ঢাকা, শুক্রবার ১২, জুন ২০২৬ ২২:১৫:৫৬ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
৮৯ দিনে হামে ৬৪৩ শিশুর প্রাণহানী থাই রাজকুমারী দেব্যাভতি মারা গেছেন বাজারে দাম চড়া, ক্রেতাদের ভোগান্তি চলছেই আজ নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু তিন লাল কার্ডের উদ্বোধনী ম্যাচ জিতল মেক্সিকো বাজেটে কমেছে ও বেড়েছে যেসব পণ্যের দাম সরবরাহ স্বাভাবিক, তবু কমছে না আলুর দাম

আজকের বাজারদর: কমেনি স্বস্তি, চড়া দামে নিত্যপণ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৮:০০ পিএম, ১২ জুন ২০২৬ শুক্রবার

ছবি: সংগ্রহিত।

ছবি: সংগ্রহিত।

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে ঈদ-পরবর্তী সময়ে ক্রেতার উপস্থিতি কম থাকলেও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে তেমন স্বস্তি নেই। চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, মাছ, মাংস ও মুরগির বাজারে উচ্চমূল্যের চাপ অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে কাঁচা মরিচ, পেঁপে ও কয়েক ধরনের সবজির দাম বেড়েছে। বাজারে সরবরাহ মোটামুটি স্বাভাবিক থাকলেও সাধারণ ক্রেতারা বলছেন, আয়-ব্যয়ের হিসাব মেলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

চালের বাজার
চালের বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন না থাকলেও দাম এখনও সাধারণ ক্রেতার নাগালের বাইরে।

মোটা চাল (স্বর্ণা) : ৫৮-৬৫ টাকা কেজি
মাঝারি মানের চাল : ৬৮-৭৮ টাকা কেজি
মিনিকেট : ৮০-৯২ টাকা কেজি
নাজিরশাইল : ৯৫-১১০ টাকা কেজি

ব্যবসায়ীরা বলছেন, মিল পর্যায়ে দাম না কমায় খুচরা বাজারেও মূল্য কমছে না।

ডালের বাজার
ডালের দামও উচ্চ পর্যায়েই রয়েছে।

মসুর ডাল : ১২০-১৪০ টাকা কেজি
মুগ ডাল : ১৫০-১৮০ টাকা কেজি
ছোলা : ১০০-১২০ টাকা কেজি
খেসারি : ৮০-৯০ টাকা কেজি

গৃহিণীরা বলছেন, ডাল এখন অনেক পরিবারের জন্য প্রায় বিলাসী পণ্যে পরিণত হয়েছে।

ভোজ্যতেল
বোতলজাত ও খোলা—দুই ধরনের তেলের দামই বেশি।

সয়াবিন তেল (৫ লিটার) : ৯০০-১,০৫০ টাকা
সয়াবিন তেল (প্রতি লিটার) : ১৮০-২১০ টাকা
পাম তেল : ১৫০-১৭০ টাকা লিটার

সবজির বাজার
ঈদের পর সবজির সরবরাহ স্বাভাবিক হলেও কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে।

আলু : ২৫-৩৫ টাকা কেজি
পেঁয়াজ : ৪৫-৬০ টাকা কেজি
বেগুন : ৫০-৭০ টাকা কেজি
করলা : ৬০-৮০ টাকা কেজি
ঢেঁড়স : ৫০-৭০ টাকা কেজি
শসা : ৪০-৬০ টাকা কেজি
পটল : ৫০-৭০ টাকা কেজি
কাঁচা পেঁপে : ৪০-৬০ টাকা কেজি
কাঁচা মরিচ : ১০০-১৫০ টাকা কেজি

বাজার সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, কাঁচা মরিচ ও কাঁচা পেঁপের দাম সম্প্রতি বেড়েছে।

মাছের বাজার
নদী ও চাষের মাছের দাম এখনও চড়া।

রুই : ৩২০-৪৮০ টাকা কেজি
কাতলা : ৩৫০-৫৫০ টাকা কেজি
পাঙ্গাস : ১৮০-২৪০ টাকা কেজি
তেলাপিয়া : ২০০-২৫০ টাকা কেজি
কৈ : ৩০০-৪৫০ টাকা কেজি
শিং : ৪৫০-৬০০ টাকা কেজি
ইলিশ : ১,২০০-২,৫০০ টাকা কেজি
গরু ও খাসির মাংস

কোরবানির ঈদের পর গরুর মাংসের বাজারে কিছুটা স্থিতি এলেও দাম এখনও বেশি।

গরুর মাংস : ৭৫০-৮৫০ টাকা কেজি
খাসির মাংস : ১,১০০-১,৩০০ টাকা কেজি
মুরগির বাজার

মুরগির বাজারে কিছুটা ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে।

ব্রয়লার : ১৮০-২০০ টাকা কেজি
সোনালি : ৩৬০-৩৯০ টাকা কেজি
লেয়ার মুরগি : ৩৮০-৪২০ টাকা কেজি

ঈদের পর সোনালি মুরগির দাম কেজিতে প্রায় ৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।

ডিমের বাজার
লাল ডিম (ডজন) : ১৪০-১৬০ টাকা
সাদা ডিম (ডজন) : ১৩৫-১৫৫ টাকা

ফলের বাজার
গ্রীষ্মকালীন ফলে এখন ভরপুর বাজার।

দেশি আম : ৮০-২০০ টাকা কেজি
লিচু : ১০০-৩০০ টাকা প্রতি ১০০টি
তরমুজ : ৪০-৬০ টাকা কেজি
আনারস : ৮০-১৫০ টাকা পিস
কলা : ৪০-৮০ টাকা হালি

বাজারের সার্বিক চিত্র
ঈদের ছুটি শেষে রাজধানীতে ক্রেতা এখনও তুলনামূলক কম। কিন্তু চাহিদা কমলেও দাম কমার লক্ষণ নেই। চাল, ডাল, তেল, মাছ ও মাংসের উচ্চমূল্যের কারণে সবচেয়ে বেশি চাপে রয়েছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবার। অনেকেই প্রয়োজনীয় পণ্যের তালিকা ছোট করতে বাধ্য হচ্ছেন। বাজারে ক্রেতা কম থাকলেও অধিকাংশ পণ্যের দাম চড়া থাকায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি অব্যাহত রয়েছে।

বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি এবং কার্যকর বাজার তদারকি ছাড়া অদূর ভবিষ্যতে নিত্যপণ্যের দামে বড় ধরনের স্বস্তি পাওয়ার সম্ভাবনা কম।