ঢাকা, বৃহস্পতিবার ০৪, জুন ২০২৬ ৬:৫৭:৩৩ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
সেই বৃদ্ধার ছেলে যুগ্মসচিব আনিসুরকে প্রত্যাহার মিরপুরের বৃদ্ধার মৃত্যু: তদন্ত কমিটি চেয়ে রিট তৃণমূলের সব সাংগঠনিক কমিটি ভেঙে দিলেন মমতা হামে প্রাণ গেল আরো ৭ শিশুর, মোট মৃত্যু ৬০০ ছাড়ালো সাগরিকার শেষ সময়ের গোলে সাফের ফাইনালে বাংলাদেশ এক মামলায় জামিন পেলেন দীপু মনি, ছয়টিতে রুল

গ্যাস সংকটে পোশাক খাতে উৎপাদন নেমেছে অর্ধেকে

নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১০:৩৪ পিএম, ৯ এপ্রিল ২০২৬ বৃহস্পতিবার

ছবি: সংগ্রহিত।

ছবি: সংগ্রহিত।

তীব্র গ্যাস সংকটে দেশের তৈরি পোশাক শিল্পে উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে জ্বালানি সংকটের প্রভাবে সিমেন্টসহ বিভিন্ন শিল্পে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন তাসকীন আহমেদ।

আজ বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাজধানীর মতিঝিলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট: বাংলাদেশে এর প্রভাব এবং মোকাবিলায় কর্মপন্থা নির্ধারণ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে মূল প্রবন্ধে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন।

তিনি জানান, গ্যাসের সরবরাহ সংকটে পোশাক কারখানাগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন চালাতে পারছে না। পাশাপাশি সিমেন্ট শিল্পে প্রতি ব্যাগ উৎপাদন খরচ ২৫ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

শুধু উৎপাদন নয়, বেড়েছে পরিবহন ব্যয়ও। কনটেইনার ফ্রেইট চার্জ ২০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতি কনটেইনারে অতিরিক্ত ৫০০ থেকে ৪ হাজার ডলার ব্যয় গুনতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের।

ডিসিসিআই সভাপতি আরও বলেন, স্টিল ও ফার্মাসিউটিক্যালস খাতেও চাপ বেড়েছে। স্টিল স্ক্র্যাপের দাম টনপ্রতি ৭০ থেকে ৯০ ডলার এবং ওষুধ শিল্পে কাঁচামালের খরচ ৭০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ ডলার পর্যন্ত বেড়েছে।

এদিকে জ্বালানির বাজারে অস্থিরতা সরাসরি প্রভাব ফেলছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায়। এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৯০০ টাকা থেকে বেড়ে ১ হাজার ৮৯০ টাকায় পৌঁছেছে। প্রায় ৪৫ শতাংশ ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা জ্বালানি সংকটকে তাদের ব্যবসার প্রধান বাধা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

তিনি বলেন, গ্রামাঞ্চলে তীব্র লোডশেডিং এবং শহরে নিম্নআয়ের মানুষের আয় থেকে জ্বালানি ব্যয়ের চাপ বাড়ছে। কৃষি খাতে ডিজেলের দাম ১৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ এবং সার আমদানির ব্যয় প্রায় ৯০ শতাংশ বেড়েছে। সংরক্ষণ সুবিধার অভাবে উৎপাদিত ফসলের প্রায় ৩০ শতাংশ নষ্ট হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং জ্বালানি সংকট মিলিয়ে দেশের শিল্পখাত চাপে রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তাসকীন আহমেদ। তিনি এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেন।

তাৎক্ষণিক করণীয় হিসেবে ডিসিসিআই জ্বালানির উৎস বহুমুখীকরণ, ডিফার্ড পেমেন্ট সুবিধা চালু, পরিকল্পিত লোডশেডিং, ক্যাপাসিটি চার্জ পুনর্বিবেচনা এবং স্বয়ংক্রিয় জ্বালানি মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থার সুপারিশ করেছে।

এছাড়া কৃষিখাতে ভর্তুকি বাড়ানো, রপ্তানিমুখী শিল্পে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে উৎসাহ প্রদান এবং বাজেটে জ্বালানি-নির্ভর শিল্পে বিশেষ বরাদ্দ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে তৃতীয় এফএসআরইউ ও স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ দ্রুত শেষ করা এবং নেপাল-ভুটান থেকে জলবিদ্যুৎ আমদানি ত্বরান্বিত করার সুপারিশও করা হয়।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন, শিল্প মন্ত্রণালয় এবং এফবিসিসিআইয়ের প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন।