ঢাকা, শনিবার ২১, ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ৪:৫৬:০৬ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
নারী ভাষা সৈনিকরা আজও অবহেলিত ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানালেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী অমর একুশে ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস আজ পাকিস্তানকে উড়িয়ে ফাইনালে বাঘিনীরা ২৬ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শহীদ দিবস ঘিরে দেশজুড়ে নিরাপত্তা বলয় টিসিবির ট্রাকসেলে ক্রেতার উপচে পড়া ভিড়

রাজধানীর ইফতার বাজার প্রথম দিনেই জমজমাট

অনু সরকার | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১২:২৯ পিএম, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ শুক্রবার

ছবি: সংগ্রহিত।

ছবি: সংগ্রহিত।

পবিত্র রমজানের প্রথম দিনেই জমে উঠেছে রাজধানীর ইফতার বাজার। গতকাল শুক্রবার ঘুরে দেখা গেছে, পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী চকবাজার, নিউ মার্কেট, বেইলী রোডসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ইফতারসামগ্রীর পসরা সাজিয়ে বসেছেন ব্যবসায়ীরা। বিকেল গড়াতেই এসব এলাকায় ক্রেতাদের ভিড় বাড়তে থাকে।

গতকাল রমজানের প্রথম দিন চকবাজারে দেখা গেছে সেই চিরচেনা দৃশ্য। চকবাজার জামে মসজিদের সামনের রাস্তার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তজুড়ে বসেছে বাহারি ইফতারির দোকান। কাবাব, কোফতা, রোস্ট, পরোটা, তন্দুরি, দই ভরা, ফুলুরি, পেঁয়াজু, বেগুনি, হালুয়া ও শরবতসহ শতাধিক পদের খাবারে ভরে উঠেছে বাজার। তবে এসব ইফতারির প্রতিটি পদের দাম গত বছরের তুলনায় বেশি বলে অভিযোগ করছেন ক্রেতারা।

রোজার প্রথম দিনেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ ছুটে এসেছেন চকবাজারে। জুমার নামাজের পর থেকেই সেখানে বাড়তে থাকে ভিড়। প্রচলিত ইফতারির পাশাপাশি নানা স্বাদের বাহারি আয়োজন সাজিয়ে বসেছেন ব্যবসায়ীরা। ঐতিহ্যবাহী ইফতার কিনতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে ক্রেতাদের।

চকবাজারের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হিসেবে এবারও রয়েছে ‘বড় বাপের পোলায় খায়, ঠোঙা ভইরা লইয়া যায়’ নামের বিশেষ ইফতারি। এই ইফতারি তৈরিতে ব্যবহার করা হয় গোশত, সুতি কাবাব, কিমা, ডাবলি, বুটের ডাল, ডিম, মগজ, আলু, ঘি, কাঁচা ও শুকনো মরিচসহ নানা উপকরণ ও মসলা। এ বছর এটি বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকায়। ক্রেতারা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে এই বিশেষ ইফতারি কিনে নিচ্ছেন।

অন্যদিকে রমজানের প্রথম দিনেই জমে উঠেছে রাজধানীর বেইলী রোড এলাকার ইফতার বাজারও। নতুন প্রজন্মের কাছে ফাস্টফুডের জন্য পরিচিত এই এলাকায় প্রতি বছরই রোজাকে ঘিরে বিশেষ ইফতারি আয়োজন করা হয়। করোনাকালে অনলাইনে অর্ডার দিয়ে ইফতার কিনলেও এবার অনেকেই সশরীরে উপস্থিত হয়ে পছন্দের খাবার কিনছেন। একই সঙ্গে অনলাইন অর্ডারও নিচ্ছে বেশ কয়েকটি দোকান।

বেইলী রোডে প্রচলিত ও বিশেষ ইফতারির ব্যাপক কদর দেখা গেছে। এখানে ছোট জিলাপি বিক্রি হচ্ছে কেজি ২০০ টাকা ও বড় জিলাপি ৩০০ টাকায়। শিঙাড়া ও সমুচা ১৫ টাকা, চিকেন টোস্ট ৪৫ টাকা, চিকেন পরোটা ৫০ টাকা, বিফ পরোটা ৬০ টাকা, সাধারণ পরোটা ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বেগুনি, আলুর চপ, পেঁয়াজু ও ভেজিটেবল পাকোড়া বিক্রি হচ্ছে ৫ টাকা করে। ডিমচপ ২৫ টাকা, ঘুমনি কেজি ১০০ টাকা এবং ছোলা ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়া জালি কাবাব, সাসলিক ও টিকা কাবাব প্রতিটি ৫০ টাকা, চিকেন রোল ৬০ টাকা, আস্ত মুরগি ৩৫০ টাকা এবং পনির কেজি ৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পানীয় আইটেমের মধ্যে পেস্তা শরবত লিটারপ্রতি ২০০ টাকা, মাঠা ৮০ টাকা, বোরহানি ১২০ টাকা, ফালুদা বড় বাটি ২০০ টাকা ও ছোট বাটি ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দইবড়া বড়া বিক্রি হচ্ছে ২২০ টাকায়।

ইফতারির জনপ্রিয় আইটেম জিলাপির ক্ষেত্রেও দেখা গেছে বাড়তি চাহিদা। বিশেষ করে মৌচাক মার্কেট-এর শাহী জিলাপি কিনতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন অনেকে। বনানী থেকে আসা আমজাদ হোসেন বলেন, মৌচাকের শাহী জিলাপির স্বাদ অন্য জায়গার তুলনায় আলাদা। প্রতিবছরই সুযোগ পেলে এখান থেকে জিলাপি কিনে নেন তিনি। তবে এবার দাম কিছুটা বেশি। গত বছর যেখানে কেজি ২২০ টাকায় জিলাপি পাওয়া যেত, এবার তা ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ইফতার সামগ্রীর দাম যেভাবে বেড়েছে, তাতে নিম্ন আয়ের মানুষের পক্ষে স্বাভাবিকভাবে ইফতার করা কঠিন হয়ে পড়বে। গত বছর যে খেজুর কেজি ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল, এবার তা ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়া রাজধানীর অলিগলিতেও ইফতারসামগ্রীর দোকান বসেছে। প্রতিটি হোটেলের সামনেই সামিয়ানা টানিয়ে বিক্রি হচ্ছে ছোলা, মুড়ি, পেঁয়াজু ও বেগুনির মতো প্রচলিত ইফতারি। অনেক হোটেলে এসবের পাশাপাশি হালিম ও কাবাবও বিক্রি হচ্ছে।

মগবাজার এলাকার উজ্জ্বল হোটেল-এর হালিম অনেকের কাছে জনপ্রিয়। তবে এ বছর গোশত ও ডালের দাম বাড়ায় হালিমের দামও বেড়েছে। গত বছর যেখানে এক বাটি হালিম ১০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, এবার তা ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর যে হাঁড়ি ৩০০ টাকায় পাওয়া যেত, সেটির দাম এবার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০০ টাকা।

রমজানের প্রথম দিনেই রাজধানীর ইফতার বাজারে এমন ভিড় ও দাম বৃদ্ধির চিত্র দেখা গেলেও ক্রেতারা বলছেন, ঐতিহ্য ও স্বাদের টানে তাঁরা প্রতিবছরই এসব বাজারে ছুটে আসেন। তবে বাড়তি দাম তাঁদের জন্য নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।