ঢাকা, মঙ্গলবার ০৩, মার্চ ২০২৬ ৪:৫৩:১১ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় আহত খামেনির স্ত্রীও মারা গেলেন ঈদযাত্রায় ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু আজ সকাল থেকে বাংলাদেশের ‘মিশন অস্ট্রেলিয়া’ শুরু আজ সন্ধ্যায় একুশে বইমেলা: পঞ্চম দিনেও ফাঁকা, হতাশ বিক্রেতারা মধ্যপ্রাচ্য হামলায় ২ বাংলাদেশি নিহত, আহত ৭

এই রাজধানীতে জমজমাট ইফতার বাজার

জোসেফ সরকার | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১১:১৯ পিএম, ২ মার্চ ২০২৬ সোমবার

ছবি: সংগ্রহিত।

ছবি: সংগ্রহিত।

বিকেল গড়াতেই শহরের রাস্তাগুলো যেন রূপ বদলে ফেলে। যেখানে সারাদিন শুধু গাড়ির শব্দ আর মানুষের তাড়া, সেখানে হঠাৎ জন্ম নেয় আরেকটি শহর—ইফতার বাজার। বড় হাঁড়িতে ফুটতে থাকা ছোলার বাষ্প, তেলে ভাজা বেগুনির টসটসে শব্দ, পেঁয়াজুর সুবাস আর জিলাপির মিষ্টি গন্ধ মিলিয়ে চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে এক অদ্ভুত উৎসবের আবহ।

রোজার মাসে এই ইফতার বাজার কেবল খাবার কেনাবেচার জায়গা নয়, এটি হয়ে ওঠে মানুষের মিলনমেলা।

হাঁড়ির পাশে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা

ফুটপাতে সারি সারি দোকান। কোথাও কাঠের চুলায় বড় কড়াই বসানো, কোথাও গ্যাসের চুলায় একটার পর একটা পেঁয়াজু উঠছে। বিক্রেতার হাত যেন থামে না—এক হাতে খুন্তি, অন্য হাতে কাগজের ঠোঙা।
“ভাই, আধা কেজি পেঁয়াজু দেন।”
“আপু, বেগুনি গরম আছে?”
এমন ডাকে-ডাকে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

একজন বিক্রেতা হাসতে হাসতে বলেন, “এই এক মাসেই আমাদের বছরের বড় রোজগার। বিকেল থেকে মাগরিব পর্যন্ত নিঃশ্বাস ফেলার সময় নেই।”

ক্রেতাদের ভিড়, সময়ের তাড়া

অফিসফেরত মানুষ, স্কুল-কলেজপড়ুয়া, রিকশাচালক, গৃহিণী—সবাই একসঙ্গে দাঁড়িয়ে লাইনে। হাতে ঘড়ি, চোখে উদ্বেগ—ইফতারির ব্যাগ হাতে নিয়ে যেন সবাই সময়ের সঙ্গে দৌড়াচ্ছে।
একজন চাকরিজীবী বলেন, “বাড়িতে ইফতার বানানোর সময় পাই না। তাই বাজার থেকেই নিয়ে যাই। এখানে সব একসঙ্গে পাওয়া যায়।”

আরেকজন গৃহিণীর কথা, “বাচ্চারা পেঁয়াজু আর জিলাপি ছাড়া ইফতার মানেই না। তাই রোজই আসতে হয়।”

রঙিন খাবারের সারি

ছোলা-মুড়ি, আলুর চপ, বেগুনি, পেঁয়াজু, ডিমচপ, হালিম, খেজুর, শরবত, জিলাপি—ইফতার বাজারের তালিকা যেন শেষই হয় না। কোথাও বড় হাঁড়িতে হালিম নেড়ে দেওয়া হচ্ছে, কোথাও লেবু-শসা কেটে সাজানো হচ্ছে প্লেটে।
এই বাজারে শুধু পেটের খোরাক নয়, চোখেরও উৎসব।

দরদাম আর বাস্তবতা

ভিড় যতই থাকুক, অনেক ক্রেতার কপালে চিন্তার ভাঁজ। কেউ দাম জেনে চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকেন, কেউ অল্প করে কিনে নেন।
একজন তরুণ বলেন, “আগের চেয়ে দাম একটু বেশি। তাই সব কিনতে পারছি না, হিসাব করে নিচ্ছি।”

অন্যদিকে বিক্রেতারাও বলেন, “তেলের দাম, ডালের দাম—সবই বেড়েছে। তাই আমাদেরও দাম বাড়াতে হয়েছে।”

ইফতারের আগে শেষ মুহূর্ত

মাগরিবের আজান ঘনিয়ে এলে বাজারে তাড়াহুড়ো আরও বাড়ে। হাতে হাতে প্যাকেট বদলায়। কেউ দৌড়ে রিকশায় ওঠে, কেউ ব্যাগ সামলে রাস্তা পার হয়। আজানের ধ্বনি ভেসে আসতেই হঠাৎ থেমে যায় সেই ব্যস্ততা। মুহূর্তেই যেন বাজার থেকে ছড়িয়ে পড়ে শান্তির আবহ।

শুধু বাজার নয়, রমজানের চিত্র

ইফতার বাজার আসলে রমজানেরই আরেকটি রূপ। এখানে আছে ক্ষুধা, আছে তাড়া, আছে মানুষের ভিড়, আবার আছে ভাগাভাগির আনন্দ।
কেউ দুই প্যাকেট কিনে নেয়, এক প্যাকেট রেখে দেয় পথের শিশুটির হাতে। কেউ বাড়তি শরবত নিয়ে যায় পাশের বাসার জন্য।

এই বাজার তাই শুধু কেনাবেচার জায়গা নয়—এটি শহরের হৃদস্পন্দন।
রমজান এলেই যে শহর নতুন করে জেগে ওঠে, তার সবচেয়ে জীবন্ত প্রমাণ এই জমজমাট ইফতার বাজার।