ঢাকা, বুধবার ২৫, ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ৪:২২:৫৩ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
শিক্ষকের অভাবে পাহাড়ে মাতৃভাষায় শিক্ষা ব্যাহত ব্রুকের সেঞ্চুরিতে বিজয়ী হয়ে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ড বইমেলা শুরু হচ্ছে বৃহস্পতিবার, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী ঈদের ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু ৩ মার্চ ১০ মার্চ থেকে ১৪ উপজেলায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ, মাসে ২,৫০০ টাকা ১০ হাজার শিক্ষার্থী পাবে ভাষা ও কারিগরি দক্ষতা

চলুন, রাজধানীর পাশেই পানাম নগর থেকে ঘুরে আসি

জোসেফ সরকার | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১২:৫১ এএম, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বুধবার

ছবি: সংগ্রহিত।

ছবি: সংগ্রহিত।

ঢাকা শহরের কোলাহল পেছনে ফেলে যদি একটু ইতিহাসের ভেতর হাঁটতে মন চায়, তবে পানাম নগর হতে পারে আদর্শ গন্তব্য। রাজধানী থেকে খুব দূরে নয়, অথচ সময়ের হিসেবে কয়েকশ বছর পেছনে। সরু রাস্তার দুই পাশে সারি সারি পুরোনো দালান, ভাঙা বারান্দা, খোলা জানালা—সব মিলিয়ে পানাম নগর যেন এক জীবন্ত জাদুঘর।

যাওয়ার পথ: ঢাকা থেকে বাস বা প্রাইভেট গাড়িতে সহজেই পৌঁছানো যায় সোনারগাঁও এলাকায়। শীতলক্ষ্যা নদীর ধারে ঐতিহাসিক জনপদ সোনারগাঁওয়ের কাছেই অবস্থিত পানাম নগর। মেঘনা পাড়ের বাতাস আর গ্রামের পথ পেরিয়ে ঢুকতেই বোঝা যায়—এ জায়গার সময় আলাদা, গল্প আলাদা।

প্রথম দেখায় পানাম: প্রবেশপথে দাঁড়িয়েই চোখে পড়ে দীর্ঘ একটি রাস্তা, দুই পাশে প্রায় সারিবদ্ধ দোতলা ভবন। কোনোটি অক্ষত, কোনোটি ভাঙাচোরা, কোনোটি গাছগাছালিতে ঢাকা। প্রতিটি দালান যেন মুখ খুলে বলতে চায় তার পুরোনো দিনের কথা। কারো দেয়ালে এখনও রঙের ছাপ, কোথাও লোহার গ্রিলের নকশা, কোথাও খিলান দরজার সৌন্দর্য।

ইতিহাসের পথে হাঁটা: এক সময় পানাম নগর ছিল ব্যবসা-বাণিজ্যের কেন্দ্র। মূলত হিন্দু বণিক সম্প্রদায়ের বসতি ছিল এখানে। মসলিন, নীল ও অন্যান্য পণ্যের বাণিজ্য জমজমাট ছিল। ব্রিটিশ আমলে এই জনপদ আরও সমৃদ্ধ হয়। কিন্তু দেশভাগের পর ধীরে ধীরে জনবসতি কমতে থাকে। একসময় পুরো নগরীই পরিণত হয় পরিত্যক্ত এলাকায়।

স্থাপত্যের ভাষা: পানামের ভবনগুলোতে ইউরোপীয় ও দেশীয় স্থাপত্যের মিশ্রণ চোখে পড়ে। উঁচু খিলান, বারান্দা, অলংকৃত দরজা-জানালা, নকশা করা কর্নিশ—সবকিছুতেই এক ধরনের আভিজাত্য। কিছু বাড়িতে ছিল অন্দরমহল, কিছুতে খোলা উঠান। অনেক ঘরে এখনও ভাঙা সিঁড়ি, দেয়ালে পুরোনো আলপনার চিহ্ন দেখা যায়।

নীরবতার শব্দ: পানাম নগরে হাঁটতে হাঁটতে সবচেয়ে বেশি টের পাওয়া যায় নীরবতাকে। পর্যটকদের কোলাহল থাকলেও দেয়াল আর দরজাগুলো যেন চুপচাপ। বাতাস বইলে শুকনো পাতা উড়ে যায় রাস্তার ওপর। কখনো দূরের পাখির ডাক, কখনো নিজের পায়ের শব্দ—এই নীরবতার মধ্যেই ইতিহাস কথা বলে।

ছবি তোলার স্বর্গ: ফটোগ্রাফি প্রেমীদের জন্য পানাম নগর স্বপ্নের জায়গা। পুরোনো ভবনের জানালায় দাঁড়িয়ে সূর্যের আলো, ভাঙা দরজার ফাঁক দিয়ে দেখা আকাশ, দেয়ালের ফাটলে জন্ম নেওয়া গাছ—সবই ছবি হয়ে ওঠে। বিশেষ করে বিকেলের আলোয় পানামের রূপ আরও রহস্যময় লাগে।

পাশের আকর্ষণ: পানাম নগরের কাছেই রয়েছে সোনারগাঁও লোকজাদুঘর। সেখানে গেলে বাংলার গ্রামীণ জীবনের নানা নিদর্শন দেখা যায়—নৌকা, পালকি, মৃৎশিল্প, তাঁতের কাপড়। চাইলে কাছেই শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ে কিছুক্ষণ বসে সময় কাটানো যায়।

ভ্রমণের সময় ও সতর্কতা: শীত বা শরতের সকাল-বিকেল পানাম নগর ঘোরার জন্য সবচেয়ে ভালো সময়। বর্ষায় ভবনগুলো পিচ্ছিল হয়ে যায়, তাই সাবধানতা দরকার। ভেতরে ঢোকার সময় সতর্ক থাকতে হয়—অনেক ঘর ঝুঁকিপূর্ণ। পরিবেশ পরিষ্কার রাখা ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত না করার দায়িত্বও ভ্রমণকারীদের।

পানাম নগরের অনুভূতি: পানাম নগর শুধু দেখার জায়গা নয়, ভাবার জায়গা। এখানে দাঁড়ালে মনে হয়—কত মানুষের হাসি-কান্না, সুখ-দুঃখ জমে আছে এই দেয়ালে। সময়ের সাথে মানুষ চলে গেছে, কিন্তু গল্প থেকে গেছে।

শেষ কথা: যারা ঢাকার আশপাশে একদিনে ঘুরে আসার মতো ঐতিহাসিক জায়গা খুঁজছেন, তাদের জন্য পানাম নগর নিঃসন্দেহে সেরা গন্তব্য। এখানে হাঁটলে বোঝা যায়—ইতিহাস শুধু বইয়ে নয়, ইট-পাথরেও লেখা থাকে।

তাই একদিন সময় বের করে বলুন—চলুন, ঘুরে আসি পানাম নগর।