ঢাকা, শনিবার ২৮, মার্চ ২০২৬ ১০:৫৩:৪২ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
টাঙ্গাইলে ট্রেনের ধাক্কায় নারী-শিশুসহ একই পরিবারের ৫ জন নিহত সবাক সিনেমার প্রথম কণ্ঠশিল্পী মাহবুবা রহমান আর নেই দেড় ঘণ্টা আকাশে চক্কর, অল্পের জন্য রক্ষা মমতার বিমান ঢাকা বিমানবন্দরে ২৮ দিনে ৭৯৭টি ফ্লাইট বাতিল রাজধানীতে সর্দি-কাশি-জ্বরের প্রকোপ দেশের বাজারে টানা তৃতীয় দফায় কমল স্বর্ণের দাম

বাংলাদেশে টিকা পরীক্ষার পক্ষে করোনা পরামর্শক কমিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১১:৫৭ এএম, ২০ আগস্ট ২০২০ বৃহস্পতিবার

ছবি: ইন্টারনেট

ছবি: ইন্টারনেট

করোনা ভাইরাসের টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ বাংলাদেশে হওয়া উচিৎ বলে অভিমত দিয়েছে কোভিড-১৯ প্রতিরোধে গঠিত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি। আর এজন্য প্রস্তুতও রয়েছে বাংলাদেশ।

বুধবার কমিটির ১৭তম অনলাইন সভা শেষে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সহিদুল্লার সভাপতিত্বে এই সভা হয়। সভা শেষে বেশ কয়েকটি সুপারিশ তুলে ধরেন এ কমিটির সদস্যরা।

বাংলাদেশে টিকার ট্রায়ালের যৌক্তিকতা তুলে ধরে পরামর্শক কমিটি বলেছে, “বাংলাদেশে টিকার ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল হলে বাংলাদেশের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং তা প্রমাণের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং এই টিকা সফল প্রমাণিত হলে সর্বাগ্রে পাওয়ার নিশ্চয়তা থাকবে।”

তারা বলেছেন, যেসব প্রতিষ্ঠান বা দেশ টিকার ট্রায়ালের তৃতীয় পর্যায়ে আছে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিৎ যেন টিকা মানবদেহে প্রয়োগের অনুমতি পাওয়া মাত্রই বাংলাদেশ তা পেতে পারে।

কমিটির সদস্যদের মতে, টিকা আন্তর্জাতিক বাজারে এসে গেলে তা কীভাবে প্রথমেই বাংলাদেশে নিয়ে আসা যায় তার বিস্তারিত পরিকল্পনা এখনই করা প্রয়োজন। পাশাপাশি বাংলাদেশে কী পরিমাণ টিকা প্রয়োজন, তা সংগ্রহে কত খরচ হবে কিংবা বিনামূল্যে পাওয়া যাবে কি না এ বিষয়ে এখনই হিসাব করা প্রয়োজন।

টিকা প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় সিরিঞ্জ উৎপাদন বা কেনার প্রস্তুতি থাকতে হবে। টিকা পাওয়ার পরে সংরক্ষণ, বিতরণ, লোকবল, সরঞ্জামসহ সব পরিকল্পনা-ব্যবস্থাপনা এখনই ঠিক করে রাখা উচিৎ।

টিকা পাওয়ার ক্ষেত্রে কোন উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী অগ্রাধিকার পাবে, দ্বিতীয় ও তৃতীয় অগ্রাধিকারে কোন জনগোষ্ঠী থাকবে সেটা নির্ধারণ করে রাখা প্রয়োজন।

পরামর্শক কমিটি বলেছে, সাধারণত প্রথম ব্যবহারযোগ্য ভ্যাকসিন বা টিকা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মাধ্যমেই বিতরণ করা হয়।একটি নির্দিষ্ট মাথাপিছু আয়ের নিচে যেসব দেশ সেসব দেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বিনামূল্যে নির্দিষ্ট সংখ্যক ভ্যাকসিন বা টিকা দিয়ে থাকে এবং কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন বা টিকার ক্ষেত্রেও একই নীতি অনুসরণ করা হবে যেটি সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। “তাই দ্রুত ব্যবস্থার মাধ্যমে টিকা সংগ্রহ করার লক্ষ্যে প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান কিংবা সে দেশের সরকারের সাথে চুক্তি সম্পন্ন করা এবং প্রয়োজনীয় অগ্রিম অর্থ প্রদান করার প্রয়োজন হতে পারে।”

চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের করোনাভাইরাসের টিকা এখন তৃতীয় ধাপের পরীক্ষার পর্যায়ে রয়েছে। এছাড়া রাশিয়া প্রথম দেশ হিসেবে টিকা উৎপাদন শুরু করে দিয়েছে। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের টিকার তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল ব্রাজিল ও ভারতে হচ্ছে, চীনের সিনোভ্যাক টিকার পরীক্ষা ব্রাজিল, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইন্দোনেশিয়া, চিলি, ফিলিপিন্স ও তুরস্কে হচ্ছে।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের টিকা ভারতে উৎপাদিত হলে তা পাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অগ্রাধিকার পাবে বলে আশ্বস্ত করেছেন প্রতিবেশী দেশটির পররাষ্ট্র সচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা।

ভারত অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের টিকা উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। যুক্তরাজ্যের ওষুধ কোম্পানি অ্যাস্ট্রাজেনকার সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে অক্সফোর্ডের টিকাটি উৎপাদন করবে ভারতের পুনেভত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান। এই টিকাটি পেতে বাংলাদেশও আগ্রহী। এর পরীক্ষামূলক প্রয়োগের অংশীদার হতে চাওয়ার কথা ইতোমধ্যে ঢাকার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

কারিগরি কমিটির সুপারিশে বলা হয়েছে, সরকারিভাবে কোভিড-১৯ টেস্টের জন্য বর্তমানে ধার্যকৃত মূল্য পরিবর্তন করা প্রয়োজন। সন্দেহকৃত কোভিড-১৯ রোগী বুথে এসে টেস্টের জন্য নমুনা দেওয়ার ক্ষেত্রে বিনামূল্যে এবং বাসায় স্বাস্থ্যকর্মী গিয়ে নমুনা সংগ্রহের ক্ষেত্রে ৫০০ টাকা থেকে কমিয়ে ৩০০ টাকা করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত লাইভ স্বাস্থ্য বুলেটিন চালু রাখার পক্ষে মত দিয়েছে পরামর্শক কমিটি। এর পাশাপাশি সপ্তাহে একবার গণমাধ্যমের উপস্থিতিতে প্রশ্নোত্তর পর্ব থাকা উচিত বলেও মত দিয়েছে তারা।

পরামর্শক কমিটি বলেছে, হাসপাতালে দায়িত্ব পালনের পর ডাক্তারসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের বিভিন্ন হোটেলে কোয়ারেন্টিনে থাকার ব্যবস্থা বর্তমানে হঠাৎ করে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা অসুবিধার সম্মুখীন হয়েছেন। স্বাস্থ্যকর্মীদের হাসপাতালে দায়িত্ব পালনের পর মানসম্মত প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। অন্যথায় শুধু স্বাস্থ্যকর্মীরাই নয়, তাদের পরিবার-পরিজনরাও কোভিড-১৯ সংক্রমণের ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।

টিকা পরীক্ষায় প্রস্তুত বাংলাদেশ: ভারতের তৈরি সম্ভাব্য কোভিড-১৯ টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগের জন্য বাংলাদেশ ‘প্রস্তুত’ বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন। বুধবার ঢাকায় ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বাংলাদেশের এ অবস্থানের কথা তুলে ধরেন তিনি।

সোনারগাঁও হোটেলে তাদের বৈঠক শেষে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পররাষ্ট্র সচিবকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, “ট্রায়ালসহ কোভিড-১৯ টিকা তৈরিতে যে কোনো ধরনের সহযোগিতা করতে বাংলাদেশ প্রস্তুত। টিকা প্রস্তুত হলে সাশ্রয়ীমূল্যে শুরুতেই পেতে চায় বাংলাদেশ।”

১৩০ কোটি মানুষের দেশ ভারতে নিজেদের চাহিদা মেটাতেই বিপুল পরিমাণ টিকা উৎপাদন করতে হবে বলে দামও কিছুটা কমে আসবে। এই সুবিধার কথা তুলে ধরে পররাষ্ট্র সচিব শ্রিংলা বৈঠকে বলেন, ভারত সরকার এ বিষয়ে বাংলাদেশ ও প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গেও নিবিড়ভাবে কাজ করতে আগ্রহী।

কোনো টিকার চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে তৃতীয় ধাপের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে বিপুল সংখ্যক মানুষের শরীরে প্রয়োগ করে তার ফলাফল দেখতে হয়। পরীক্ষায় নিরাপদ ও কার্যকর প্রমাণিত হলেই সেই টিকা অনুমোদন পায়। বর্তমানে চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের করোনা ভাইরাসের টিকা এখন তৃতীয় ধাপের পরীক্ষার পর্যায়ে রয়েছে। এছাড়া রাশিয়া প্রথম দেশ হিসেবে টিকা উৎপাদন শুরু করে দিয়েছে।

বুধবার ঢাকার সোনারগাঁও হোটেলে ভারত ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠকে সম্ভাব্য কোভিড-১৯ টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ নিয়ে আলোচনা হয়।

বুধবার ঢাকার সোনারগাঁও হোটেলে ভারত ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠকে সম্ভাব্য কোভিড-১৯ টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ নিয়ে আলোচনা হয়। এর মধ্যে চীনের সিনোভ্যাক বায়োটেক লিমিটেড তাদের তৈরি করা টিকার তৃতীয় ধাপের পরীক্ষা বাংলাদেশেও করার পরিকল্পনা করেছিল। বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিলও গত ১৮ জুলাই বাংলাদেশে ওই টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগের অনুমোদন দিয়েছিল।

ঘোষণা অনুযায়ী, বাংলাদেশে চীনা টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগের কাজটি করার কথা ছিল আন্তর্জাতিক উদরাময় রোগ গবেষণা কেন্দ্র- আইসিডিডিআর,বির। বলা হয়েছিল, আগামী ১৮ মাস ধরে দেশের স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর এই টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ হবে। তবে সে বিষয়টি পরে ঝুলে যায়।

বিষয়টি যেহেতু ‘নতুন’, সেহেতু এ বিষয়ে সরকারের ‘উচ্চপর্যায় থেকে’ সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছেন বলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক এ বি এম খুরশীদ আলম এর আগে জানিয়েছিলেন।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি করা টিকার পরীক্ষা ও উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত হয়েছে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটি অফ ইন্ডিয়া (এসআইই)। দ্বিতীয় ধাপ থেকেই কোভিশিল্ড নামের ওই টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করে যাচ্ছে দেশটির সবচেয়ে বড় ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারী এই সংস্থা।

এরই মধ্যে মঙ্গলবার আকস্মিক সফরে বাংলাদেশে আসেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব শ্রিংলা। তার সঙ্গে বুধবারের বৈঠকে আনুষ্ঠানিকভাবে টিকার পরীক্ষায় বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণের প্রস্তাব দেন মাসুদ বিন মোমেন।

পরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “কোভিড নিয়ন্ত্রণে ভারতের যে প্রচেষ্টা চলছে, আমরা জানি যে কিছু ভ্যাকসিন সেখানে ডেভেলপ করছে এবং ট্রায়ালও শুরু হয়ে গেছে। আমরা অফার করেছি যদি সহযোগিতার প্রয়োজন হয়, ট্রায়ালের ক্ষেত্রে, তাহলে আমরা প্রস্তুত আছি।”

-জেডসি