ঢাকা, শনিবার ২৮, ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ৪:৪০:৪০ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
দ্বিতীয় দিনে বইমেলায় ভিড় নেই, কাজ চলছে স্টলে স্টলে ধানমন্ডিতে ঝটিকা মিছিল, মহিলা আ. লীগের সাত নেতাকর্মী গ্রেফতার ছুটির দিনে জমজমাট রাজধানীর ঈদের বাজার ইলিশ উৎপাদন বাড়াতে দুই মাস নদীতে মাছ ধরা নিষেধ রাজধানীসহ দেশের নানা স্থানে ফের ভূমিকম্প অনুভূত

রমজানে লেবু-শসায় আগুন, ইফতারসামগ্রীর বাজারে চাপ

অনু সরকার | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১১:৩১ এএম, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ শুক্রবার

ছবি: সংগ্রহিত।

ছবি: সংগ্রহিত।

রমজান মাসকে ঘিরে রাজধানীর খুচরা বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে মিশ্র চিত্র দেখা গেছে। রোজার শুরু থেকেই ইফতারকেন্দ্রিক পণ্যের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় লেবু, শসা, খিরা, বেগুন ও কাঁচা মরিচের মতো পণ্যের দাম তুলনামূলক বেশি রয়েছে। অন্যদিকে পেঁয়াজ, আলু ও কয়েকটি সবজির দামে কিছুটা স্থিতিশীলতা লক্ষ্য করা গেছে।

সপ্তাহজুড়ে রাজধানীর কারওয়ান বাজার, রামপুরা, মালিবাগ, খিলগাঁও ও মোহাম্মদপুর এলাকার বাজার ঘুরে দেখা যায়, রমজানে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত লেবু ও শসাই এখন ক্রেতাদের দুশ্চিন্তার বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

লেবু-শসায় ঝাঁজ

বাজারে প্রতি হালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৮০ টাকায়। আকার ও মানভেদে কোনো কোনো বাজারে লেবুর দাম ১০০ টাকা পর্যন্ত হাঁকছেন বিক্রেতারা। শসা ও খিরা বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। বেগুনের দাম ৮০ থেকে ১২০ টাকা কেজি, কাঁচা মরিচ ৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

রমজানে ইফতারে শরবত, সালাদ ও ফলের সঙ্গে লেবুর ব্যবহার বাড়ে। একই সঙ্গে শসা ও খিরার চাহিদাও কয়েকগুণ বেড়ে যায়। ফলে এসব পণ্যের দাম স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় দ্রুত বাড়ছে।

অন্যান্য সবজি ও নিত্যপণ্য

পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। আলু ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজিতে পাওয়া যাচ্ছে। টমেটো ৩০ থেকে ৪০ টাকা, করলা ৭০ থেকে ৯০ টাকা এবং ঢেঁড়স ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

মাংস ও ডিমের বাজার মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে। বয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৫৫০ থেকে ৬৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। ডিম (বাদামি) ডজনপ্রতি ১১০ থেকে ১১৫ টাকা। মাছের বাজারে বড় ইলিশের দাম কেজিপ্রতি ১ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত উঠছে।

রোজার পণ্যে আলাদা চাপ

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রমজান মাসে কিছু পণ্যের ওপর আলাদা চাপ পড়ে। এর মধ্যে রয়েছে—

লেবু

শসা ও খিরা

বেগুন

কাঁচা মরিচ

ছোলা, খেজুর ও মসলা জাতীয় পণ্য। ইফতার সামগ্রী হিসেবে এসব পণ্যের ব্যবহার বেশি হওয়ায় রমজান এলেই দাম বাড়তে শুরু করে।

ক্রেতাদের অভিযোগ

মালিবাগ বাজারে কেনাকাটা করতে আসা গৃহিণী রুবাইয়া আক্তার বলেন, “রমজান মানেই বাজার খরচ বেড়ে যায়। লেবু আর শসা ছাড়া ইফতার হয় না। কিন্তু প্রতিদিন কিনতে গিয়ে দেখছি, দাম খুব বেশি। আগে ২০ টাকায় যে লেবু পাওয়া যেত, এখন তার দ্বিগুণ দাম দিতে হচ্ছে।”

আরেক ক্রেতা হাসান আলী বলেন, “সবজির দাম এমনিতেই বেশি। তার ওপর রোজার বাজার। কয়েকটা জিনিস কিনতেই ৫০০-৬০০ টাকা চলে যাচ্ছে। সাধারণ আয়ের মানুষের জন্য বাজার করা কঠিন হয়ে পড়েছে।”

একজন চাকরিজীবী নারী বলেন, “রমজানে আয় তো বাড়ে না, কিন্তু খরচ বেড়ে যায়। বাজারে এলেই মনে হয় সবকিছুর দাম একসঙ্গে বেড়েছে।”

বিক্রেতাদের যুক্তি

বিক্রেতারা অবশ্য দাম বাড়ার পেছনে সরবরাহ ও পরিবহন খরচের কথা বলছেন। কারওয়ান বাজারের এক বিক্রেতা মো. করিম বলেন, “এখন শসা আর লেবুর চাহিদা বেশি। কিন্তু সরবরাহ ঠিকমতো আসছে না। আড়তে দাম বেশি থাকলে আমাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হয়।”

রামপুরা বাজারের সবজি বিক্রেতা সোহেল বলেন, “রমজানে মানুষ বেশি কিনছে। আড়ত থেকে কিনতেই বেশি দাম পড়ছে। আমরা লাভ খুব বেশি করছি—এমন না। বাজারে এলেই মানুষ আমাদের দোষ দেয়।”

বাজার তদারকির দাবি

ভোক্তারা মনে করছেন, রমজানে বাজারে নজরদারি না থাকায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সুযোগ নিচ্ছেন। তাঁদের অভিযোগ, এক সপ্তাহের ব্যবধানে কোনো কোনো পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাচ্ছে।

ভোক্তা অধিকারকর্মী একাংশ বলছেন, “রমজানকে কেন্দ্র করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কিছু পণ্যের দাম বাড়ানো হয়। নিয়মিত বাজার তদারকি থাকলে এই প্রবণতা অনেকটাই কমানো সম্ভব।”

সব মিলিয়ে রমজানের শুরুতেই ইফতারসামগ্রীর বাজারে বাড়তি চাপ দেখা দিয়েছে। লেবু, শসা ও খিরার মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের জন্য বাড়তি বোঝা হয়ে উঠছে। যদিও কিছু সবজির দামে স্থিতিশীলতা রয়েছে, তবে রোজাকেন্দ্রিক পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।