ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৯, জানুয়ারি ২০২৬ ০:১৫:২২ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
সারা দেশে অবাধে শিকার ও বিক্রি হচ্ছে শীতের পাখি ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপে এখন পর্যন্ত ১৩ লাখ নিবন্ধন নারী, সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা বিষয়ে ১০ দফা সুপারিশ প্রধান উপদেষ্টার কাছে কর কাঠামো পুনর্বিন্যাসের সুপারিশ ইরানের পরিস্থিতি খারাপ হলে কঠোর হবে তুরস্ক

যুক্তরাজ্যে কন্যাভ্রূণ হত্যায় গর্ভপাতের নতুন রেকর্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১২:৫২ পিএম, ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ রবিবার

প্রতীকী ছবি।

প্রতীকী ছবি।

যুক্তরাজ্যে বসবাসরত ভারতীয় পরিবারগুলোর মধ্যে ছেলে সন্তানের প্রতি প্রবল পক্ষপাতের কারণে রেকর্ড সংখ্যক কন্যাভ্রূণ গর্ভপাতের ঘটনা ঘটেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেলের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত চার বছরে শত শত গর্ভধারণ কেবল ভ্রূণের লিঙ্গের কারণে বাতিল করা হয়েছে। যদিও যুক্তরাজ্যের সরকারি নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে বলা আছে, লিঙ্গের কারণে গর্ভপাত আইনবিরোধী।

অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিসটিকসের তথ্যানুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ভারতীয় মায়েদের ক্ষেত্রে প্রতি ১০০ কন্যাশিশুর বিপরীতে জন্ম নিয়েছে গড়ে ১১৮ জন পুত্রসন্তান। যেখানে সব জাতিগোষ্ঠী মিলিয়ে জাতীয় গড় হলো প্রতি ১০০ কন্যাশিশুর বিপরীতে ১০৫ জন পুত্রসন্তান, সরকারের নির্ধারিত সর্বোচ্চ গ্রহণযোগ্য সীমা ১০৭। 

পরিসংখ্যানবিদদের মতে, এই সীমার ঊর্ধ্বে জন্মহার থাকলে তা লিঙ্গভিত্তিক গর্ভপাত বা লিঙ্গনির্বাচনী চিকিৎসার ইঙ্গিত দেয়।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ভারতীয় নারীদের প্রথম ও দ্বিতীয় সন্তানের ক্ষেত্রে জন্মহার জাতীয় গড়ের সঙ্গে মিল রয়েছে। তবে তৃতীয় সন্তানের ক্ষেত্রে ভারসাম্য মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত। ২০২১-২২ অর্থবছরে তৃতীয় সন্তানের ক্ষেত্রে অনুপাত ছিল ১১৪ ছেলে বনাম ১০০ মেয়ে। পরবর্তী বছর তা কিছুটা কমে ১০৯ হলেও ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আবার বেড়ে দাঁড়ায় ১১৮ এবং পরের বছরও একই মাত্রায় থাকে। 

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দুই কন্যাসন্তানের পর তৃতীয়বার কন্যা হলে ছেলে সন্তানের সামাজিক ও পারিবারিক চাপের কারণে অনেক ভারতীয় মা গর্ভপাত করাতে বাধ্য হচ্ছেন।

গৃহসহিংসতা প্রতিরোধে কাজ করা সংস্থা জিনা ইন্টারন্যাশনালের প্রতিষ্ঠাতা রানি বিলখু বলেন, এই তথ্য স্পষ্টভাবে দেখাচ্ছে কন্যাসন্তানের তুলনায় পুত্রসন্তানকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। স্বামী বা পরিবারের চাপেই অনেক নারী কন্যাভ্রূণ নষ্ট করতে বাধ্য হচ্ছেন। আবার অনেক নারী নিজেও এমন মানসিকতায় বড় হয়েছেন যে, ছেলে সন্তানের মূল্য বেশি, কারণ তারা বংশের নাম বহন করে। 

তিনি বলেন, এটি শুধু গর্ভপাতের বিষয় নয়, এটি লিঙ্গসমতার একটি গভীর সংকট।

যুক্তরাজ্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আগের এক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০১৭ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে ভারতীয় সম্প্রদায়ের তৃতীয় সন্তানের ক্ষেত্রে জন্ম অনুপাত ছিল ১১৩ ছেলে বনাম ১০০ মেয়ে, যা আনুমানিক ৪০০ কন্যাভ্রূণ গর্ভপাতের সমান। তবে বাংলাদেশি ও পাকিস্তানি মায়েদের ক্ষেত্রে এমন কোনও লিঙ্গভিত্তিক ভারসাম্যহীনতা পাওয়া যায়নি। তাদের জন্মহার জাতীয় গড়ের কাছাকাছি ছিল।

যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কেবল ভ্রূণের লিঙ্গের ভিত্তিতে গর্ভপাত করা বেআইনি এবং এটি গর্ভপাত আইনের আওতায় কোনো বৈধ কারণ নয়। তবে ক্রাইম অ্যান্ড পুলিশিং বিলের আওতায় গর্ভপাত অপরাধমুক্ত করার প্রস্তাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। 

সমালোচকেরা আশঙ্কা করছেন, এতে লিঙ্গভিত্তিক গর্ভপাত আরও বেড়ে যেতে পারে। এ কারণে কনজারভেটিভ পার্টির লর্ড ব্যারোনেস ইটন বিলটিতে সংশোধনী এনে লিঙ্গনির্বাচনী গর্ভপাত স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছেন। 

তথ্যসূত্র : ডেইলি মেইল, কেয়ার ইউকে, হিন্দুস্তান টাইমস