ঢাকা, শুক্রবার ০৬, ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২১:৪৫:৪১ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
ভেনেজুয়েলায় নির্বাচন এ বছর হতে পারে: মাচাদো দেশে পৌঁছেছে চার লাখ প্রবাসীর পোস্টাল ব্যালট পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবি, সরকারি কর্মচারীরা যমুনার দিকে সিকিমে দফায় দফায় ভূমিকম্প, বাংলাদেশেও অনুভূত একজনের সংস্থা ‘পাশা’ দিচ্ছে ১০ হাজার পর্যবেক্ষক

শ্রীকৃষ্ণের আর্বিভাব তিথি, শুভ জন্মাষ্টমী আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৯:৫৬ এএম, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩ বুধবার

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

শুভ জন্মাষ্টমী আজ বুধবার। সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের আরাধ্য ভগবান শ্রী কৃষ্ণের জন্মদিন। আজ দেশের হিন্দু সম্প্রদায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আনন্দ উৎসবের মধ্য দিয়ে জন্মাষ্টমী পালন করবেন।

সনাতন ধর্মালম্বীদের বিশ্বাস, প্রায় পাঁচ হাজার বছর পূর্বে অশুভ শক্তিকে দমন করে সত্য ও সুন্দরের প্রতিষ্ঠায় ধরাধামে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব ঘটেছিল। তাঁর আবির্ভাব বিশ্বের ইতিহাসে এক নতুন যুগের সূচনা করে। নির্যাতিত নিপীড়িত মানুষকে রক্ষায় তিনি পরিত্রাতার ভূমিকা পালন করেন, অন্ধকার সরিয়ে পৃথিবীকে আলোয় উদ্ভাসিত করেন।

পাশবিক শক্তি যখন ন্যায়নীতি, সত্য ও সুন্দরকে গ্রাস করতে উদ্যত হয়েছিল, তখন সেই শক্তিকে দমন করে মানবজাতির কল্যাণ এবং ন্যায়নীতি প্রতিষ্ঠার জন্য মহাবতার ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব ঘটেছিল। তাদের আরো বিশ্বাস, দুষ্টের দমন করতে এভাবেই যুগে যুগে ভগবান মানুষের মাঝে নেমে আসেন এবং সত্য ও সুন্দরকে প্রতিষ্ঠা করেন।

শ্রীমদ্ভগবদগীতায় জ্ঞানযোগের চতুর্থ অধ্যায়ে সাত ও আট নং শ্লোকে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন, "যখনই ধর্মের অধঃপতন হয় এবং অধর্মের অভ্যূত্থান হয়, তখন আমি নিজেকে প্রকাশ করে অবতীর্ণ হই"। সাধুদের পরিত্রাণ করার জন্য এবং দুষ্কৃতকারীদের বিনাশ করার জন্য এবং ধর্ম সংস্থাপনের জন্য আমি যুগে যুগে অবতীর্ণ হই"।

দ্বাপর যুগ, অসুর দম্ভ আর অশুভ শক্তির কালো ছায়া স্বর্গমর্ত্যে। সেই সময় পাশবিক শক্তির বিনাশ ঘটিয়ে সত্য সুন্দর ও শুভশক্তির উত্থানে ধরাধামে পূর্ণ অবতাররূপে আর্বিভূত হয়েছিলেন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ। বিষ্ণুর অষ্টম অবতার শ্রীকৃষ্ণ। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে শ্রীকৃষ্ণ পরম পুরুষোত্তম, শ্রীমদ্ভগবদগীতার প্রবর্তক শ্রীকৃষ্ণ ঈশ্বর উপাধিতে ভূষিত।

পুরান মতে ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথির রোহিনী নক্ষত্রে অত্যাচারী রাজা কংসের কারাগারে দেবকীর গর্ভে জন্ম শ্রীকৃষ্ণের। শাস্ত্র থেকে জানা যায়, ৩২২৮ খ্রিষ্টপূর্বাব্দের ১৮ অথবা ২১ জুলাই বুধবার ছিলো কৃষ্ণের জন্মদিন। তবে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা তিথি মেনেই প্রত্যেক বছর কৃষ্ণ জন্মাষ্টমী হিসেবে পালন করেন। প্রচলিত আছে, এই দিনে শ্রীকৃষ্ণের আরাধনায় মনের সকল ইচ্ছে পূরণ হয় ভক্তদের।

মথুরার রাজপরিবারের সন্তান শ্রীকৃষ্ণ। যাদববংশীয় বসুদেব ও দেবকীর অষ্টম সন্তান। দেবকীর বাবা উগ্রসেনকে বন্দী করে মথুরার সিংহাসন দখল করেন দেবকীর দাদা কংস। পরবর্তীতে দেবকীর সাথে বসুদেবের বিয়ের পর এক দৈববাণীর মাধ্যমে কংস জানতে পারেন যে দেবকীর গর্ভের অষ্টম সন্তানই হবে তার মৃত্যুর কারণ। নববিবাহিত দম্পতিকে কারারুদ্ধ করেন কংস। এরপর কারাগারেই জন্মের পর ছয় পুত্রকে হত্যা করে কংস। দেবকী তার সপ্তম গর্ভ রোহিনীকে দিলে জন্ম হয় বলরামের আর অষ্টম গর্ভে বিষ্ণুর অবতার হিসেবে জন্ম হয় শ্রীকৃষ্ণের।

কৃষ্ণের জন্মের রাতেই দৈব সহায়তায় কারাগার থেকে বের হন বসুদেব, ভয়াল দুর্যোগ উপেক্ষা করে গোকুলে যশোদা ও নন্দের কাছে রেখে আসেন শ্রীকৃষ্ণকে। যশোদা নন্দন হিসেবে গোকুলে বেড়ে উঠতে থাকা গোপাল বাল্যকালেই রাক্ষসী পুতনাকে বধ করে, কালীয়নাগকে হত্যা, গোবর্ধন ধারণসহ নানা অলৌকিক শক্তির প্রমাণ দিতে থাকে। কংস বধের জন্য প্রস্তুত হতে থাকা শ্রীকৃষ্ণ দিনে দিনে নিপীড়িত মানুষের আশার আলো হয়ে উঠে। চারিদিকে ছড়িয়ে পরে কৃষ্ণনাম, আর মৃত্যুভয়ে তটস্থ হয়ে থাকা কংস নানাভাবে ষড়যন্ত্র করেও শ্রীকৃষ্ণকে হত্যা করতে ব্যর্থ হয়। যৌবনে মথুরায় ফিরে গিয়ে মামা কংসকে বধ করে দৈববানীকে সত্য করেন শ্রীকৃষ্ণ। কংসের পিতা উগ্রসেনকে পুনরায় যাদবকুলের রাজা হিসেবে সিংহাসনে বসান। মথুরার যুবরাজ শ্রীকৃষ্ণের সাথে সেসময় সখ্যতা গড়ে ওঠে অর্জুনসহ কুরু রাজ্যের পান্ডব রাজপুত্রদের। পরবর্তীতে দ্বারকা নগরীতে রাজত্ব স্থাপন করেন শ্রীকৃষ্ণ।

পরবর্তীতে যখন কুরক্ষেত্রের যুদ্ধ অবশ্যম্ভাবী হয়ে ওঠে তখন শ্রীকৃষ্ণ পান্ডব ও কৌরব উভয়পক্ষকে সুযোগ দেন তার কাছে সাহায্য হিসেবে দুটি জিনিসের একটি বেছে নিতে। দুটি জিনিসের মধ্যে একটি ছিলো স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ যিনি যুদ্ধের সময় অস্ত্র হাতে নেবেন না বলে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং অপরটি ছিলো তার নারায়ণী সেনা। পান্ডবদের পক্ষে অস্ত্র ছাড়াই শ্রীকৃষ্ণকে বেছে নেন অর্জুন। কৌরবদের পক্ষে নারায়ণী সেনা গ্রহণ করেন দুর্যোধন। কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে অর্জুনের রথের সারথি ছিলেন কৃষ্ণ, পুরো যুদ্ধের মহানায়ক হিসেবে কৃষ্ণ জ্ঞান দান করে গেছেন অর্জুনকে। শ্রীকৃষ্ণ জানতেন মহাভারতের যুদ্ধ ও পরিণতি। পাণ্ডব ও কৌরবদের মধ্যে শান্তি স্থাপনে উদ্যোগ নিলেও ব্যর্থ হয়েছিলেন দূর্যোধনের দাম্ভিকতা ও কুপ্রচেষ্টার কাছে। প্রতিপক্ষ যখন প্রিয়জন তখন সেই যুদ্ধের রক্তক্ষরণ কুরুক্ষেত্রের সীমানা ছাড়িয়ে পাণ্ডব ও কৌরবদের হৃদয়কে আহত করেছিলো। তবুও মহাভারতের সেই যুদ্ধ ছিলো অনিবার্য। জয়ী হয়েছিলো পাণ্ডবরাই, শ্রীকৃষ্ণ তাদের ন্যায় পাইয়ে দিয়েছিলো। মহাভারতের যুদ্ধ ন্যায়ের যুদ্ধ, ধর্ম প্রতিষ্ঠার যুদ্ধ।

ভগবান শ্রীকৃষ্ণ মানবকুলের শেষ আশ্রয়, অগতির গতি, জগতের গুরু। সকল অন্ধকার দূর করে মঙ্গল প্রতিষ্ঠায় জীবাত্মার বন্ধন সুদৃঢ় করেছেন। গীতার মাধ্যমে দেখিয়েছেন জীবনের দিশা। অর্জুনের মাধ্যমে শ্রীমদ্ভগবদগীতায় আঠার অধ্যায়ে জাগতিক সকল জ্ঞান, কর্ম, ধ্যান, আত্মসংযম, বুদ্ধি, মোহ, মুক্তি, সত্য, ন্যায়-অন্যায়, পাপ, ভক্তি ও মোক্ষলাভসহ জীবনাচরণে প্রতিটি বিষয়ে জ্ঞান দান করেছেন।   গীতার জ্ঞান থেকে মানব আত্মা তার মুক্তির দিশা খুঁজে নেবে নিজ নিজ অবস্থান এবং পরিস্থিতির সাপেক্ষে। যা একই ভাবে বিদ্যমান সেই ইতিহাস সৃষ্টির আদিকাল থেকে। জন্মাষ্টমীর এই পবিত্র তিথীতে পূর্ণ হউক সকলের প্রার্থনা, সকলের মনস্কামনা।

দিনটি ঘিরে নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় সংগঠন। বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনসহ বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেলে সম্প্রচারিত হবে বিশেষ অনুষ্ঠান।

এ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। রাজধানীসহ সারা দেশের বিভিন্ন মন্দিরে পূজা-অর্চনা, তারকব্রহ্ম হরিনাম সংকীর্তন ও তারকব্রহ্ম নামযজ্ঞেরও আয়োজন করেছে হিন্দু সম্প্রদায়। বিভিন্ন মন্দিরের আয়োজকরা জানিয়েছেন, ‘আজ সকালে ষোড়শ উপচারে পূজা শেষ করে প্রসাদ বিতরণ ও ধর্মীয় আলোচনা অনুষ্ঠানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আজ ঢাকেশ্বরী মন্দিরে দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় গীতাযজ্ঞ, ঐতিহাসিক জন্মাষ্টমী মিছিল ও রাতে কৃষ্ণপূজা এবং কাল আলোচনাসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে। আজ ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির থেকে শোভাযাত্রা শুরু হয়ে বাহাদুর শাহ্ পার্কে গিয়ে শেষ হবে। শোভাযাত্রার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে ১০টি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

দুই দিনব্যাপী কর্মসূচি: জন্মাষ্টমী উপলক্ষে মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটি ও বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কেন্দ্রীয়ভাবে দুই দিনব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। আজ সকাল ৮টায় ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গনে দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় গীতাযজ্ঞ, বেলা ৩টায় ঐতিহাসিক কেন্দ্রীয় জন্মাষ্টমী মিছিল এবং রাতে তিথি অনুযায়ী কৃষ্ণ পূজা। জন্মাষ্টমী মিছিল উদ্বোধন করবেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, বিশেষ অতিথি থাকবেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী শ্রী স্বপন ভট্টাচার্য এবং সংসদ সদস্য মোহাম্মদ হাজি সেলিম

আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গণভবনে শুভেচ্ছা বিনিময় হবে। ৮ সেপ্টেম্বর বেলা ৩টায় ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে অনুষ্ঠিত হবে আলোচনাসভা। উদ্বোধন করবেন ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা। প্রধান অতিথি থাকবেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। বিশেষ অতিথি থাকবেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ ফরিদুল হক খান ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া।