ব্যতিক্রমী ‘ক্যাকট্যাস পার্ক’
নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪প্রকাশিত : ০৩:০৫ পিএম, ২২ অক্টোবর ২০২২ শনিবার
ফাইল ছবি
টানা ২৪ বছরে প্রায় ৫০ হাজারেরও বেশি বিভিন্ন প্রজাতির ক্যাকটাস সংগ্রহ করেছেন তহিদুল ইসলাম পেশায় ট্রাফিক সার্জেন্ট (৩৯)। তার স্বপ্ন- এক লাখ ক্যাকটাস দিয়ে গড়বেন ‘ক্যাকটাস পার্ক’।
প্রথমদিকে বাড়ির আশ-পাশের নার্সারি থেকে ক্যাকটাস সংগ্রহ করতেন। এছাড়াও শিক্ষা জীবনে স্কুল-কলেজের শিক্ষা সফর ও বিভিন্ন সময়ে রোভার স্কাউটের ক্যাম্পিং এ গিয়েও ক্যাকটাস সংগ্রহ করতেন তিনি। সবাই যেখানে ঘোরাঘুরিতে ব্যস্ত থাকতেন, সেখানে তহিদুল আশ-পাশের নার্সারিতে গিয়ে খোঁজ করতেন নতুন প্রজাতির ক্যাকটাসের।
শিক্ষা জীবন শেষ করে চাকরির উদ্দেশ্যে ২০১০ সালে তার সংগ্রহের কিছু ক্যাকটাস নিয়ে পাড়ি জমান ঢাকায়। ঢাকার শ্যামলীর ভাড়া বাসাতেই ছাদের উপর শুরু করেন ক্যাকটাসের বাগান।
পরবর্তীতে ২০১৩ সালে রাজশাহীতে কর্মে যোগ দেন। নগরীর রাজপাড়ার কেশবপুর এলাকায় বাসা ভাড়া নেন এবং নতুন করে ক্যাকটাসের বাগান শুরু করেন। ভাড়াবাসার ছাদ, বেলকুনি এবং নিজ কর্মস্থল রাজশাহী ট্রাফিক অফিসের পরিত্যক্ত জায়গায় ক্যাকটাস সংগ্রহ করতে থাকেন তিনি। তবে কিছুদিন পরেই সম্মুখীন হন বিড়ম্বনার। সংগ্রহ ও ক্রসপলিনেশনের মাধ্যমে নতুন জাত তৈরির কারণে বাড়তে থাকা ক্যাকটাসে জায়গার সংকুলান করতে ব্যর্থ হন তিনি। এছাড়াও ভাড়াবাসার ছাদে বিভিন্ন সময় মালিকের নানা আপত্তির কারণেও বিড়ম্বনায় পড়েন তিনি।
এ সময়ে পরিচয় হয় নার্সারি ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেনের সঙ্গে। ইসমাইল আমার সঙ্গে যুক্ত হয়ে একটি ছাদভাড়া নিয়ে ক্যাকটাস বাগান তৈরির প্রস্তাব দেন। ওই সময় ওহাব নামের এক শুভাকাঙ্খী রাজশাহীর সাহেববাজার মুড়িপট্টিতে তার তিনতলা ভবনের পরিত্যক্ত ছাদটি ব্যবহারের জন্য দেন।
তিনি আরো জানান, পরে ওহাব ভাইয়ের ৫০০০ স্কয়ার ফিটের সেই ছাদে নতুন উদ্যোমে শুরু হয় কাজ। জীর্ণশীর্ণ ছাদটি পরিষ্কার করে ক্যাকটাসের জন্য গড়ে তোলা হয় তিনটি শেড। আলোকায়ন, পানি সরবরাহ, বিভিন্ন ধরনের ক্যাকটাসের মিডিয়া তৈরি ও পলিনেশনের কাজ শুরু হয়। ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে ক্যাকটাসের সংগ্রহ। চীন, থাইল্যান্ড, ইন্ডিয়া, ইতালি, গ্রীস, ইউক্রেন, রাশিয়াসহ পৃথিবীর প্রায় ৩৫টিরও বেশি দেশ থেকে ৪০০’র বেশি প্রজাতির ক্যাকটাস সংগ্রহ করি।
এর মধ্যে রয়েছে, অ্যাজটেকিয়াম হিন্টোনি, অ্যাজটেকিয়াম রিটেরি, জিয়োহিন্টোনিয়া ম্যাক্সিকানা, এপিথেলান্থা মাইক্রোমেরিস, মাচুকানা ইয়াঙ্গানুসেনসিস, মাচুকানা পোলজি, অ্যাকান্তক্যালিসিয়াম ব্রেভিস্পিনাম, থেলোক্যাকটাস রিঙ্কোনেসিস, ইচিনোক্যাকটাস হরিজোনথালোনিয়াস, নাভাজোয়া পিবলেসিয়ানা সাব. ফিকিসেনিই, পোলিসিফোরা এসলিফরমিস ও জিমনোক্যালিসিয়াম ম্যাজানেন্স ভার-ফেরক্স বিদেশি জাতের ক্যাকটাস। এছাড়াও বাগানে শোভা পাচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির ইফোরবিয়া, সাকুলেন্ট ও কডেক্স প্লান্ট। পরে সেগুলোর ক্রশপলিনেশনের মাধ্যমে বংশবৃদ্ধির কাজ শুরু করি।
ক্যাকটাস রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচর্যার বিষয়ে তিন বলেন, ক্যাকটাস যেহেতু পানি কম পচ্ছন্দ করে এবং গরম বেশি পছন্দ করে। সেহেতু বর্ষা ও শীত থেকে বাঁচানোর জন্য পলি দ্বারা গ্রিন হাউজ সেড তৈরি করা হয়েছে। ক্যাকটাস লাগানোর জন্য মোটা বালি ও পাতা পঁচা সারের মিশ্রণে বিশেষ ধরনের ক্যাকটাস মিডিয়া তৈরি করা হয়। ক্যাকটাসের কমন রোগ হচ্ছে ‘পচঁনরোগ’। এ থেকে বাঁচানোর জন্য বাড়তি সর্তকতা হিসেবে মাঝে মাঝে বাগানে ফাঙ্গিসাইড স্প্রে ও আগাছা মুক্তকরণসহ পোকামাকড় দূর করতে কীটনাশকের ব্যবহার করা হয়।
সার্জেন্ট তহিদুলের স্বপ্ন সংগৃহীত ক্যাকটাস ও ক্রশ-পলিনেশনে তৈরি ক্যাকটাসের নতুন জাত দিয়ে নিজ এলাকা কুষ্টিয়ায় এক লাখ ক্যাকটাস দিয়ে গড়বেন ‘ক্যাকটাস পার্ক’। বর্তমানে রাজশাহীতে রয়েছে ২০ হাজার ক্যাকটাস ও কুষ্টিয়ায় নিজ বাড়িতে চারটি সেডে রয়েছে প্রায় ৩০ হাজার ক্যাকটাস। ভবিষ্যতে সংগ্রহের সংখ্যাটি আরো দ্বিগুণ করার ইচ্ছে আছে।
তার ইচ্ছে, দেশ-বিদেশ থেকে প্রকৃতিপ্রেমী বিশেষ করে ক্যাকটাসপ্রেমীরা ছুটে আসবেন তার ক্যাকটাস পার্কে। এমন ব্যতিক্রমী স্বপ্ন লালন করে শত কর্মব্যস্ততার মাঝেও এখনো সময় দিচ্ছেন তার ক্যাকটাস বাগানে। পেশাগত দায়িত্ব পালন শেষ হলেই ছুটে আসেন নিজের ক্যাকটাসের কাছে।
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক ও কৃষিবিদ মোজদার হোসেন বলেন, এটি এক ধরনের চমৎকার ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। আমাদের দেশে অনেকেই আছেন যারা ছাদবাগানে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ হাতে নিয়ে নিজের আর্থ-সামাজিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটিয়েছেন। এ ধরনের উদ্যোগকে কৃষিবিভাগ সবসময় সাধুবাদ জানাই। তার যদি কোনো ধরনের কৃষি সাপোর্টের প্রয়োজন পড়ে তবে অবশ্যই আমাদের তরফ থেকে তাকে পুরোপুরি সহযোগিতা করা হবে।
- হাম ও উপসর্গে ৫ শিশুর প্রাণহানী
- বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে ব্যাপক পতন
- রাজধানীজুড়ে মশার দাপট, ডেঙ্গু ঝুঁকিতে ডিএসসিসির ৬৩ ওয়ার্ড
- টেলিভিশনে বিশ্বকাপ সম্প্রচারের স্বত্ব পেল যারা
- যুক্তরাষ্ট্রের ভিসায় নতুন নিয়ম: যে নির্দেশনা দিলো ঢাকার দূতাবাস
- পিকআপের ধাক্কায় মা-ছেলেসহ তিনজন নিহত
- খেলাপি ঋণ অর্থনীতিকে প্রচণ্ড চাপে ফেলছে: ড. ফাহমিদা
- বাস-অটোভ্যান সংঘর্ষে স্বামী-স্ত্রীসহ নিহত ৩
- ফ্রেঞ্চ ওপেনে ইতিহাস গড়ার পথে খয়ালিনস্কা
- অবশেষে ‘খোঁজ’ মিলল দুবাই রাজপরিবারের সাবেক পুত্রবধূর
- ঈদ-পরবর্তী স্বস্তি, তবু মাছের বাজারে আগুন
- আজ দেশের ৮ বিভাগেই বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা
- আবারও দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে যাত্রীবাহী বাস ডুবি
- হাম ও উপসর্গে একদিনে আরও ৪ মৃত্যু
- ৬ নবজাতকের মৃত্যুর দায় আদ্-দ্বীন হাসপাতালের: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
- হাম ও উপসর্গে একদিনে আরও ৪ মৃত্যু
- রামিসা হত্যা মামলা: সোহেল-স্বপ্নার ফাঁসি দাবি রাষ্ট্রপক্ষের
- যেসব জেলায় ঝড় ও বজ্রবৃষ্টি হতে পারে
- শুনানিতে সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্নার উদ্ভট আচরণ, পরে কান্না
- ১৪ বছরের অগাস্টিনার হত্যায় ক্ষোভে ফুঁসছে আর্জেন্টিনা
- রামিসা ধ*র্ষণ-হত্যা মামলার রায় ৭ জুন
- কুয়েত বিমানবন্দরে ড্রোন হামলায় ৪ বাংলাদেশি আহত
- যেসব নতুন নিয়ম দেখা যাবে এবারের বিশ্বকাপে
- সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ: ১০ বছর পর বাংলাদেশ-ভারত ফাইনাল
- খেলাপি ঋণ অর্থনীতিকে প্রচণ্ড চাপে ফেলছে: ড. ফাহমিদা
- ৬ নবজাতকের মৃত্যুর দায় আদ্-দ্বীন হাসপাতালের: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
- অস্বাস্থ্যকর ঢাকার বাতাস, দূষণ তালিকায় ১১
- পিতা-মাতার সুরক্ষা আইন: বাবা-মায়ের ভরসা নাকি কাগুজে অধিকার?
- ‘বেগম’ সম্পাদক নূরজাহান বেগমের জন্মদিন আজ
- বরিশাল জাদুঘর: অবহেলায় ঝুঁকিতে দুই শতকের ঐতিহ্য



