাদের মেয়েরা আজ স্কুল শেষ করে চাকরি পায় কি পায় না—এ বিষয়টি নিয়ে আমি চিন্তিত।  আমি এমন কাউকে ভোট দেবো যে শিক্ষা, স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করবে।”

আর্থিক নিরাপত্তা ও স্থানীয় উন্নয়ন প্রসঙ্গে রাজশাহীর বাগমারা এক নারী ভোটার দিপ্তি দাস বলেন, “গ্রামে রাস্তা, পানি, টয়লেট—এসব সমস্যা এখনও আছে। আমরা চাই এমন কাউকে ভোট দিতে, যিনি এসব নিয়ে কাজ করবেন।” 

অনেক নারী ভোটার বলেছেন, তারা কেবল প্রতীক বা প্রচারণা শুনে ভোট দেবেন না; বরং তারা যাচাই‑বাছাই করতে চান প্রার্থীর কাজের প্রতিশ্রুতি ও বাস্তব পরিকল্পনা দেখে।

কাকে ভোট দেবেন — ভোটারের বক্তব্য:

ভোটকেরা জানেন—ভোট শুধু একটি লাল বা নীল চিহ্ন নয়; এটি তাদের জীবনের, পরিবার ও সমাজের ভবিষ্যৎ ঠিক করার একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। এই নির্বাচনে নারী ভোটাররা খুলে বলছেন, তারা কাকে ভোট দেবেন, কেন দেবেন এবং কোন ইস্যু তাদের ভোটের সিদ্ধান্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

সিলেট শহরের একজন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী নাম প্রকাশ না করে বলেন,  “আমি এমন কাউকে ভোট দেবো, যিনি আমাদের বাস্তব সমস্যাগুলি বুঝে তাদের সমাধান করবে—জল, রাস্তা, শিক্ষা ও সাহায্য পাবার সুযোগ।” 

খুলনার স্কুল শিক্ষিকা মিলি বাশার বলেন, “আমি চাই মেয়েরা নিরাপদ পরিবেশে কাজে, পড়াশোনায় এগোবে। এটা আমাদের জীবনের বড় আশা।”

জেনি ইফতি খান ঢাকার একটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করছেন। তিনি বলেন, “আমরা জানি আমাদের ভোটের সংখ্যা অনেক; আমাদের অংশগ্রহণই সিদ্ধান্ত গড়ে তুলবে।” 

অনেক নারী ভোটারই বলেছেন তারা ভোট দেবেন বিশ্বাসযোগ্য প্রার্থীকে, যিনি নির্বাচনী ইস্যুগুলিকে শুধুমাত্র রাজনৈতিক বক্তৃতা হিসেবে নয়, বাস্তবে সমাধানের দিক থেকে দেখেন।

নারী ভোটাররা নির্বাচনকে কীভাবে দেখছেন:

নারী ভোটাররা এবার নির্বাচনকে কেবল একটি রাজনৈতিক অনুষ্ঠান হিসেবে দেখছেন না; তারা এটিকে তাদের অধিকার, সমাজে অংশগ্রহণের সুযোগ এবং নিজের জীবন ও পরিবারের ভবিষ্যৎ গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন।

নারী ভোটারদের প্রত্যাশা একেবারেই সমানাধিকার ও বাস্তব উন্নয়নে কেন্দ্রীভূত। তারা ভোটকে শুধুই একটাই দায়িত্ব বলে মনে করছেন না; বরং এটি নিজেদের ভবিষ্যৎ, পরিবারের নিরাপত্তা ও সামাজিক উন্নয়ন হিসেবে দেখছেন।

অনেকের মতে এই নির্বাচন শুধু একটি রাজনৈতিক নাটক নয়—এটি নারীর ক্ষমতায়ন ও সমাজ পরিবর্তনের এক সুযোগ।

এক গবেষণা‑ধাঁচের জরিপেও দেখা গেছে—নারী ভোটারদের বেশিরভাগই উত্তরদায়ী, নীতি‑ভিত্তিক প্রার্থীকে সমর্থন দেবেন, যারা তাদের জীবনমান উন্নয়নের বিষয়ে বাস্তব পরিকল্পনা দেখাতে পারবেন।

চ্যালেঞ্জ ও আশাবাদ:

তবে নারী ভোটারদের মধ্যে কিছু চ্যালেঞ্জও দ্বিতীয় সারিতে এসেছে: রাজনৈতিক নিরাপত্তা ও অশান্তির মধ্যে ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার উদ্বেগ এবং পরিবারের সম্মতি ও সামাজিক বাধা। তবুও অনেক নারী বলছেন—ভোট একটি অধিকার; আমরা সেটি ব্যবহার করবো।

বলিশালের গৃহিণী রিজিয়া আজম বলেন, “আমার ভোট আজ শুধু আমার নয়—এটা আমার মেয়ে, বোন ও সহকর্মীদের ভবিষ্যৎও ঠিক করবে।”

এইবারের নির্বাচন দেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ—কারণ ভোটার তালিকায় নারী ভোটারদের সংখ্যা প্রায় সমান। এবার নারীর অংশগ্রহণ, মনোভাব ও ভোটের ব্যবহারই গঠন করতে পারে দেশের রাজনৈতিক মানচিত্রের নতুন রং।

এটা শুধু একটি ভোট নয়—এটি নারীর সামাজিক শক্তি ও সিদ্ধান্ত‑গ্রহণের নতুন দিক।