ঢাকা, বুধবার ২৫, ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ৪:২৭:৪৭ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
শিক্ষকের অভাবে পাহাড়ে মাতৃভাষায় শিক্ষা ব্যাহত ব্রুকের সেঞ্চুরিতে বিজয়ী হয়ে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ড বইমেলা শুরু হচ্ছে বৃহস্পতিবার, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী ঈদের ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু ৩ মার্চ ১০ মার্চ থেকে ১৪ উপজেলায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ, মাসে ২,৫০০ টাকা ১০ হাজার শিক্ষার্থী পাবে ভাষা ও কারিগরি দক্ষতা

চাতক পাখি: আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকা তৃষ্ণার প্রতীক

আইরীন নিয়াজী মান্না | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১২:০৪ এএম, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বুধবার

চাতক পাখি

চাতক পাখি

বাংলার প্রকৃতিতে এমন কিছু পাখি আছে, যাদের নাম উচ্চারণ করলেই চোখের সামনে একটি দৃশ্য ভেসে ওঠে। চাতক পাখি তেমনই এক নাম। সে যেন সারাক্ষণ আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকে—মেঘের দিকে, বৃষ্টির দিকে। লোককথায় বলা হয়, চাতক কেবল বৃষ্টির জলই পান করে; অন্য কোনো জল তার তৃষ্ণা মেটাতে পারে না। এই বিশ্বাস থেকেই চাতক হয়ে উঠেছে তৃষ্ণা, অপেক্ষা আর আকুলতার প্রতীক।

চাতক পাখির পরিচয়

চাতক পাখির বৈজ্ঞানিক নাম Clamator jacobinus। ইংরেজিতে একে বলা হয় Jacobine Cuckoo বা Pied Cuckoo। এটি কোকিলজাতীয় পাখির অন্তর্ভুক্ত। আকারে মাঝারি, দেখতে বেশ আকর্ষণীয়। শরীরের রং সাধারণত কালো ও সাদা মিশ্রিত, মাথায় হালকা ঝুঁটি থাকে। চোখ গাঢ়, ঠোঁট সরু ও সামান্য বাঁকা।

বাসস্থান ও বিচরণ

চাতক মূলত পরিযায়ী পাখি। গ্রীষ্মের শেষে বা বর্ষার শুরুতে এদের দেখা বেশি মেলে। ভারত, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও আফ্রিকার কিছু অঞ্চলে এদের চলাচল লক্ষ্য করা যায়। বাংলাদেশে সাধারণত বর্ষাকালে মাঠ-ঘাট, গাছপালা আর খোলা জায়গায় চাতকের উপস্থিতি চোখে পড়ে। গাছের ডালে বসে অথবা উড়ে উড়ে এরা খাবার সংগ্রহ করে।

খাদ্যাভ্যাস

চাতক পাখির প্রধান খাদ্য পোকামাকড়। বিশেষ করে শুঁয়োপোকা, ঘাসফড়িং ও ছোট কীটপতঙ্গ এদের প্রিয় খাবার। ফসলের ক্ষতিকর পোকা খাওয়ায় চাতক কৃষকের উপকারী বন্ধু হিসেবেও পরিচিত।

প্রজনন ও জীবনচক্র

চাতক কোকিলজাতীয় পাখি হওয়ায় নিজের বাসা বানায় না। বরং অন্য পাখির বাসায় ডিম পাড়ে। সাধারণত কাক বা ছোট আকারের পাখির বাসায় এরা ডিম পেড়ে দেয়। পরে সেই পাখিরাই না জেনে চাতকের ছানা লালন-পালন করে। এটি প্রকৃতির এক আশ্চর্য কৌশল।

চাতক ও বৃষ্টি: লোকবিশ্বাস

লোককথায় বলা হয়, চাতক মাটির জল পান করে না। সে আকাশের বৃষ্টির ফোঁটার জন্য অপেক্ষা করে। বৃষ্টি না নামা পর্যন্ত নাকি সে তৃষ্ণায় কাতর থাকে। যদিও বৈজ্ঞানিকভাবে এটি সত্য নয়, তবু এই বিশ্বাস চাতককে মানুষের কল্পনায় এক আলাদা মর্যাদা দিয়েছে। তাই সাহিত্যে চাতক মানে শুধু পাখি নয়—তৃষ্ণার রূপক।

সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে চাতক

বাংলা ও উপমহাদেশীয় সাহিত্যে চাতক বহুবার এসেছে। কবিতায়, গানে, প্রবাদে চাতক মানে আকুল অপেক্ষা। প্রেমিকের অপেক্ষায় থাকা মানুষকে চাতকের সঙ্গে তুলনা করা হয়।
“চাতক যেমন বৃষ্টির জন্য চায়,
মনও তেমনি প্রিয়জনের জন্য চায়”—
এমন ভাবনা আমাদের লোকসংস্কৃতিতে গেঁথে আছে।

সংরক্ষণ ও বর্তমান অবস্থা

চাতক এখনো বিপন্ন পাখির তালিকায় না পড়লেও বন-জঙ্গল উজাড়, কীটনাশকের ব্যবহার ও জলাভূমি নষ্ট হওয়ায় এদের বিচরণক্ষেত্র কমে যাচ্ছে। প্রকৃতির এই পরিচিত পাখিটিকে টিকিয়ে রাখতে হলে গাছপালা ও পরিবেশ রক্ষা করা জরুরি।

চাতক কেন বিশেষ?

কারণ সে শুধু একটি পাখি নয়—
সে বৃষ্টির প্রতীক্ষার প্রতীক,
তৃষ্ণার ভাষা,
অপেক্ষার গল্প।

বর্ষার আকাশে কালো মেঘের নিচে ডালে বসে থাকা চাতক যেন আমাদেরই কোনো অনুভূতির ছবি—যেখানে আশা আছে, প্রতীক্ষা আছে, আর আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকা একরাশ আকুলতা।