ঢাকা, রবিবার ১৫, ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ৫:২১:৪৪ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
৩৫–৪৫ সদস্যের মন্ত্রিসভা গঠনের প্রস্তুতি বিএনপির মন্ত্রীদের শপথ পড়াবেন প্রেসিডেন্ট দেশি-বিদেশি সাংবাদিকদের মুখোমুখি তারেক রহমান মন্ত্রিসভার শপথ সোম-মঙ্গলবার, এমপিদের রোববার ২৯৭ আসনের গেজেট প্রকাশ, দ্রুত শপথ এমপিদের

বিএনপির জয়: তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন রূপরেখা

আলীম আল রাজী | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০১:০০ পিএম, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ শনিবার

প্রতীকী ছবি।

প্রতীকী ছবি।

জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী জয়ের পর দেশের রাজনৈতিক মানচিত্রে এসেছে নতুন উত্তেজনা ও আশা। ভোট ফলাফলের ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক মহলে জোরালো আলোচনা শুরু হয়েছে—তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ কীভাবে পরিচালিত হবে, অর্থনীতি, সামাজিক কাঠামো ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপর এর প্রভাব কী হতে পারে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তারেক রহমানের সরকার প্রধান চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবে। অর্থনীতি স্থিতিশীল রাখা, জনগণের মৌলিক সেবা নিশ্চিত করা, রাজনৈতিক সংলাপ বজায় রাখা—এসবই হবে নতুন সরকারের মূল কাজ। তবে শুধু চ্যালেঞ্জ নয়, বিএনপি জয়ের মাধ্যমে নতুন সম্ভাবনার দ্বারও উন্মুক্ত করেছে। দেশের চলমান অবকাঠামোগত সমস্যা, বিদ্যুৎ সংকট, সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যখাত ও শিক্ষা খাতে দীর্ঘদিন ধরে চলমান ঘাটতি দ্রুত সমাধানের সুযোগ রয়েছে।

রাজনৈতিক কাঠামো ও নেতৃত্ব

তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকারে আসার পর দলের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় ও সংসদীয় কার্যক্রমে দক্ষতা দেশের স্থিতিশীলতায় বড় ভূমিকা রাখবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নতুন সরকারকে বিরোধী দলের সঙ্গে সংলাপ বজায় রাখা, সংসদে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া চালানো জরুরি।

বৃহৎ রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকারকে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন ও গণমুখী নীতি গ্রহণে জোর দিতে হবে। এতে দেশের চলমান সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকট মোকাবেলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে। তবে রাজনৈতিক সমন্বয়ের অভাব বা দলে অভ্যন্তরীণ বিভাজন পরিস্থিতি জটিল করতে পারে।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, বিএনপি সরকারের প্রধান বৈশিষ্ট্য হবে সংলাপমুখী ও দলভিত্তিক নেতৃত্ব, যা দেশের স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নে সাহায্য করবে। দলীয় অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পারলে নীতি ও কর্মসূচি দ্রুত বাস্তবায়ন সম্ভব।

অর্থনৈতিক প্রভাব ও চ্যালেঞ্জ

অর্থনীতি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তাকে রহমানের সরকার যদি বিনিয়োগ, রপ্তানি, বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও চাকরি সৃষ্টি ত্বরান্বিত করতে সঠিক নীতি গ্রহণ করেন, তবে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক সাড়া পড়বে।

তবে সরকারের জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ হলো:

দুর্নীতি প্রতিরোধ ও স্বচ্ছ প্রশাসন নিশ্চিত করা

কর ব্যবস্থা সংস্কার করা

সামাজিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা

বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, বিদেশি বিনিয়োগ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সঠিকভাবে ব্যবহার না করলে দেশের অর্থনৈতিক লক্ষ্য অর্জন করা কঠিন হবে। বিএনপি সরকারকে বাজার-বান্ধব নীতি, রপ্তানিমুখী উদ্যোগ এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগকে সহায়তা করতে হবে, যাতে তরুণ প্রজন্মের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়।

সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রভাব

রাজনৈতিক জয়ের পাশাপাশি বিএনপির নেতৃত্বে দেশে সামাজিক নীতি ও সংস্কৃতিতে পরিবর্তনের ছোঁয়া পড়বে। নাগরিকদের মধ্যে জনমত ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া রক্ষার মাধ্যমে সরকার দেশের চলমান সংকট ও অগ্রগতির সুযোগকে কাজে লাগাতে চাইবে। শিক্ষাক্ষেত্রে সংস্কার, স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করা, নারীর ক্ষমতায়ন এবং সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠা—এসব বিষয় দেশের মানুষের প্রত্যাশার মূল অঙ্গ।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সরকারের জন্য মূল চ্যালেঞ্জ হবে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, দলীয় সমন্বয়, বিরোধী দলের সঙ্গে সংলাপ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা। তবে প্রতিটি চ্যালেঞ্জের সঙ্গে সম্ভাবনার দ্বারও খোলা রয়েছে।

সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা

নাগরিকরা আশা করছেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার সামাজিক নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, শিক্ষাক্ষেত্র ও স্বাস্থ্যখাতে উন্নয়নমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সরকার যদি জনগণের সঙ্গে সংলাপ ও স্বচ্ছ নীতি বজায় রাখতে পারে, তবে দেশের দীর্ঘমেয়াদি অগ্রগতি নিশ্চিত হবে।

একই সঙ্গে বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচিত সরকারকে দীর্ঘমেয়াদি নীতি ও স্থিতিশীল প্রশাসনিক কাঠামো তৈরি করতে হবে। এতে দেশে রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বাড়বে এবং দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে নতুন ধারা সৃষ্টি হবে।

আন্তর্জাতিক প্রভাব

তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকারের সিদ্ধান্ত এবং নীতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে দেশের ভাবমূর্তি গঠন করবে। বিশেষভাবে পর্যটন, রপ্তানি, বৈদেশিক বিনিয়োগ এবং কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করার সুযোগ থাকবে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি দেশের ওপর বৈদেশিক বিনিয়োগ ও সহযোগিতা বাড়াতে সহায়ক হবে।

চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যত রোডম্যাপ

নতুন সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জগুলো স্পষ্ট—রাজনৈতিক সংলাপ, দলীয় সমন্বয়, অর্থনীতি, সামাজিক উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক। তবে প্রতিটি চ্যালেঞ্জের সঙ্গে আসে সুযোগ। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, যদি সরকার স্বচ্ছতা, ন্যায়পরায়ণতা এবং দীর্ঘমেয়াদি নীতি হাতে নেয়, তাহলে দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতি ত্বরান্বিত হবে।

নাগরিকদের একাংশ মনে করছেন, নতুন সরকারের শুরুর দিনগুলো গুরুত্বপূর্ণ। সরকার যত দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ নেবে, দেশের স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন তত দ্রুত বৃদ্ধি পাবে।