বাংলাদেশ এখনই ব্রিকসের সদস্য হওয়ার চেষ্টা করেনি: প্রধানমন্ত্রী
বাসস | উইমেননিউজ২৪প্রকাশিত : ০৯:২৭ পিএম, ২৯ আগস্ট ২০২৩ মঙ্গলবার
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্পষ্টভাবে বলেছেন, বাংলাদেশ এখনই ব্রিকসের সদস্য হওয়ার চেষ্টা করেনি। বরং ব্রিকস রাষ্ট্রগুলোর প্রতিষ্ঠিত বহুপাক্ষিক উন্নয়ন ব্যাংক নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার জন্য সম্পূর্ণ মনোযোগ দিয়েছিল।
তিনি বলেন, ‘প্রথমবারের মতো ব্রিকসের শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিয়ে আমরা সদস্যপদ পাবো এমন কোনো চিন্তা আমাদের ছিল না। আমরা এমন কোনো চেষ্টাও করিনি। ব্রিকসের সদস্যপদ পাওয়ার জন্য এমনকি কাউকে বলিওনি।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের ফলাফল নিয়ে গণমাধ্যমকে অবহিত করতে আজ মঙ্গলবার বিকেলে গণভবনে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রী গত রোববার ১৫তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগদানের পর দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গ থেকে দেশে ফিরেছেন। তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাপোসার আমন্ত্রণে ২২-২৪ আগস্ট জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেন।
প্রধানমন্ত্রী এক প্রশ্নের উত্তরে বলেন, এখনই সদস্য পদ পেতে হবে সে ধরনের কোনও চিন্তা আমাদের মাথায় ছিল না। সেই ধরনের চেষ্টাও আমরা করিনি। সদস্য হতে চাইলে পাবো না সেই অবস্থায় এখন আর বাংলাদেশ নেই। আমরা কাউকে বলতে যাইনি আমাকে এখনই সদস্য করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেকটা কাজের একটা নিয়ম থাকে। আমরা সেই নিয়ম মেনেই চলি। আমার সঙ্গে যখন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্টের সাক্ষাত হলো, আমাকে আমন্ত্রণ জানালেন ব্রিকস সম্মেলন করবেন। আমাকে যেতে বললেন। তখন এও জানালেন তারা কিছু সদস্যপদ বাড়াবেনও। সেই বিষয়ে আমার মতামতও জানতে চাইলেন। আমি বললাম এটা খুবই ভালো হবে।
ব্রিকসের নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকে যোগদানের বিষয়ে বাংলাদেশ আগে থেকেই আগ্রহী ছিল উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, আমরা যখন শুনলাম নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক হবে, আমাদের ওটার ওপর বেশি আগ্রহ ছিল। যখন থেকে তৈরি হয়, তখন থেকেই এই আগ্রহটা ছিল এর সঙ্গে যুক্ত হবো। ব্রিকসের সদস্য পদের ক্ষেত্রে তখন প্রেসিডেন্ট আমাকে বললেন ধাপে ধাপে নেবেন। ভৌগোলিক অবস্থানটা বিবেচনা করে নেবেন। পর্যায়ক্রমে ধাপে ধাপে তারা সদস্য সংখ্যা বাড়াবেন।
ব্রিকস নিয়ে বিরোধী দলের বক্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি জানি যে এই প্রশ্নটা আসবে। আমাদের অপজিশন (বিরোধী পক্ষ) থেকে হা-হুতাশ করা হচ্ছে যে আমরা সদস্যপদ পাইনি। বাংলাদেশ কিছু চেয়ে পাবে না এটা কিন্তু ঠিক নয়। অন্ততঃ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আমরা দেশের মার্যাদা তুলে ধরেছি। সেখানে আমাদের সেই সুযোগটা আছে। তারা (বিরোধী পক্ষ) বলতে পারে, কারণ তাদের সময় বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের কোনও অবস্থানই ছিল না।
সংবাদ সম্মেলনে ড. ইউনুসের বিরুদ্ধে চলমান মামলার বিষয়ে আন্তর্জাতিক মহলের বিবৃতি, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন, বাজার সিন্ডিকেটসহ সাম্প্রতিক নানা বিষয় নিয়ে খোলামেলা সব প্রশ্নের উত্তর দেন প্রধানমন্ত্রী
সংবাদ সম্মেলনের মঞ্চে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য এবং জাতীয় সংসদের উপনেতা বেগম মতিয়া চৌধুরী ও শেখ ফজলুল করিম সেলিম এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম উপস্থিত ছিলেন।
নোবেল বিজয়ী ড. মুহম্মদ ইউনুসের বিরুদ্ধে পরিচালিত চলমান বিচার বন্ধের কথা না বলে বিবৃতিদাতা বিশ্ব নেতৃবৃন্দকে বাংলাদেশে এক্সপার্ট (বিশেষজ্ঞ) পাঠানোর আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বিবৃতি না দিয়ে তারা এক্সপার্ট পাঠাক। যদি এতই দরদ থাকে তারা ল-ইয়ার (আইনজীবী) পাঠাক। মামলার সমস্ত দলিল দস্তাবেজ খতিয়ে দেখুন। তারাই দেখে বিচার করে যাক এখানে কোন অপরাধ আছে কী না। তবে, আইন তার নিজস্ব গতিতেই চলবে।”
যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের কতিপয় বিশিষ্ট নাগরিকদের খোলা চিঠির মাধ্যমে বিবৃতি প্রদান করে ড. ইউনুসের বিচার স্থগিত করার দাবি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার খুব অবাক লাগছে। ভদ্রলোকের যদি এতই আত্মবিশ্বাস থাকতো যে তিনি কোন অপরাধ করেননি, তাহলে ঐ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিবৃতি ভিক্ষা করে বেড়াতেন না।
তিনি বলেন, আমাদের দেশের বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীন। তাছাড়া সবকিছু একটা আইনমত চলে। কেউ যদি ট্যাক্স না দেয় আর শ্রমিকের অর্থ আত্মস্যাৎ করে এবং সেক্ষেত্রে শ্রমিকদের পক্ষে যদি লেবার কোর্টে মামলা হয় তাহলে আমাদের কি সেই হাত আছে আমরা মামলা বন্ধ করে দেব। আর চলমান মামলা নিয়ে আমরাতো আমাদের দেশে আলোচনাও করি না, কারণ এটা সাবজুডিস (আদালত অবমাননা)। সেখানে বাইরে থেকে বিবৃতি এনে দাবি করা হচ্ছে মামলা প্রত্যাহার করার? এখানে আমার কোন অধিকারটা আছে আপনারাই বলেন, সে পাওয়ারটা দিয়েছেন আমাকে? জুডিশিয়ারিতো সম্পূর্ণ স্বাধীন।
তিনি বলেন, যারা এই বিবৃতি দিয়েছেন তাদেরকে আমি আহ্বান করি-এক্সপার্ট পাঠান, লইয়ার পাঠান, এতই যদি দরদ থাকেতো এবং যার বিরুদ্ধে মামলা তার সমস্ত দলিল, দস্তাবেজ খতিয়ে দেখুন- সেখানে কোন অন্যায় আছে কি না, বা কি কি অসামঞ্জস্যতা আছে। নয়তো আমাদের দেশে আইন আছে, আদালত আছে, লেবার ল আছে, লেবার কোর্ট আছে এবং আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে।
লেবার ল নিয়ে তো বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিশেষ করে আইএলওতে অনেক কথা শুনতে হয়, বিভিন্ন নালিশের প্রেক্ষিতে- সেকথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এদেশের কোম্পানী আইনে আছে লভ্যাংশের ৫ শতাংশ শ্রমিকদের কল্যাণে ব্যয় করতে হবে এখন সেটা যদি কেউ না দেয় এবং এজন্য তারা যদি মামলা করে এবং মামলা করার ফলে তাদের যদি চাকরীচ্যুত করা হয় এবং তারজন্য তারা যদি আবার মামলা করে তাহলে সেই দায় দায়িত্বতো আমাদের নয়। আবার এই মামলা যাতে না হয় সেজন্য ঘুষ দেওয়া।
প্রধানমন্ত্রী এ সময় স্মরণ করিয়ে দেন মামলা দায়ের করার ব্যাপারে তাঁদের কোন সংশ্লিষ্টতা নেই বরং মামলা রুজু করেছে শ্রমিকেরা এবং এনবিআর। ট্যাক্সেও বিষয়টা সম্পূর্ন এনবিআর এর এখতিয়ার। আর ট্যাক্স ফাঁকি দেয়া হলে অর্থতো তাদের আদায় করতে হবে। কেননা ট্যাক্স দেয়াতো সকল নাগরিকের দায়িত্ব। আর যারা বিবৃতি দিয়েছেন এমন ইউরোপ, আমেরিকা বা যুক্তরাজ্যে ট্যাক্স ফাঁকিদাতাদের সঙ্গে কি করা হয়-সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
বিশ্বে বিভিন্ন দেশে নোবেল বিজয়ীরা ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে ধরা পড়ায় মামলার শিকার এমন উদাহারণও টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এমন বহু নোবেল লরিয়েট রয়েছেন যারা কারাগারে বন্দি আছেন পরবর্তীতে অপরাধমূলক কাজের জন্য।”
সংবিধিবদ্ধ সরকারি প্রতিষ্ঠান- গ্রামীন ব্যাংকের এমিডি, তুলতেন সরকারি হারে বেতন,’ উল্লেখ করে সাবেক এমডি ড. ইউনুসকে উদ্দেশ্য করে সরকার প্রধান বলেন, “সরকারি বেতনভুক একজন ব্যাংকের এমডি বিদেশে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার কিভাবে ইনভেস্টমেন্ট করে আর বাণিজ্য করে?”
এ ব্যাপারে সাংবাদিকেরাও কোন খোঁজ খবর করে সংবাদ পরিবেশন করেননি যা একজন রাজনীতিবিদের বেলায় করা হোত হলেও তিনি উস্মা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, দুর্নীতি খুঁজে বেড়াচ্ছেন সবাই, দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান করতে বলছেন, আর দুর্নীতিবাজ ধরা পড়লে পছন্দের হলে তার কোন দোষ নাই।
৪৬০ কোটি ক্ষতিপূরণ পেলেও ১২শ’ কোটির ওপর যে পাওনা সেটার বিষয়ে দেশি-বিদেশি প্রভাবশালীদের প্রভাব বিস্তারের প্রচেষ্টায় আদালত স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে কি না এ সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে পাল্টা প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন প্রধানমন্ত্রী, কেন পারবে না?
আদালত স্বাধীনভাবেই কাজ করবে, কে বিবৃতি দিলো না দিলো সেটা আদালতের দেখার দরকারটা কি এবং আদালত এতে প্রভাবিত হবে কেন? আদালত ন্যায় বিচার করবে। আওয়ামী লীগ সবসময় শ্রমিকদের স্বার্থরক্ষায় কাজ করে, যোগ করেন তিনি।
- জাবি ছাত্রী শারমীন হত্যা: স্বামী ফাহিম ২ দিনের রিমান্ডে
- বিশ্ববাজারে আজও কমলো স্বর্ণের দাম
- একাত্তরের গণহত্যার স্বীকৃতিতে কাজ করবে সরকার: শামা ওবায়েদ
- বিদেশগামী শিক্ষার্থীদের ১০ লাখ টাকা ঋণের নির্দেশ
- ঈদের আমেজ, রাজধানী আজও বেশ ফাঁকা
- ইরানে বাড়ি ও পার্কে হামলা, ৬ জন নিহতের দাবি
- নিউইয়র্কের লাগার্ডিয়া বিমানবন্দরে গাড়ির সঙ্গে বিমানের সংঘর্ষ
- আজও ঢাকা চিড়িয়াখানায় মানুষের ব্যাপক ভিড়
- কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে পর্যটকের ঢল
- ঈদ শেষে রাজধানীতে ফিরছে মানুষ
- যেকোনো সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে সব পেট্রোল পাম্প
- বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন, কমতে পারে দেশীবাজারেও
- সাত দিন ছুটির পরে কাল খুলছে অফিস-আদালত
- ইরানসহ চার দেশের সঙ্গে ইইউর কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার
- একাত্তরে গণহত্যাকে স্বীকৃতির দাবিতে মার্কিন কংগ্রেসে প্রস্তাব
- আজও ঢাকা চিড়িয়াখানায় মানুষের ব্যাপক ভিড়
- বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন, কমতে পারে দেশীবাজারেও
- ইরানসহ চার দেশের সঙ্গে ইইউর কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার
- নিউইয়র্কের লাগার্ডিয়া বিমানবন্দরে গাড়ির সঙ্গে বিমানের সংঘর্ষ
- ইরানে বাড়ি ও পার্কে হামলা, ৬ জন নিহতের দাবি
- কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে পর্যটকের ঢল
- যেকোনো সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে সব পেট্রোল পাম্প
- ঈদ শেষে রাজধানীতে ফিরছে মানুষ
- ঈদের আমেজ, রাজধানী আজও বেশ ফাঁকা
- সাত দিন ছুটির পরে কাল খুলছে অফিস-আদালত
- একাত্তরের গণহত্যার স্বীকৃতিতে কাজ করবে সরকার: শামা ওবায়েদ
- বিদেশগামী শিক্ষার্থীদের ১০ লাখ টাকা ঋণের নির্দেশ
- বিশ্ববাজারে আজও কমলো স্বর্ণের দাম
- জাবি ছাত্রী শারমীন হত্যা: স্বামী ফাহিম ২ দিনের রিমান্ডে











