ঢাকা, বুধবার ২৪, জুন ২০২৬ ৯:৪৭:০৮ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
এসএসসির ফল প্রকাশ ২০ জুলাই: শিক্ষামন্ত্রী ড্রেসিংরুমে আবেগঘন চিঠি রেখে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়লো ইরান দল ইউরোপজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহ, ফ্রান্সে ২ শিশুর মৃত্যু নিরাপত্তা জোরদারে রাজধানীতে বিজিবি মোতায়েন বিশ্ববাজারে ফের বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন রেকর্ডের মুকুটে মেসি

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আগুন: নারী- শিশুসহ নিহত ৭

নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১২:৫৯ পিএম, ২৩ মার্চ ২০২১ মঙ্গলবার

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারের উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভয়াবহ আগুনে পুড়ে ৭ জন মারা গেছেন বলে রোহিঙ্গারা দাবি করেছেন। তাদের বর্ণনা অনুযায়ী, মৃতদের মধ্যে একজন নারী, তিনজন শিশু ও তিনজন বয়স্ক পুরুষ।

সোমবার (২২ মার্চ) বিকেল ৩টায় উখিয়ার বালুখালী ৮-ডব্লিউ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এ ঘটনা ঘটে। রাত ১১টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহত সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি।

জানা যায়, সোমবারের আগুন থেকে বাঁচতে গিয়ে আহত হয়েছেন অন্তত ২৫ জন। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এখনো তাদের পরিচয় মেলেনি। তবে হতাহতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মঙ্গলবার সকালে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের উখিয়া অংশে নিয়োজিত ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক (পুলিশ সুপার) মো: আতিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, আগুনে তিন শিশুসহ সাতজনের মৃত্যুর খবর এলেও এখনো লাশগুলো দেখিনি।

এদিকে, আগুনে ক্যাম্পের ১০ হাজারের অধিক ঝুপড়ি ঘর ও দোকান পুড়ে গেছে। এছাড়াও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা- এনজিও-এর অফিস, হাসপাতাল, শিক্ষা কেন্দ্র পুড়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

এ সময় ক্যাম্পের ভেতরে স্থানীয়দের পাঁচ শতাধিক ঘর, ১২ শতাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পুড়ে গেছে বলে স্থানীয় লোকজন জানিয়েছে। পুড়ে গেছে দেশী-বিদেশী বিভিন্ন এনজিও অফিস ও পুলিশ ব্যারাক। খবর পেয়ে বিকেল থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের উখিয়া স্টেশন, রামু স্টেশন ও কক্সবাজার স্টেশনের সাতটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ করে। এমনটি জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের উখিয়ার ডিউটি অফিসার মিজানুর রহমান।

সবশেষ রাত ১টার দিকে নিয়ন্ত্রণে এসেছে। আগুনে ক্যাম্পের ৮, ৯, ১০ ও ১১ নম্বরে থাকা ১০ হাজারের বেশি ঘর পুড়ে গেছে। এতে ৪০ হাজার মানুষ গৃহহীন হয়েছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। গৃহহীন এসব রোহিঙ্গা বালুখালী কাশেমিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, ঘুমধুম উচ্চ বিদ্যালয়, টিভি রিলে কেন্দ্র সংলগ্ন ট্রানজিট ক্যাম্প, কুতুপালং, লম্বাশিয়া, মধুরছড়া, ময়নাঘোনা, জামতলী, তাজনিমারখোলা ও শফিউল্লাহ কাটা ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছে।

অনেকে অন্য ক্যাম্পেও আশ্রয় নিয়েছে। এ দিকে আগুনের সময় প্রাণ বাঁচাতে রোহিঙ্গা শিশু ও নারীসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের উদ্দেশে ছোটাছুটি করে। এ সময় অনেক শিশু হারিয়ে গেছে বলে স্বজনরা জানান।

উখিয়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা মো: এমদাদুল হক জানান, অনেক চেষ্টার পর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আগুনে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে- তা বলা মুশকিল। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক।

উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মাঝি মো: হামিদ জানান, আগুনে তার নিয়ন্ত্রণাধীন পাঁচ শতাধিক ঘরসহ এক হাজারেরও বেশি ঝুপড়ি ঘর পুড়ে গেছে। পুড়ে গেছে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সবচেয়ে বড় মার্কেট বালুখালী বলিবাজার। এতে অর্ধশত কোটি টাকা মূল্যের মালামাল পুড়ে গেছে।

এ তিন শিশুসহ সাতজন পুড়ে মারা গেছেন বলেও জানান হামিদ। তার বর্ণনা অনুযায়ী, রাত ১১টা পর্যন্ত উদ্ধার করা হয়েছে মৃতদের লাশ।

কক্সবাজারস্থ অতিরিক্ত ত্রাণ ও শরণার্থী প্রত্যাবাসন কমিশনার মো: সামছু-দৌজা নয়ন জানান, আগুনের কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি।

-জেডসি