ঢাকা, শনিবার ০৭, মার্চ ২০২৬ ১১:৫২:১৯ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
ঢাকার বাতাসে দূষণ আজ কিছুটা কম রবিবার থেকে নতুন পদ্ধতিতে তেল বিক্রি ৮ মার্চ পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের ৬ রুটে বিমানের ফ্লাইট বাতিল ঈদযাত্রায় ট্রেনের ১৭ মার্চের টিকিট বিক্রি শুরু ঐতিহাসিক ৭ মার্চ আজ উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর গেলেন সেলিমা রহমান

কবি–সাহিত্যিকদের প্রাণের আড্ডাখানা ছিল বিউটি বোর্ডিং

মানিক নূর | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৯:৪৬ এএম, ৭ মার্চ ২০২৬ শনিবার

বিউটি বোর্ডিং।

বিউটি বোর্ডিং।

পুরান ঢাকার ব্যস্ত বংশালের গলি পেরিয়ে যে পুরনো দালানটির সামনে দাঁড়ালে ইতিহাসের গন্ধ পাওয়া যায়, সেটিই বিউটি বোর্ডিং। বহু বছর আগে এই বোর্ডিং শুধু থাকার জায়গা ছিল না; এটি ছিল কবি–সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও সংস্কৃতিকর্মীদের প্রাণের আড্ডাখানা। ঢাকা শহরের সাহিত্যচর্চার এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবেই পরিচিত ছিল এই স্থানটি।

বিশেষ করে পাকিস্তান আমল থেকে শুরু করে স্বাধীনতার পরবর্তী কয়েক দশক পর্যন্ত বিউটি বোর্ডিং ছিল তরুণ কবি–লেখকদের মিলনস্থল। বিকেল নামলেই উঠোনে বা বারান্দায় বসে শুরু হতো আড্ডা—চা, সিগারেট আর কবিতার আলোচনা। কেউ নতুন কবিতা পড়ে শোনাচ্ছেন, কেউ সাহিত্যপত্রিকার পরিকল্পনা করছেন, আবার কেউ সমাজ–রাজনীতি নিয়ে তর্কে মেতে উঠছেন।

বাংলা কবিতার আধুনিক ধারার অন্যতম শক্তিশালী কণ্ঠ শামসুর রাহমান নিয়মিতই এখানে আসতেন বলে প্রবীণরা জানান। তার কবিতা, রাজনীতি ও সমাজ নিয়ে আলোচনায় অনেক তরুণ কবি অনুপ্রাণিত হতেন।

প্রখ্যাত কবি ও সাহিত্যিক সৈয়দ শামসুল হক–ও এই আড্ডার পরিচিত মুখ ছিলেন। সাহিত্য ও সংস্কৃতি নিয়ে তার তর্ক-বিতর্ক আড্ডাকে জমিয়ে তুলত।

বাংলা কবিতার শক্তিমান কণ্ঠ আল মাহমুদ–এর নামও জড়িয়ে আছে এই বোর্ডিংয়ের সঙ্গে। তরুণ বয়সে ঢাকায় এসে তিনি অনেক সময় কাটিয়েছেন এই আড্ডায়। গ্রামবাংলার জীবন ও মানুষের গল্প নিয়ে তার কবিতার আলোচনাও এখানেই হয়েছে বলে সাহিত্যিকরা উল্লেখ করেন।

স্বাধীনতা–পরবর্তী প্রজন্মের কবিদের মধ্যেও বিউটি বোর্ডিং ছিল বেশ জনপ্রিয়। কবি রফিক আজাদ, আবুল হাসান, শহীদ কবির এবং নির্মলেন্দু গুণ–এর মতো কবিরা কখনো আড্ডা দিতে, কখনো বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করতে এখানে আসতেন। সেই সময় এই বোর্ডিং যেন হয়ে উঠেছিল এক অনানুষ্ঠানিক সাহিত্যসভা।

সাহিত্য গবেষকদের মতে, বিউটি বোর্ডিং ছিল ঢাকার এক ধরনের “বোহেমিয়ান সাহিত্য সংস্কৃতি”র কেন্দ্র। এখানে কোনো আনুষ্ঠানিকতা ছিল না, ছিল মুক্ত আলোচনা আর সৃজনশীলতার পরিবেশ। অনেক নতুন কবি ও লেখক এখানকার আড্ডা থেকেই সাহিত্যের পথে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা পেয়েছেন।

আজ সময় বদলেছে, অনেক আড্ডা হারিয়ে গেছে। তবু বিউটি বোর্ডিংয়ের দেয়াল, সিঁড়ি আর উঠোন যেন এখনো সেই দিনগুলোর স্মৃতি ধরে রেখেছে—যখন পুরান ঢাকার এই ছোট্ট বোর্ডিংটি ছিল কবিতা, সাহিত্য আর স্বপ্নের এক উজ্জ্বল ঠিকানা।