ঢাকা, শনিবার ২৮, ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ৪:৩৯:১৪ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
দ্বিতীয় দিনে বইমেলায় ভিড় নেই, কাজ চলছে স্টলে স্টলে ধানমন্ডিতে ঝটিকা মিছিল, মহিলা আ. লীগের সাত নেতাকর্মী গ্রেফতার ছুটির দিনে জমজমাট রাজধানীর ঈদের বাজার ইলিশ উৎপাদন বাড়াতে দুই মাস নদীতে মাছ ধরা নিষেধ রাজধানীসহ দেশের নানা স্থানে ফের ভূমিকম্প অনুভূত

একুশে বইমেলা: ছুটির দিনে জমার প্রত্যাশা

অনু সরকার | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৩:১২ পিএম, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ শুক্রবার

ছবি: সংগ্রহিত।

ছবি: সংগ্রহিত।

কয়েক দফা তারিখ পরিবর্তন এবং প্রকাশকদের বিভক্তি কাটিয়ে শুরু হলেও স্টল নির্মাণ ও সাজানোর কাজের মধ্যেই কেটেছে অমর একুশে বইমেলার প্রথম দিন। কোথাও হাতুড়ির শব্দ, কোথাও বিদ্যুৎ সংযোগের কাজ, আবার কোথাও রঙের গন্ধ—এমন দৃশ্যের মধ্যেই বইয়ের কার্টন খুলে সাজাতে ব্যস্ত ছিলেন প্রকাশনা সংস্থার কর্মীরা।

তবে দ্বিতীয় দিনটি শুক্রবার হওয়ায় ছুটির দিনে মেলা জমে উঠবে বলে প্রত্যাশা প্রকাশ করেছেন প্রকাশকরা।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৃহস্পতিবার দুপুরে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ‘অমর একুশে বইমেলা ২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এরপরই সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় মেলা প্রাঙ্গণ। প্রথম দিনের জনসমাগম নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করলেও অনেক স্টলের নির্মাণকাজ তখনো শেষ হয়নি।

মেলার মাঠ ঘুরে দেখা যায়, কোথাও বিদ্যুৎ সংযোগ বসানো হচ্ছে, কোথাও স্টলের কাঠামোয় শেষ মুহূর্তের হাতুড়ির কাজ চলছে। এর মধ্যেই কয়েকটি স্টলে বইয়ের কার্টন খুলে দ্রুত সাজিয়ে তুলছেন কর্মীরা।

এবারের বইমেলার প্রতিপাদ্য—‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’। আগের বছরের মতো এবারও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণজুড়ে মেলার আয়োজন করা হয়েছে।

মেলায় অংশ নিচ্ছে মোট ৫৪৯টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ৮১টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৪৬৮টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের স্টল রয়েছে। মোট ইউনিট সংখ্যা ১ হাজার ১৮টি। গত বছর অংশ নিয়েছিল ৭০৮টি প্রতিষ্ঠান এবং ইউনিট ছিল ১ হাজার ৮৪টি। সে হিসাবে এবছর অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কমেছে।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের উন্মুক্ত মঞ্চসংলগ্ন গাছতলায় লিটল ম্যাগাজিন চত্বর করা হয়েছে। সেখানে ৮৭টি লিটল ম্যাগাজিনের স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শিশুচত্বরে ৬৩টি প্রতিষ্ঠানের জন্য ১০৭টি ইউনিট রয়েছে।

মেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব সেলিম রেজা বলেন, “এবার বইমেলার বিন্যাস মোটামুটি গতবারের মতোই রাখা হয়েছে, তবে কিছু আঙ্গিকগত পরিবর্তন আনা হয়েছে। রোজার মাস হওয়ায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে মুসল্লিদের জন্য তারাবির নামাজের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।”

বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির পরিচালক ফিরোজ শেখ **বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম**কে বলেন,
“এবার মেলা নিয়ে কিছু জটিলতার কারণে প্রকাশনা সংস্থাগুলো দেরিতে স্টল সাজাতে শুরু করেছে। তবে প্রস্তুতি মোটামুটি সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার থেকেই পুরোদমে মেলা জমে উঠবে বলে আশা করছি।”

শুক্রবার দিনব্যাপী মেলা

ছুটির দিন হওয়ায় শুক্রবার বইমেলা শুরু হবে সকাল ১১টায় এবং চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত থাকবে ‘শিশুপ্রহর’।

সকাল সাড়ে ৯টায় বইমেলা প্রাঙ্গণে শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং সকাল সাড়ে ১০টায় মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে শিশু-কিশোর আবৃত্তি প্রতিযোগিতার প্রাথমিক পর্ব।

দুপুর ৩টায় মূল মঞ্চে ‘স্মরণ: ফরিদা পারভীন’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন মোহাম্মদ রোমেল। আলোচনায় অংশ নেবেন ড. আবু ইসহাক হোসেন এবং সভাপতিত্ব করবেন লেখক ও কলামিস্ট ফরহাদ মজহার। বিকাল ৪টায় থাকবে সাংস্কৃতিক আয়োজন।

শিশুতোষ প্রকাশনা সংস্থা দোলনের স্বত্বাধিকারী কামাল মোস্তফা বলেন,
“বইমেলার প্রথম দিন সাধারণত প্রস্তুতিতেই কেটে যায়। পরদিন থেকেই মূলত মেলা জমে ওঠে। এবার দ্বিতীয় দিনই শুক্রবার হওয়ায় ছুটির দিনে মেলা ভালোই জমবে বলে আশা করছি।”

তিনি আরও বলেন, শিশুপ্রহরের সময় শিশুচত্বর সবচেয়ে বেশি জমজমাট হবে বলে প্রত্যাশা করছেন তারা।

বইমেলা চলবে আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত। ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন মেলা খোলা থাকবে দুপুর ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। রাত সাড়ে ৮টার পর নতুন করে প্রবেশ করা যাবে না। আর ছুটির দিনে মেলা শুরু হবে সকাল ১১টায় এবং চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত।

প্রতিদিন বিকাল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত থাকবে বিষয়ভিত্তিক সেমিনার এবং ৪টা থেকে ৫টা পর্যন্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। প্রতি শুক্র ও শনিবার শিশুপ্রহরের পাশাপাশি চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি ও সংগীত প্রতিযোগিতার আয়োজন থাকবে।

বইমেলায় বাংলা একাডেমি এবং অংশগ্রহণকারী অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ২৫ শতাংশ কমিশনে বই বিক্রি করবে। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের নির্ধারিত কমিশনে বই বিক্রি করবে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচনের আলাদা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

এবারও মেলার খাবারের স্টলগুলো রাখা হয়েছে ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশনসংলগ্ন এলাকায়।