ঢাকা, রবিবার ০৮, মার্চ ২০২৬ ০:২৩:৫০ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
আন্তর্জাতিক নারী দিবস আজ থ্যালাসেমিয়া নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা জরুরি: সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী দশম দিনের বইমেলা: ছুটির দিনে বইপ্রেমীদের ভিড় ‘গণতন্ত্রের অদম্য নারী’ সম্মান পাচ্ছেন খালেদা জিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত অনেকেই

সেহেরিতে ডাকতে আসা: ঐতিহ্য, ইতিহাস ও পরিবর্তনের গল্প

অনু সরকার | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০১:০০ পিএম, ১ মার্চ ২০২৬ রবিবার

ছবি: সংগ্রহিত।

ছবি: সংগ্রহিত।

রমজান মাস এলেই গভীর রাতে মহল্লায় মহল্লায় শোনা যায় মানুষের কণ্ঠ—“ওঠো মুসলমান, সেহেরির সময় হইছে।” সেহেরির সময় মানুষকে জাগিয়ে দেওয়ার এই প্রথা এখনো কিছু এলাকায় টিকে থাকলেও এর শিকড় প্রোথিত রয়েছে বহু শতাব্দী আগের ইতিহাসে।

ইতিহাসবিদদের মতে, ইসলামের প্রাথমিক যুগে ঘড়ি বা সময় নির্ণয়ের আধুনিক ব্যবস্থা না থাকায় মানুষকে সেহেরির সময় জানাতে বিশেষভাবে লোক নিয়োগ করা হতো। আরব বিশ্বে এদের বলা হতো ‘মিসাহরাতি’। পরবর্তীতে মুসলিম শাসনামলে এ প্রথা ভারতীয় উপমহাদেশে ছড়িয়ে পড়ে।

বাংলায় সুলতানি ও মোগল আমলে শহর ও বন্দরকেন্দ্রিক এলাকায় সেহেরির ডাক দেওয়ার রীতি চালু হয়। তখন ঢোল, কাঁসর বা কণ্ঠস্বরের মাধ্যমে ঘরে ঘরে জানিয়ে দেওয়া হতো সেহেরির সময়। এ কাজ সাধারণত করতেন মসজিদের খাদেম, দরিদ্র মানুষ কিংবা এলাকার তরুণরা।

সেহেরির ডাক দেওয়া ধর্মীয় বিধান নয়, বরং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রথা হিসেবে গড়ে ওঠে। রমজান শেষে ঈদের আগে এলাকাবাসী চাল, খাবার বা অর্থ দিয়ে তাদের সম্মান জানাতেন। এতে এক ধরনের সামাজিক বন্ধন তৈরি হতো।

তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই ঐতিহ্য বিলুপ্তির পথে। মোবাইল ফোনের অ্যালার্ম, ডিজিটাল ঘড়ি এবং মসজিদের মাইকের কারণে এখন মানুষ নিজেই সময় জেনে সেহেরির প্রস্তুতি নিতে পারছে। ফলে শহরের অনেক এলাকায় আর সেহেরির ডাক শোনা যায় না।

তবুও পুরোনো ঢাকার কিছু মহল্লা ও গ্রামাঞ্চলে এখনো দেখা যায় এই প্রথার ধারাবাহিকতা। এলাকাবাসীর মতে, এটি শুধু মানুষকে জাগিয়ে তোলার কাজ নয়, বরং রমজানের আবহ তৈরি করার একটি ঐতিহ্যবাহী অনুষঙ্গ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সেহেরির ডাক দেওয়ার এই রীতি আমাদের নগরজীবনের একটি ঐতিহাসিক স্মৃতি। আধুনিক প্রযুক্তির ভিড়ে হারিয়ে যেতে বসা এই প্রথা রমজানের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক চেহারাকে আলাদা বৈশিষ্ট্য দিয়েছে।