ঢাকা, রবিবার ১৫, ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ৫:২১:০৪ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
৩৫–৪৫ সদস্যের মন্ত্রিসভা গঠনের প্রস্তুতি বিএনপির মন্ত্রীদের শপথ পড়াবেন প্রেসিডেন্ট দেশি-বিদেশি সাংবাদিকদের মুখোমুখি তারেক রহমান মন্ত্রিসভার শপথ সোম-মঙ্গলবার, এমপিদের রোববার ২৯৭ আসনের গেজেট প্রকাশ, দ্রুত শপথ এমপিদের

পহেলা ফাল্গুন ও ভালোবাসা দিবস আজ

রাতুল মাঝি | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১২:০৮ পিএম, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ শনিবার

ফাইল ছবি।

ফাইল ছবি।

আজ শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) পহেলা ফাল্গুন ও বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। দুই উৎসবকে ঘিরে দেশজুড়ে বিরাজ করছে জোড়া উৎসবের আমেজ। বাংলা বর্ষপঞ্জিতে পরিবর্তনের ফলে এবার একই দিনে বসন্ত বরণ ও ভালোবাসা দিবস উদযাপন করছেন উৎসবপ্রিয় বাঙালিরা।

কোকিলের কুহুতানে মুখরিত প্রকৃতি আজ বসন্তের আগমনী বার্তা দিচ্ছে। হৃদয় থেকে হৃদয়ের কথাগুলো ভাষা পাবে ভালোবাসার প্রকাশে। প্রেমিক-প্রেমিকা একে অপরকে ‘হ্যাপি ভ্যালেন্টাইনস ডে’ বলেই জানাবে ভালোবাসার কথা।

পহেলা ফাল্গুন: আজ পহেলা ফাল্গুন, ঋতুরাজ বসন্তের প্রথম দিন এবং বাংলা সনের একাদশ মাসের সূচনা। বসন্ত মানেই নতুন প্রাণের উচ্ছ্বাস, নতুন জীবনের ডাক। শীতের রুক্ষতা কাটিয়ে প্রকৃতি নতুন সাজে সেজে ওঠে। গাছে গাছে গজায় কচি পাতা, ফোটে ফুলের মুকুল, পাখির কণ্ঠে শোনা যায় গান আর বাতাসে ভাসে ফুলের মিষ্টি ঘ্রাণ।

ফাল্গুনের প্রথম দিনকে বাংলাদেশে পহেলা ফাল্গুন বা বসন্ত বরণ উৎসব হিসেবে পালন করা হয়। ১৯৯১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের উদ্যোগে প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে বসন্ত উৎসবের আয়োজন করা হয়। এরপর থেকেই এটি বাঙালির সাংস্কৃতিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে।

ফাল্গুন নামটি এসেছে ‘ফাল্গুনী’ নক্ষত্র থেকে। খ্রিষ্টপূর্ব প্রায় ১৫০০ সালের দিকে চন্দ্র ও সৌর উভয় বর্ষপঞ্জিতেই ফাল্গুন ছিল পূর্ণ চন্দ্রের মাস। ১৯৫০ ও ১৯৬০-এর দশকে পাকিস্তানি সংস্কৃতি থেকে নিজেদের আলাদা সাংস্কৃতিক পরিচয় তুলে ধরতে বাঙালিরা রবীন্দ্রসংগীত ও নিজস্ব ঐতিহ্যের মাধ্যমে পহেলা ফাল্গুন পালন শুরু করে।

বসন্ত নিয়ে রচিত হয়েছে অসংখ্য গান ও কবিতা। কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের ভাষায়— ‘ফুল ফুটুক আর না-ই ফুটুক আজ বসন্ত’। বাউলসম্রাট শাহ আব্দুল করিমের গান ‘বসন্ত বাতাসে সই গো’ বসন্তের আবেশকে তুলে ধরে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামসহ বহু কবি-সাহিত্যিক বসন্তকে নিয়ে রচনা করেছেন অমর সৃষ্টি।

পহেলা ফাল্গুন শুধু উৎসবের দিন নয়, রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক গুরুত্বও বহন করে। ফাগুনের লাল শিমুল ও কৃষ্ণচূড়া মনে করিয়ে দেয় ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগের কথা। ভাষা শহীদদের রক্তের পথ ধরেই এসেছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা। তাই ফাল্গুন বাঙালির কাছে দ্রোহ ও চেতনার মাসও বটে।

ইতিহাস বলছে, ১৫৮৫ সালে মোগল সম্রাট আকবর ১৪টি উৎসবের প্রবর্তন করেন। এর মধ্যে একটি ছিল বসন্ত উৎসব, যা পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সংস্কৃতিতে ভিন্নভাবে রূপ নেয়।

ভালোবাসা দিবস: আজ ১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। প্রেমিক-প্রেমিকার পাশাপাশি মা-বাবা, স্বামী-স্ত্রী, ভাইবোন, সন্তান ও বন্ধুর প্রতিও ভালোবাসা প্রকাশের দিন এটি। তরুণ-তরুণীদের উচ্ছ্বাসে রাজধানীসহ সারা দেশে ভালোবাসার উৎসব ছড়িয়ে পড়েছে। এর ছোঁয়া লাগছে গ্রামবাংলার জনজীবনেও।

এ দিনে মোবাইল ফোনের বার্তা, ই-মেইল ও অনলাইন চ্যাটে বিনিময় হয় ভালোবাসার কথা। প্রিয়জনকে উপহার হিসেবে দেওয়া হয় ফুল, চকোলেট, পারফিউম, গ্রিটিংস কার্ড, বই কিংবা নানা শৌখিন সামগ্রী।

ইতিহাস অনুযায়ী, প্রাচীন রোমান প্রথা থেকেই ভালোবাসা দিবসের সূচনা। খ্রিস্টান ধর্মযাজক ও চিকিৎসক সেন্ট ভ্যালেনটাইনের নামানুসারে দিনটির নামকরণ হয়। ২৭০ খ্রিস্টাব্দের ১৪ ফেব্রুয়ারি রোমান সম্রাট গথিকাস আহত সেনাদের চিকিৎসার দায়ে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেন। মৃত্যুর আগে তিনি তাঁর প্রিয়জনকে একটি চিঠিতে স্বাক্ষর করেন— ‘ফ্রম ইউর ভ্যালেনটাইন’।

পরবর্তীতে তাঁর স্মরণে দিনটি ভ্যালেনটাইনস ডে হিসেবে পালিত হতে থাকে। প্রায় ৪০০ খ্রিস্টাব্দের দিকে এটি সর্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়। তখন রোমানদের ‘জুনো’ উৎসবের সঙ্গে সেন্ট ভ্যালেনটাইনের আত্মত্যাগের স্মৃতিকে মিলিয়ে ১৪ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসার দিন হিসেবে উদযাপন শুরু হয়।

বাংলাদেশেও দিনটিকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান নানা কর্মসূচি পালন করছে।