ঢাকা, সোমবার ২৩, ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ৪:৩৯:৩৬ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
রাইজিং স্টার্স নারী এশিয়া কাপ: ফাইনালে হার বাংলাদেশ ‘এ’ দলের থার্ড টার্মিনাল দ্রুত চালুর উদ্যোগ, বললেন বিমানমন্ত্রী বিএনপির সাবেক মন্ত্রী সেলিমা রহমান সিসিইউতে রাষ্ট্রপতি ও স্পিকার পদে কারা আলোচনায় রোজায় বাড়তি খরচ, হিমশিম খাচ্ছে নিম্নআয়ের মানুষ

রমজানে ফলের দামে লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি, নজরদারী নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১১:১০ এএম, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ রবিবার

ছবি: সংগ্রহিত।

ছবি: সংগ্রহিত।

রমজান মাস শুরু হতে না হতেই রাজধানীর ফলের বাজারে উত্তাপ ছড়িয়েছে। রোজার আগে যে ফল সাধারণ মানুষের নাগালে ছিল, চাহিদাকে পুঁজি করে মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে তার দাম বেড়েছে কয়েক গুণ। খুচরা বাজারে ইফতারের প্রধান উপকরণ খেজুর থেকে শুরু করে আঙুর, আনার বা আপেল– সবকিছুর দামই এখন আকাশচুম্বী।
 
ক্রেতাদের অভিযোগ, প্রতিবারের মতো এবারও ফলের বাড়তি চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে অতি মুনাফা লুটছেন ব্যবসায়ীরা। আজ রোববার সকালে রাজধানীর খিলগাঁও তালতলা বাজার ও আশপাশের এলাকা ঘুরে এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র দেখা গেছে। সকাল হওয়ায় বাজারে ভিড় কম থাকলেও যারা ফল কিনতে এসেছেন, দাম শুনে তাদের অনেকের মধ্যেই বিস্ময় ও ক্ষোভ দেখা গেছে।

বাজারে সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে মেডজুল খেজুর, যার প্রতি কেজির দাম ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা। এ ছাড়া মরিয়ম খেজুর ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ২৫০ টাকা, কালমী ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা, সুকারী ৮০০ টাকা এবং মিনিফী খেজুর ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। খেজুরের পরেই দামের দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে আনার; মানভেদে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৬২০ টাকায়। কালো আঙুর ৬০০ টাকা এবং সবুজ আঙুর ৪৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

এ ছাড়া গ্রিন আপেল ও ড্রাগন ফল ৪২০ টাকা, ফুজি আপেল ও নাশপাতি ৪০০ টাকা এবং কমলা ৩৬০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মালটা বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকা কেজি দরে। তুলনামূলক কম দামের ফলের তালিকায় থাকা পেঁপে ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা, বরই ১২০ থেকে ১৬০ টাকা, পেয়ারা ১২০ থেকে ১৫০ টাকা এবং বেল ১২০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

দেশি ফলের সরবরাহ থাকলেও রমজান উপলক্ষ্যে এগুলোর দামও আগের তুলনায় বেড়েছে বলে জানান ক্রেতারা। এ ছাড়া ডজনপ্রতি সবরী ও সাগর কলা ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা এবং চম্পা কলা ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে আসা শাহনাজ আসমা বেগম নামের এক ক্রেতা বলেন, ‘এই মাসের শুরুতে গ্রিন আপেল কিনেছি ৩২০ টাকায়, আজ চাচ্ছে ৪২০ টাকা। রোজা আসলে ব্যবসায়ীরা সব সময় এমন করে। মনে হয় রোজার মাসে এসব ফল অন্য কোথাও থেকে আমদানি করা হয়।’

সাব্বির হোসেন নামে এক ক্রেতা জানান, মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে সবুজ আঙুরের দাম ৩৩০ টাকা থেকে বেড়ে ৪৬০ টাকা হওয়া সাধারণ মানুষের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর। 

দামের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে তালতলা মার্কেটের ফল ব্যবসায়ী আব্দুর জালিল জানান, তারা বাদামতলী পাইকারি আড়ত থেকে ফল কেনেন। সেখানে একেক সময় একেক দামে ফল কিনতে হয়। তিনি বলেন, পাইকারিতে যেমন দামে কিনি, সীমিত লাভে তেমন দামেই বিক্রি করি। অনেক সময় ফলের নিচে নষ্ট বের হয়, সেই লোকসানও আমাদের গুনতে হয়।

অন্য বিক্রেতারা জানান, আমদানি খরচ বৃদ্ধি এবং রমজানে বাড়তি চাহিদাই মূলত খুচরা বাজারে প্রভাব ফেলেছে। কাঁচাপণ্য বিক্রি করা খুব কঠিন। একেক দিন একেক দাম থাকে। আর মানুষভাবে আমরা মানুষকে ঠকাই।