ঢাকা, শনিবার ০৭, মার্চ ২০২৬ ২৩:৪১:২৭ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
দশম দিনের বইমেলা: ছুটির দিনে বইপ্রেমীদের ভিড় ‘গণতন্ত্রের অদম্য নারী’ সম্মান পাচ্ছেন খালেদা জিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত অনেকেই ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়েছে কেজিতে ৫০ টাকা ৮ মার্চ পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের ৬ রুটে বিমানের ফ্লাইট বাতিল ঈদযাত্রায় ট্রেনের ১৭ মার্চের টিকিট বিক্রি শুরু ঐতিহাসিক ৭ মার্চ আজ

শিক্ষকের অভাবে পাহাড়ে মাতৃভাষায় শিক্ষা ব্যাহত

রাতুল মাঝি | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০১:২০ এএম, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বুধবার

ছবি: সংগ্রহিত।

ছবি: সংগ্রহিত।

পাহাড়ের বিভিন্ন উপজেলায় শিক্ষার মান সবসময়ই এক ধরনের চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক জরিপ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষকের অভাবের কারণে মাতৃভাষায় শিক্ষার প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে শুধু শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না, বরং তাদের ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ও ঝুঁকিতে পড়ছে।

অধ্যক্ষ ও স্থানীয় শিক্ষকদের বক্তব্য

স্থানীয় বিদ্যালয়গুলোর অধ্যক্ষদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অনেক স্কুলে মাত্র ১–২ জন শিক্ষক থাকেন। আবার অপ্রশিক্ষিত শিক্ষককেই পাঠদান করতে হয়। ফলে ভাষাগত সমন্বয় মেলাতে সমস্যা হয়।
একজন অধ্যক্ষ জানান, “আমাদের কাছে শিক্ষকের সংখ্যা কম। পাশাপাশি যারা আছেন, তারা পাহাড়ি ভাষায় দক্ষ নন। তাই শিক্ষার্থীরা বোঝে না, পড়াশোনা পিছিয়ে যায়।”

শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা

শিশুরা জানান, ক্লাসে তাদের মাতৃভাষায় শিক্ষা দেয়ার ব্যবস্থা নেই। অনেক সময় বাংলা বা অন্য ভাষায় পাঠদান হয়, যা বোঝা কঠিন। ফলে তারা ক্লাসে মনোযোগ দিতে পারেন না, প্রশ্ন করতে দ্বিধা বোধ করেন এবং স্কুলে আসার আগ্রহও কমে।
একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী বলেন, “আমাদের মা-বাবা, ভাই-বোন সবাই আমাদের মাতৃভাষায় কথা বলে। স্কুলে যখন অন্য ভাষায় পড়াই হয়, তখন বোঝা যায় না, তাই অনেক সময় হতাশ লাগে।”

মাতৃভাষায় শিক্ষার গুরুত্ব

জাতিসংঘের শিশু অধিকার সংক্রান্ত কনভেনশন অনুযায়ী, শিশুরা তাদের মাতৃভাষায় শিক্ষালাভের অধিকার রাখে। মাতৃভাষায় শিক্ষা শিশুর শেখার দক্ষতা বাড়ায়, সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত পরিচয় সংরক্ষণ করে। পাহাড়ের এলাকায় যেহেতু স্থানীয় ভাষা ভিন্ন, তাই শিক্ষকের অভাব শিক্ষার্থীদের মৌলিক অধিকারকেই ব্যাহত করছে।

সরকারি পদক্ষেপের অভাব

স্থানীয় প্রশাসন ও শিক্ষা দপ্তর জানাচ্ছে, শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়ায় দেরি ও পাহাড়ের দুর্যোগপূর্ণ অবস্থান সমস্যা তৈরি করছে। অনেকেই যে এলাকায় নিযুক্ত হচ্ছেন, তারা স্থায়ীভাবে সেখানে থাকতে চান না।
একজন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জানান, “শুধু সংখ্যা নয়, শিক্ষককে ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক প্রশিক্ষণও দিতে হবে। পাহাড়ে এক জন ভালো শিক্ষক অনেক শিশুদের জন্য বদল আনতে পারে।”

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রভাব

শিক্ষকের অভাবে মাতৃভাষায় শিক্ষা না পেলে শিশুদের পড়াশোনার মান কমে যাবে। পড়াশোনা বোঝার অভাবে তারা পরীক্ষায় ভালো ফল করতে পারবে না। পাশাপাশি মাতৃভাষার প্রতি আবেগও কমতে পারে। এতে শিশুদের মধ্যে আত্মপরিচয় ও সাংস্কৃতিক চেতনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

স্থানীয়দের আহ্বান

স্থানীয়রা চাইছেন—সরকার দ্রুত শিক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা করবে, মাতৃভাষায় শিক্ষাদানের জন্য প্রশিক্ষণ দেবে, এবং পাহাড়ি এলাকায় স্কুলের অবকাঠামো উন্নত করবে।
একজন অভিভাবক বলেন, “আমাদের সন্তানদের মাতৃভাষায় পড়াশোনা করতে হবে। না হলে তারা শুধু পরীক্ষা ফেলবে না, নিজেদের সংস্কৃতিও হারাবে।”

উপসংহার

পাহাড়ের শিশুদের জন্য মাতৃভাষায় শিক্ষা নিশ্চিত করা শুধু শিক্ষাগত নয়, সাংস্কৃতিক সংরক্ষণেরও বিষয়। শিক্ষক সংখ্যা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ ও সঠিক নীতিমালা গ্রহণ না হলে শিশুদের পড়াশোনা ও পরিচয় দুটোই ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।

শিক্ষার অধিকার বজায় রাখতে, মাতৃভাষায় শিক্ষা প্রদান নিশ্চিত করতে পাহাড়ে শিক্ষক নিয়োগে জরুরি পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান স্থানীয়রা।