ঢাকা, সোমবার ০২, ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ৮:০৬:০৯ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
বিএনপি নারী অধিকার রক্ষায় অঙ্গীকারবদ্ধ: ইশরাক ইসির ‘দায়িত্বহীনতায়’ ফাঁস ১৪ হাজার সাংবাদিকের তথ্য নারী ভোটার: সংখ্যায় প্রায় সমান, প্রত্যাশায় দৃঢ় দেশে পৌঁছালো প্রবাসীদের প্রায় দেড় লাখ ব্যালট বাঙালির আবেগের মাস, ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি

নারী প্রার্থীদের প্রচারণায় নতুন জোর

নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১২:০৩ এএম, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সোমবার

প্রতীকী ছবি।

প্রতীকী ছবি।

এবারের নির্বাচনে নারীর উপস্থিতি বিশেষভাবে চোখে পড়ছে। রাজধানী থেকে গ্রামের সব অঞ্চলে দেখা যায় নারী প্রার্থীদের প্রচারণা, জনসংযোগ ও ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগের নতুন রূপ। যদিও অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে এবারের নির্বাচনে নারী প্রার্থীর সংখ্যা বেশ কম।

সরজমিনে ঘুরে দেখা গেছে,  নারী প্রার্থীরা শুধু রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন না; তারা কমিউনিটি হেলথ, শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন, স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়ন—এসব বিষয়েও সরাসরি ভোটারদের সঙ্গে কথা বলছেন।

রাস্তার সভা ও গণসংযোগ: রাজধানীর, খিলগাঁও, ধানমন্ডি, মিরপুর ও উত্তরার বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, নারী প্রার্থীরা রাস্তার সভা ও গণসংযোগ  করছেন।
গণসংযোগে তারা সরাসরি ভোটারদের সঙ্গে কথা বলছেন,
গ্রামাঞ্চলে কখনো বাইক র‍্যালি, কখনো হাঁটা সফরে ভোটারদের কাছে পৌঁছাচ্ছেন।

ঢাকা-১২ আসনে গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থী তাসলিমা আখতার বলেছেন, “আমরা চাই জনগণ আমাদের কথা শুনুক, আমাদের পরিকল্পনা বোঝুক, আর ভোটের সময় নিজের বিবেচনা ব্যবহার করুক।”

তিনি বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরিবর্তনের পক্ষে জনগণ ভোটদানের মাধ্যমে চাঁদাবাজি-দুর্নীতি-অনিয়মের জবাব দেবে বলে আমরা আশাবাদী।

ডিজিটাল প্রচারণায় সক্রিয়তা: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নারী প্রার্থীরা খুব সক্রিয়। ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটক, ইনস্টাগ্রাম—এসব প্ল্যাটফর্মে তারা ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করছেন। অনলাইনে লাইভ প্রশ্নোত্তর, পোস্টার, ভিডিও ক্লিপ—সবই তাদের প্রচারণার অংশ।

একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, “নারী প্রার্থীদের ডিজিটাল প্রচারণা আগের নির্বাচনের তুলনায় অনেক বেশি পেশাদার এবং তথ্যভিত্তিক। এটি ভোটারদের কাছে নতুন সম্ভাবনার বার্তা দিচ্ছে।”

বিক্ষোভ ও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি: তবে নারী প্রার্থীরা সব জায়গায় সমানভাবে গ্রহণযোগ্য নন। কোনো অঞ্চলে এখনও তারা পুরুষ প্রার্থীদের তুলনায় কম সমর্থন পাচ্ছেন। কোনো এলাকায় সরাসরি সমালোচনা, কখনো হেনস্থা, কখনো রাজনৈতিক বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন। তারপরও তারা দৃঢ়ভাবে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন,
শহর ও গ্রামে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন।

ভোটারদের প্রতিক্রিয়া: ঢাকার ধানমন্ডি এলাকার ভোটার রাশিদ হাসান বলেন, “নারী প্রার্থীরা যে ইস্যু নিয়ে কথা বলছেন, তা আমাদের জীবনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। এটা প্রার্থীদের কাছে আসা সহজ করে দিয়েছে।”

গ্রামের নারী ভোটার হোসনে আরা বলেন, “এবার আমরা দেখছি নারী প্রার্থী নিজে মাঠে, আমাদের সঙ্গে কথা বলছে। আগে শুধু বড়দের শুনতাম, এবার আমাদেরও কথার গুরুত্ব আছে।”

ভবিষ্যতের সংকেত: বিশেষজ্ঞদের মতে, নারী প্রার্থীদের সরাসরি গণসংযোগ এবং ডিজিটাল উপস্থিতি ভোটারদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে পারে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নারীর অংশগ্রহণকে আরও দৃঢ় করতে পারে।

এবারের নির্বাচন তাই শুধু একটি ভোটের প্রতিযোগিতা নয়, একটি নারীর ক্ষমতায়নের পরীক্ষা, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পুনর্গঠন।