ঢাকা, শুক্রবার ২৬, জুন ২০২৬ ২৩:৩৭:৩৮ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
ভেনেজুয়েলার ধ্বংসস্তূপ থেকে অলৌকিকভাবে উদ্ধার জীবিত নারী! চীন সফর শেষে দেশে ফিরলেন প্রধানমন্ত্রী গ্রুপসেরা হওয়ার লক্ষ্যে রাতে এমবাপ্পে-হাল্যান্ড লড়াই দেশে হাম আক্রান্ত হয়ে শিশু মৃত্যু ৭০০ ছাড়ালো সন্তানকে নিয়ে ইইউ বৈঠকে সুইডিশ মন্ত্রী, গড়লেন নজির নারী টি-২০ বিশ্বকাপ: ভারতের কাছে বাংলাদেশের হার হজ শেষে ফিরেছেন ৬৬১৭৪ বাংলাদেশি, মৃত্যু ৫৫ নকআউটে প্রতিপক্ষ হিসেবে কোন দলকে পেল ব্রাজিল, খেলা কবে? শহীদ জননী জাহানারা ইমামের মৃত্যুদিবস আজ

স্বজনের অপেক্ষায় তোসিফ, ঠাঁই মিলল সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে

নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৮:১৬ পিএম, ২৬ জুন ২০২৬ শুক্রবার

ছবি: সংগ্রহিত।

ছবি: সংগ্রহিত।

মাত্র ছয় বছরের শিশু তোসিফ। নিজের নাম, বাবার নাম শরীফ, মায়ের নাম লাইজু এবং বাড়ি নোয়াখালীর হাতিয়ায়—এটুকুই বলতে পারে সে। কিন্তু কীভাবে রাজধানী ঢাকায় এল, কার সঙ্গে ছিল কিংবা কীভাবে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হলো—এসব প্রশ্নের কোনো উত্তর দিতে পারে না অবুঝ শিশুটি।

টানা দুই দিন পরিবার-স্বজনের খোঁজে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়েও কোনো সন্ধান না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন মিরপুরের সরকারি শিশু আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে তোসিফকে। আপাতত সেখানেই কাটছে তার দিন।

খিলক্ষেত থানা সূত্র জানায়, গত ২৪ জুন সকালে খিলক্ষেত এলাকার একটি সড়কে শিশুটিকে একা ঘুরে বেড়াতে দেখে সন্দেহ হয় এক পথচারীর। পরে তিনি মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে খিলক্ষেত থানায় নিয়ে যান।

থানায় নিয়ে আসার পর নারী ও শিশু ডেস্কের সদস্যরা তোসিফকে স্নেহ-যত্নে রাখেন। অচেনা পরিবেশে ভীত-সন্ত্রস্ত শিশুটি কখনো চুপচাপ বসে থাকে, আবার কখনো ঘুমিয়ে পড়ে। পুলিশের ভাষ্য, এত ছোট একটি শিশুর অসহায় মুখ দেখে থানার সদস্যরাও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

শিশুটির দেওয়া সীমিত তথ্যের ভিত্তিতে তার পরিবারের সন্ধান শুরু হয়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সামাজিক সংগঠনের সহযোগিতায় তোসিফের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। ঢাকা মহানগর পুলিশের কন্ট্রোল রুম থেকেও দেশের বিভিন্ন থানায় বার্তা পাঠানো হয়।

কিন্তু সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়। নোয়াখালীর হাতিয়া কিংবা রাজধানীর কোথাও থেকে শিশুটিকে নিজেদের সন্তান বলে দাবি করে কেউ যোগাযোগ করেনি।

পরিবারের সন্ধান না মেলায় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ২৫ জুন শিশুটিকে মিরপুরের সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠানো হয়, যেখানে আপাতত তার নিরাপত্তা ও লালন-পালনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

খিলক্ষেত থানা পুলিশ জানিয়েছে, শিশুটির পরিবারের সন্ধান পাওয়ার আশা তারা এখনো ছাড়েনি। কেউ যদি তোসিফকে চিনে থাকেন বা তার পরিবার সম্পর্কে কোনো তথ্য জানেন, তাহলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

একটি ভুলে যাওয়া পথ, একটি হারিয়ে যাওয়া শিশু আর অসহায় অপেক্ষা—তোসিফের গল্প যেন শুধু একটি পরিবারের নয়, সমাজেরও দায়বদ্ধতার প্রশ্ন তুলে ধরে। হয়তো একটি তথ্য, একটি ফোনকল কিংবা একটি পরিচিত মুখই ফিরিয়ে দিতে পারে শিশুটিকে তার আপন ঠিকানায়, মায়ের স্নেহের কোলে।