ঢাকা, শুক্রবার ০৬, মার্চ ২০২৬ ৪:৪৪:৪৬ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
ভাষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র খোলার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর খালেদা জিয়াসহ ২০ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান পাচ্ছে স্বাধীনতা পুরস্কার দেশে ফিরলেন দুবাইয়ে আটকে পড়া ১৮৯ বাংলাদেশি টানা ৭ দিনের ছুটিতে যাচ্ছে দেশ, ১৬ মার্চ শুরু রাজধানী ঢাকার আকাশ আজ মেঘলা থাকতে পারে ঈদযাত্রায় ট্রেনের তৃতীয় দিনের টিকিট বিক্রি শুরু

ইবি শিক্ষিকাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা, কর্মচারীর আত্মহত্যার চেষ্টা

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৯:৫৬ এএম, ৫ মার্চ ২০২৬ বৃহস্পতিবার

কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়-এর সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা

কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়-এর সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা

কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়-এর সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা নিজ দপ্তরে ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন। একই কক্ষে অভিযুক্ত কর্মচারী ফজলুর রহমানকে আত্মহত্যার চেষ্টা করতে দেখা যায়।

বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদের সমাজকল্যাণ বিভাগে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। এতে পুরো ক্যাম্পাসে শোক ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।

খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানাপুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে রক্তাক্ত অবস্থায় শিক্ষক ও কর্মচারীকে উদ্ধার করে। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাদের কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আসমা সাদিয়া রুনাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত শিক্ষিকার স্বামী ইমতিয়াজ পারভেজ কুষ্টিয়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ইংরেজি বিভাগের ইনস্ট্রাক্টর। কুষ্টিয়া শহরের কোর্টপাড়া এলাকায় তাঁদের বাসা। তাঁদের সংসারে চার সন্তান—তাইবা, তাবাসসুম, সাজিদ ও আয়েশা। বড় মেয়ের বয়স ৯ বছর এবং ছোট সন্তানের বয়স মাত্র ১ বছর।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এক শিক্ষার্থী জানান, বুধবার সমাজকল্যাণ বিভাগে ইফতার মাহফিলের আয়োজন ছিল। পরীক্ষা শেষে শিক্ষার্থীরা কক্ষ গোছাচ্ছিলেন। ওই সময় শিক্ষিকা নিজের কক্ষে ছিলেন। হঠাৎ কক্ষের ভেতর থেকে ‘বাঁচাও বাঁচাও’ চিৎকার শোনা যায়। পরে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে দেখা যায়, শিক্ষিকা রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন এবং অভিযুক্ত কর্মচারী নিজের গলা কাটার চেষ্টা করছেন।

খবর পেয়ে পুলিশ, প্রক্টর ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। আহত অবস্থায় দুজনকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক শিক্ষিকাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত ফজলুর রহমান আগে সমাজকল্যাণ বিভাগে কর্মরত ছিলেন। অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগে তাঁকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে বদলি করা হয়। বদলি মেনে নিতে না পেরে তিনি পুনরায় সমাজকল্যাণ বিভাগে ফিরতে বিভাগের সভাপতির কাছে অনুরোধ করেন। এতে সম্মতি না পাওয়ায় ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকেই এ হামলা চালিয়ে থাকতে পারেন বলে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর শাহীনুজ্জামান জানান, এক আনসার সদস্য ও তিন শিক্ষার্থী চিৎকার শুনে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। তখন শিক্ষকের নিথর দেহ পড়ে ছিল এবং কর্মচারী সামান্য নড়াচড়া করছিলেন। পরে দুজনকে দ্রুত কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

স্ত্রীর মৃত্যুসংবাদ শুনে হাসপাতালে গিয়ে অচেতন হয়ে পড়েন স্বামী ইমতিয়াজ পারভেজ। তাঁকে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এ সময় স্বজনদের কান্নায় হাসপাতালের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। মায়ের মরদেহের পাশে দাঁড়িয়ে দুই কন্যা বারবার বলতে থাকে, “আম্মু কই, আম্মু কই, আমি আমার আম্মুর কাছে যাব।”

কুষ্টিয়া জেলার পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন জানান, ঘটনার তদন্ত চলছে। শিক্ষকের কক্ষে এবং করিডরে কোনো সিসি ক্যামেরা নেই। তবে ভবনের নিচতলার ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে।

ঘটনাস্থল থেকে জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ফয়সাল মাহমুদ বলেন, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দুটি ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া একাধিক আলামত জব্দ করা হয়েছে। ক্রাইম সিন ইউনিটসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে কাজ করছেন।

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের এক চিকিৎসক জানান, শিক্ষিকাকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। ইসিজির মাধ্যমে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও ছুরিকাঘাতেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।