‘শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে শত শত তদবির, আগে টাকা দিলেই কাজ হতো’
নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪প্রকাশিত : ০৯:০৬ এএম, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ বৃহস্পতিবার
ছবি: সংগৃহীত
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে তদবির ও অনিয়মের বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছেন সাবেক শিক্ষা উপদেষ্টা ও অর্থনীতিবিদ ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। দায়িত্ব পালনকালের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ে প্রতিদিন শত শত তদবির আসতো। আগে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা দিলেই কাজ হয়ে যেত, মন্ত্রণালয়ে আসারও প্রয়োজন হতো না। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে সবাই সুযোগ পাওয়ার আশায় সরাসরি মন্ত্রণালয়ে হাজির হতেন বলে জানান তিনি।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) অর্থনৈতিক প্রতিবেদকদের সংগঠন ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ এ কথা বলেন। রাজধানীর কারওয়ানবাজারে এই অনুষ্ঠান হয়।
পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, আগের সরকারের ফেলে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে এখনো অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা আছে। এ বছর জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশ হতে পারে। মূল্যস্ফীতি যতটা কমার কথা, ততটা কমেনি।
এ সময় বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অর্থনীতির বিভিন্ন খাতের সমালোচনা করেন ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, গত সরকারের আমলে আপাতদৃষ্টিতে অর্থনীতি ভালো ছিল মনে হয়েছিল। কিন্তু ব্যাংক খাতের পায়ের তলা থেকে মাটি সরে যাচ্ছিল, তা বোঝা যাচ্ছিল। বিপুল অর্থ বিদেশে চলে গেছে। তার মতে, আর্থিক খাতের নিয়মশৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছিল, যা বাজেটের শৃঙ্খলাকে নষ্ট করে।
২০২৪ সালে অভ্যুত্থান না হলেও পরে অভ্যুত্থান হতো—তা বোঝা যাচ্ছিল। যারা এসব (দুর্নীতি, অন্যায়) করেছেন, তারা তা বুঝতে পেরে অর্থনীতিকে আরও ভঙ্গুর করে রেখে গেছেন।
পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, বর্তমানে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। উচ্চ সুদের কারণে নতুন বিনিয়োগে অনীহা বাড়ছে এবং বিদ্যমান উদ্যোক্তারা কার্যক্রম সম্প্রসারণে পিছিয়ে যাচ্ছেন। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছেন। এই অবস্থায় দীর্ঘদিন উচ্চ সুদের হার বহাল থাকলে উৎপাদন, কর্মসংস্থান এবং সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।
ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, সুদ বাড়িয়ে রেখে মূল্যস্ফীতি দ্রুত কমানোর যে ধারণা ছিল, তা বর্তমান বাস্তবতায় আর অতটা কার্যকর নয়। মূল্যস্ফীতি যতটা কমার কথা ছিল, ততটা কমেনি; তবে এর প্রবণতা নিম্নমুখী। পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে মূল্যস্ফীতি ১১ শতাংশ থেকে ৮ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে নামাতেই হবে বা নীতি সুদের হার ১০ শতাংশে ধরে রাখতে হবে—এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।
অর্থনীতির সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরে পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, আগের সরকারের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। শিল্পের কাঁচামাল আমদানি বেড়েছে, রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে এবং বৈদেশিক লেনদেন পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ধীরে ধীরে বাড়ছে। এসব সূচকের ভিত্তিতে চলতি বছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশের কাছাকাছি হতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ব্যাংক খাত নিয়ে কঠোর সমালোচনা করে ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, বিগত সরকারের আমলে আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছিল। ব্যাপক অর্থপাচার ও অব্যবস্থাপনার কারণে ব্যাংক খাত ছিল অত্যন্ত নাজুক অবস্থায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারকে হাজার হাজার কোটি টাকার নোট ছাপাতে হয়েছে।
dhakapost
তিনি জানান, পালিয়ে যাওয়া কিছু ব্যাংক মালিকের কোনো শেয়ার না থাকায় সেখান থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় করা সম্ভব হয়নি। পাশাপাশি প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলারের জ্বালানি আমদানির বকেয়া পরিশোধ করতে হয়েছে। বন্ধ কারখানার শ্রমিকদের মাসের পর মাস মজুরি পরিশোধসহ নানা কারণে সরকারকে বড় ধরনের অদৃশ্য ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে।
বাজেট পরিস্থিতি নিয়ে পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, বর্তমানে যে পরিমাণ রাজস্ব আদায় হচ্ছে, তা মূলত সরকারের পরিচালন ব্যয় মেটাতেই ব্যয় হয়ে যাচ্ছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও উন্নয়ন খাতে ব্যয় করতে হচ্ছে দেশি-বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভর করে। বিদেশি ঋণের একটি বড় অংশ বিদেশি পরামর্শকদের পেছনেই চলে যাওয়ায় এই ধারা দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকিপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি। সে কারণেই অহেতুক বিদেশি পরামর্শকনির্ভর প্রকল্প বাতিল করা হচ্ছে বলে জানান।
দুর্নীতি প্রসঙ্গে ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, বড় বড় দুর্নীতি আগের তুলনায় কমলেও মামলা বাণিজ্য ও বদলি বাণিজ্যের মতো অনিয়ম এখনো বিদ্যমান।
ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান সরকার একটি গণ-অভ্যুত্থান–পরবর্তী প্রত্যাশা পূরণের সরকার হিসেবে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে কাজ করছে। তবে কেবল ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারে না। ভৌত অবকাঠামো দিয়ে কঙ্কাল তৈরি করা যায়, কিন্তু মানবসম্পদ ছাড়া প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার মান নিম্নমুখী থাকায় প্রশাসনিক দক্ষতা কমেছে। যুব সমাজের হতাশা দূর করতে এবং ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড কাজে লাগাতে কারিগরি ও মানসম্মত শিক্ষার বিকল্প নেই।
অনুষ্ঠানে ইআরএফ সদস্যদের সন্তানদের মধ্যে মেধা ও সাধারণ বৃত্তি প্রদান করা হয়। এতে বক্তব্য দেন ইস্ট কোস্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজম জে চৌধুরী এবং ব্র্যাক ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও এসএমই ব্যাংকিং প্রধান সৈয়দ আবদুল মোমেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইআরএফ সভাপতি দৌলত আকতার এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম।
- লম্বা ছুটিতে নাড়ির টানে বাড়ির পথে ছুটছে মানুষ
- ইউসুফ কনফেকশানীর ইফতার: দামে কম, স্বাদে বেশ
- বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসে ড্রোন হামলা, রণক্ষেত্র গ্রিন জোন
- ঈদ বাজার: শেষ সময়ের কেনাকাটায় বেশি ভিড়
- বেশ ফাঁকা রাজধানী: ঈদের ছুটিতে কর্মচাঞ্চল্যহীন ঢাকা
- শেষ সময়ের ঈদ বাজার: গৃহস্থালি পণ্য কিনতে ব্যস্ত ক্রেতারা
- ট্রাকচাপায় শিশুসহ একই পরিবারের ৩ জন নিহত
- কমলাপুরে ব্যাপক ভিড়, অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে ট্রেন ছাড়ছে
- শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা, পাঁচদিনের পূর্বাভাস জেনে নিন
- মধ্যপ্রাচ্য সংকট: শাহজালাল বিমানবন্দরে বাতিল ২৬ ফ্লাইট
- রাজধানী ঢাকার বাতাস আজ ‘অস্বাস্থ্যকর’
- কিশোরগঞ্জে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নারী ও শিশুসহ নিহত ৬
- জাতির পিতার জন্মদিন আজ
- দিলরুবা খানমের একগুচ্ছ রোমান্টিক কবিতা
- উইমেননিউজের প্রধান উপদেষ্টা রিজিয়া মান্নানের মৃত্যুবার্ষিকী আজ
- বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত
- উইমেননিউজের প্রধান উপদেষ্টা রিজিয়া মান্নানের মৃত্যুবার্ষিকী আজ
- আজ দিনাজপুরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
- ৭ বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগ
- দিলরুবা খানমের একগুচ্ছ রোমান্টিক কবিতা
- ঈদে ফিরতি ট্রেনযাত্রা: চতুর্থ দিনের টিকিট বিক্রি শুরু
- অস্কার ২০২৬: তারকাদের ঝলমলে ফ্যাশনে মুখর রেড কার্পেট
- লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় মৃত্যু ৮৫০ ছাড়াল
- ঈদ সামনে, আগেভাগেই ঢাকা ছাড়ছেন ঘরমুখো মানুষ
- এই ঈদে আড়ং জমজমাট, সব শাখায় উপচে পড়া ভিড়
- ঈদে টানা ৭ দিন ছুটি, আজ সরকারি চাকরিজীবীদের শেষ কর্মদিবস
- প্রথমবারের মতো ‘সেজ্জিল ক্ষেপণাস্ত্র’ ছুঁড়ল ইরান
- দুবাই বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল স্থগিত
- ঈদের ছুটিতে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে ১৬ নির্দেশনা
- খাল খননের মাধ্যমে দেশ গড়ার কর্মসূচিতে হাত দিলাম: প্রধানমন্ত্রী




