ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৯, জানুয়ারি ২০২৬ ১০:৫৬:২৩ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
এক বছরে ১৭ লাখ শিশুর জন্ম অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচারে হামলা-অপমানে ভাঙছে মাঠপুলিশের মনোবল কোনো দল নিষিদ্ধ করার পক্ষে নন তারেক রহমান ভবিষ্যৎ গড়ে উঠবে প্রযুক্তির হাত ধরেই: প্রধান উপদেষ্টা ‘ডেইরি ফার্ম জাতীয় অর্থনীতির একটি সম্ভাবনাময় খাত’

নারীর অংশগ্রহণ কমে যাওয়া অর্থনীতিতে সতর্ক সংকেত

নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৯:২০ এএম, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ বৃহস্পতিবার

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

শ্রমবাজারে নারীর আর্থিক ক্ষমতায়ন জোরদার করা না গেলে টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সম্ভব নয় বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা। তাঁদের মতে, শ্রমবাজারের কাঠামোগত খণ্ডিতকরণ, অনানুষ্ঠানিকতার বিস্তার, বিনা পারিশ্রমিকের গৃহস্থালি ও পরিচর্যামূলক কাজের চাপ বেড়ে যাওয়ায় শ্রমশক্তিতে নারীর অংশগ্রহণ উদ্বেগজনকভাবে কমে যাচ্ছে। জাতীয় অর্থনীতির জন্য যা একটি গুরুতর নীতিগত সতর্ক সংকেত।

বুধবার বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি ও ইডেন মহিলা কলেজের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‌‘বাংলাদেশে নারীর আর্থিক ক্ষমতায়ন: শ্রমবাজার প্রেক্ষিত’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে তারা এসব কথা বলেন। ইডেন মহিলা কলেজ অডিটোরিয়ামে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়। 

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) ও অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা। তিনি বলেন, গত এক দশকে শ্রমবাজারে নারীর অংশগ্রহণে অগ্রগতি দেখা গেলেও সাম্প্রতিক সময়ে সেই ধারা স্থবির হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে শহরাঞ্চলে নারীর শ্রমবাজারে অংশগ্রহণের হার উদ্বেগজনকভাবে কমছে। দেশের নারীরা প্রধানত কৃষি ও অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত। ব্যবস্থাপনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণমূলক পদে তাদের অংশগ্রহণ খুবই সীমিত। 

তিনি বলেন, শ্রমবাজারের পিতৃতান্ত্রিক কাঠামো, সামাজিক নিয়ন্ত্রণ, গৃহস্থালি ও পরিচর্যামূলক কাজের অতিরিক্ত চাপ, চাইল্ডকেয়ার সুবিধার অভাব এবং কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তাহীনতা নারীর শ্রমবাজার অংশগ্রহণের প্রধান অন্তরায়। নারীর অনানুষ্ঠানিক ও অদৃশ্য শ্রম অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও তা নীতিনির্ধারণ ও জাতীয় আয়ে যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয় না। 

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ত্রৈমাসিক শ্রমশক্তি জরিপের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০২৩ সালের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে নারীর শ্রমশক্তি অংশগ্রহণের হার ছিল ৪৬.৫৯ শতাংশ, যা ২০২৪ সালের একই সময়ে কমে দাঁড়িয়েছে ৪২.৪০ শতাংশে। একই সঙ্গে ২০২৪ সালে মোট নারীর শ্রমশক্তি দুই কোটি ৫৩ লাখ থেকে কমে দুই কোটি ৩৭ লাখে নেমে এসেছে, যা অতিমারি-পরবর্তী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, প্রচলিত পিতৃতান্ত্রিক মানসিকতা ও প্রাতিষ্ঠানিক বাধা দূর করে একটি জেন্ডারবান্ধব শ্রমবাজার কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। তিনি শ্রম আইন সংস্কার, নারীবান্ধব কর্মঘণ্টা, নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থা এবং কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে কঠোর বিধিমালা প্রণয়নের ওপর জোর দেন। পাশাপাশি নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ, বিপণন সহায়তা ও ডিজিটাল প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান। 

অনুষ্ঠানে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, নারীর আর্থিক ক্ষমতায়নের প্রধান বাধা হচ্ছে নারীকে মূলধারার অর্থনীতিতে পূর্ণাঙ্গভাবে অন্তর্ভুক্ত না করা এবং তাদের অবদানকে ভিন্ন দৃষ্টিতে মূল্যায়ন করা। তাঁর মতে, শ্রমবাজারে নারীর অংশগ্রহণ কমা একটি কাঠামোগত সংকটের প্রতিফলন, যা সমন্বিত ও লক্ষ্যভিত্তিক নীতি হস্তক্ষেপ দাবি করে। 

বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সদস্য সচিব ও মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির (এমআরএ) এক্সিকিউটিভ ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচিতে নারীর আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়লেও কেবল ঋণপ্রাপ্তি তাদের জন্য যথেষ্ট নয়। দক্ষতা উন্নয়ন, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং উৎপাদনশীল ও সম্মানজনক কর্মসংস্থান সৃষ্টি না হলে নারীর আর্থিক ক্ষমতায়ন টেকসই হবে না।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের (বিআইডিএস) গবেষণা পরিচালক ড. কাজী ইকবাল বলেন, সামাজিক অনুশাসনে পরিবর্তন, গণমাধ্যমের মাধ্যমে সচেতনতা এবং সহায়ক নীতিমালার মাধ্যমে নারীর শ্রমবাজারে অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো সম্ভব। 

অনুষ্ঠানে ইডেন মহিলা কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সদস্যরা অংশ নেন।