ঢাকা, রবিবার ২৯, মার্চ ২০২৬ ৪:৪১:৫১ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, হত্যার অভিযোগ পরিবারের স্পিকারের স্ত্রীর মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক রাজধানীর আকাশ মেঘাচ্ছন্ন, বৃষ্টির সম্ভাবনা তেলের ডিপোতে বিজিবি মোতায়েন, নজরদারি জোরদার স্পিকার হাফিজ উদ্দিনের সহধর্মিণী মারা গেছেন ডিমের বাজারে অস্থিরতা: পাইকারদের অভিযোগ

‘মৃত্যুপুরী’ দিল্লি, জায়গা কুলাচ্ছে না শ্মশানে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৮:৩৫ পিএম, ২৩ এপ্রিল ২০২১ শুক্রবার

‘মৃত্যুপুরী’ দিল্লি, জায়গা কুলাচ্ছে না শ্মশানে।  ছবি: রয়টার্স।

‘মৃত্যুপুরী’ দিল্লি, জায়গা কুলাচ্ছে না শ্মশানে। ছবি: রয়টার্স।

ঘাতকব্যধি করোনায় ‘মৃত্যুপুরী’তে পরিণত হয়েছে ভারতের রাজধানী দিল্লি। জায়গা কুলাচ্ছে না শ্মশানে। তাই লোকালয়েই গণচিতা তৈরি করা হয়েছে। দিল্লিতে ইতিমধ্যেই করোনায় মৃত্যু ১৩ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।

আজ শুক্রবারই দৈনিক সংক্রমণে ফের রেকর্ড গড়েছে ভারত। এক দিনে নতুন করে দেশে ৩ লক্ষ ৩২ হাজার ৭৩০ জন সংক্রমিত হয়েছেন। এর মধ্যে দিল্লিতেই নতুন করে আক্রান্ত ২৬ হাজার ১৬৯ জন।

বৃহস্পতিবার রাতে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এক দিনে সেখানে ৩০৬ জন করোনা রোগীর মৃত্যু হয়েছে। সেই পরিস্থিতিতেই জনবসতিপূর্ণ এলাকার পাশে বহ্নিমান গণচিতার ওই ছবি সামনে এনেছে সংবাদ সংস্থা রয়টার্স।

তারা জানিয়েছে, শুধু শ্মশানই নয়, রাজধানীর কবরস্থানগুলির অবস্থাও এক। দেহ সমাহিত করার জায়গা পেতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কোভিডে মৃতদের পরিবারকে।

এর আগে গুজরাট, মধ্যপ্রদেশের মতো জেলায় শ্মশানের বাইরে দেহ নিয়ে সারি সারি অ্যাম্বুল্যান্স দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গিয়েছিল। তবে দিল্লিতে পরিস্থিতি এমন পৌঁছেছে যে, শ্মশানের বাইরে লাইনেও জায়গা পাচ্ছেন না অনেকে। বাধ্য হয়ে বাড়িতেই প্রিয়জনের মৃতদেহ রেখে দিতে হচ্ছে।

চিতানির্গত ধোঁয়ায় ঝাপসা হয়ে আসা চোখ মুছতে মুছতে সে কথাই বলছিলেন সীমাপুরীর বাসিন্দা নীতীশ কুমার। তিনি জানান, কোভিডে আক্রান্ত হয়ে দু’দিন আগে তার মা মারা গিয়েছেন। কিন্তু কোনও শ্মশানে মায়ের দেহ দাহ করার জায়গা পাননি তিনি।

বাধ্য হয়ে দু’দিন বাড়িতেই মায়ের দেহ রেখে দিয়েছিলেন নীতীশ। নিজে এ দিক ও দিক চষে বেড়াচ্ছিলেন। কোথায় দাহ করা যায়, জায়গা খুঁজছিলেন। শেষমেশ একটি পার্কিং লটে গড়ে ওঠা অস্থায়ী শ্মশানে মা-কে চিতায় তোলার জায়গা মেলে। বৃহস্পতিবার সেখানেই মা-কে দাহ করেন তিনি। নীতীশ বলেন, ‘‘কোথায় না গিয়েছি। কিন্তু কিছু না কিছু কারণে খালি হাতে ফিরতে হয়েছে। চিতা জ্বালানোর জন্য কাঠ পাওয়া যাচ্ছে না বলেও শুনতে হয়েছে।’’

স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘শহিদ ভগৎ সিংহ সেবা দল’-এর প্রধান জিতেন্দ্র সিংহ শান্টি বলেন, ‘‘দিল্লিতে এমন দৃশ্য দেখতে হবে কেউ ভাবেনি। বাচ্চা বাচ্চা ছেলেমেয়ে, কারও বয়স ৫, কারও ১৫, কারও ২৫। তাদের দাহ করতে হচ্ছে। সদ্য বিবাহিত অনেকের দেহও শ্মশানে আসছে। চোখে দেখা যাচ্ছে না।’’

তিনি জানিয়েছেন, সীমাপুরীর পার্কিং লটে গড়ে ওঠা অস্থায়ী শ্মশানে বৃহস্পতিবার বিকেলে ৬০টি দেহ দাহ করা হয়েছে। জায়গা না পেয়ে পড়েছিল আরও ১৫টি দেহ। কিন্তু গতবছর পরিস্থিতি এতটা ভয়ঙ্কর ছিল না। সংক্রমণ যখন সর্বোচ্চে গিয়ে ঠেকে, সেই সময়ও একদিনে সর্বাধিক ১৮টি দেহ দাহ করতে হাত লাগিয়েছিলেন বলে জানান তিনি।

জিতেন্দ্র জানান, গত মঙ্গলবার একটি শ্মশানে ৭৮টি দেহ দাহ করা হয়েছে। জিতেন্দ্রর মা নিজে এক জন সরকারি স্বাস্থ্যকর্মী। ১০ দিন আগে কোভিডে সংক্রমিত হন তিনি। কিন্তু তা সত্ত্বেও কোনও হাসপাতালে জায়গা হয়নি তার।