ঢাকা, রবিবার ০১, মার্চ ২০২৬ ২:১৭:৩৯ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
অভিনয়েই নিজেকে নতুন করে খুঁজে পাই: তানজিন তিশা মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথ বন্ধ, শত শত ফ্লাইট বাতিল আজও জমে ওঠেনি বইমেলা, লোক আছে, ক্রেতা নেই ইরানে মেয়েদের স্কুলে ভয়াবহ হামলা, ৪০ শিক্ষার্থী নিহত আইসিসির মাস সেরা ক্রিকেটার সোবহানা মোস্তারি ঈদযাত্রায় ভাড়া বৃদ্ধি করলে কঠোর ব্যবস্থা: সড়ক পরিবহন মন্ত্রী ঢাকা থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী সব ফ্লাইট স্থগিত দূষিত বাতাসে লাহোর প্রথম, দিল্লি দ্বিতীয় ও ঢাকা তৃতীয়

খোলা আকাশের নিচে ইফতার বিক্রি, কতটা স্বাস্থ্যসম্মত

জোসেফ সরকার | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৯:৪২ পিএম, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ শনিবার

ছবি: সংগ্রহিত।

ছবি: সংগ্রহিত।

রমজান এলেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শহরের ফুটপাত ও মোড়ে মোড়ে বসে ইফতারের পসরা। বেগুনি, আলুর চপ, ছোলা-মুড়ি, জিলাপি, পেঁয়াজু, শরবত—রঙিন এসব খাবার দেখে অনেক রোজাদারই থমকে দাঁড়ান। তবে খোলা আকাশের নিচে, ধুলোবালি আর যানবাহনের ধোঁয়ার পাশে তৈরি ও বিক্রি হওয়া এসব ইফতার কতটা নিরাপদ—তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকেই ফুটপাতের ওপর বসানো হচ্ছে ইফতারের স্টল। খোলা ট্রেতে রাখা হচ্ছে ভাজাপোড়া ও শরবতের পাত্র। কোথাও খাবারের ওপর ঢাকনা নেই, কোথাও মাছি বসছে অনায়াসে। অনেক বিক্রেতা খালি হাতে খাবার ধরছেন, আবার একই হাতে টাকা লেনদেন করছেন।

বিক্রেতাদের বক্তব্য: “ক্রেতারা এটাই চান”

ফুটপাতে ইফতার বিক্রি করা এক বিক্রেতা বলেন,
“ভাই, আমরা যতটা পারি পরিষ্কার রাখি। সকালে রান্না করি, বিকেলে বিক্রি হয়। ঢেকে রাখলে মানুষ দেখতে পায় না, তাই খোলা রাখতেই হয়।”

আরেক বিক্রেতা বলেন, “ইফতারের সময় অল্প। এত নিয়ম মানলে ব্যবসাই করা যাবে না। মানুষ কম দামে খাবার চায়, আমরা সেই অনুযায়ী বানাই।”

ক্রেতাদের মত: দামে সস্তা, কিন্তু ভয়ও আছে

ইফতার কিনতে আসা অনেক ক্রেতাই স্বীকার করছেন—স্বাস্থ্যঝুঁকি জেনেও তারা এসব খাবার খান, কারণ দাম কম এবং সহজে পাওয়া যায়।

এক রিকশাচালক বলেন, “হোটেলে গেলে ১৫০-২০০ টাকা লাগে। এখানে ৫০-৬০ টাকায় ইফতার হয়ে যায়। পেটের দায়ে এখান থেকেই খাই।”

এক অফিসকর্মী বলেন, “সন্ধ্যায় বাসায় ফিরতে দেরি হয়। রাস্তায় যেটা পাওয়া যায় সেটাই কিনি। তবে মাঝে মাঝে পেট খারাপ হয়, তখন ভয় লাগে।”

কীভাবে তৈরি হচ্ছে এসব খাবার

সরজমিনে দেখা গেছে, অনেক জায়গায় ইফতারি প্রস্তুত করা হচ্ছে রাস্তার পাশেই। বড় হাঁড়িতে ভাজা হচ্ছে বেগুনি ও পেঁয়াজু। তেলের রং কালচে, ধোঁয়া উঠছে। পাশেই গাড়ির ধোঁয়া আর ধুলাবালি এসে পড়ছে খাবারের ওপর। শরবতের পানিতে কোথাও বরফের টুকরো ফেলা হচ্ছে, কিন্তু পানি বিশুদ্ধ কি না, তা বোঝার উপায় নেই।

একজন পথচারী বলেন, “এই খাবার তো খোলা জায়গায় বানানো হচ্ছে। ধুলো-ময়লা মিশছে। এগুলো খেলে অসুখ হবে না?”

চিকিৎসকদের সতর্কবার্তা

চিকিৎসকরা বলছেন, খোলা আকাশের নিচে রাখা খাবারে ব্যাকটেরিয়া দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে ভাজা খাবার ও শরবত সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ।

ডা. জেসমিন আরা চৌধুরী নামে এক মেডিসিন বিশেষজ্ঞ বলেন, “খোলা জায়গায় রাখা ইফতারিতে সালমোনেলা ও ই-কোলাই জাতীয় জীবাণু জন্মাতে পারে। এতে ডায়রিয়া, বমি, জ্বর এমনকি টাইফয়েডের ঝুঁকি থাকে।”

তিনি আরও বলেন, “রোজা রাখার পর হঠাৎ এসব ভাজাপোড়া ও দূষিত খাবার খেলে গ্যাস্ট্রিক ও পেটের সমস্যা বেশি হয়।”

খাদ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মত

খাদ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, খাবার ঢেকে না রাখা, পরিষ্কার পানি ব্যবহার না করা এবং একই হাতে টাকা ও খাবার ধরার ফলে দূষণের ঝুঁকি কয়েক গুণ বেড়ে যায়।

একজন বিশেষজ্ঞ বলেন, “যদি খাবার ঢেকে রাখা হয়, পরিষ্কার গ্লাভস ব্যবহার করা হয় এবং বিশুদ্ধ পানি ব্যবহার করা হয়, তাহলে ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।”

নজরদারি কোথায়

প্রতিবছর রমজানে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও সংশ্লিষ্ট দপ্তর অভিযান চালালেও মাঠপর্যায়ে তার প্রভাব খুব সীমিত। অনেক বিক্রেতা অল্প সময়ের জন্য দোকান গুটিয়ে আবার আগের অবস্থায় ফিরে যান।